বাংলাদেশের নারীদের জন্য মাননীয় সরকার আদর-আহ্লাদ করে পিংক বাস সার্ভিস নামিয়েছেন। যে বাসে যাতায়াত করবে শুধুমাত্র মেয়েরা। এমনকি বাসের ড্রাইভার থেকে শুরু করে হেল্পারও একজন মেয়ে। এমন একটা উদ্যোগে চোখে পানি এসেছে অনেকেরই। কিন্তু মারিয়া নামের একজন যাত্রী জানালেন ভিন্ন মতামত।
মারিয়ার সঙ্গে এক গোপন ও অসত্য ইন্টারভিউতে জানা গিয়েছে, পাশে চ্যাগাইয়া বসার মতো একজন পুরুষ যাত্রী নাই। হুট করে এই আনন্দ মেনে নিতে পারছেন না তিনি। বারবার স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে মারিয়া জানালেন, তিনি প্রায় ৮ বছর ধরে বাসে যাতায়াত করছেন। ভার্সিটি-বাসা-অফিস-আড্ডা সব জায়গায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম বাস। ফলে ভাঙাচোরা পাবলিক বাসে সিগারেটের বিকট গন্ধ নিয়ে একজন মাঝবয়সী আঙ্কেল উঠে এসে তার পাশে বসবেন, এটাই তার জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
হুট করে পিংক বাসে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় কিছুটা শাবানা সিচুয়েশনে পড়ে গেছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরপরই বাসের মধ্যে বলে উঠছেন, এত সুখ কী আমার কপালে সইবে!
এক ভুয়া সাক্ষাৎকারে মারিয়া আরও বলেন, আমি ৮ বছর ধরে বাসে যাতায়াত করি। ভাঙাচোরা পাবলিক বাসে সিগারেটের বিকট গন্ধ নিয়ে মাঝবয়সী আঙ্কেল এসে আমার পাশে বসবে। দুটো সিটকেই তার মনে করে চ্যাগায়া বসবে। শরীরটা যথাসম্ভব আমার দিকে এলিয়ে দিয়ে তার সিগারেটের ধোঁয়া দিয়ে আমার ফুসফুসের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা শুরু করবে। কিছু বললে খ্যাঁক করে উঠবে। এই জিনিস আমার প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেছে। এটা নেশা, বিরাট নেশা! হুট করে পিংক বাসে এমন আপদ না থাকায় আমার মধ্যে উইথড্রয়াল সিন্ড্রোম দেখা দিচ্ছে।
মারিয়া ছাড়াও আরও কিছু নারী এমন বিষণ্ণতার কথা জানান। একজন বলেন, যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসতে পারি। কেউ বলে না, মহিলা সিটে গিয়ে বসেন। পুরুষ সিটে কী? আমরা কী এমন জীবন চেয়েছিলাম!


