ভয়!
চিৎকার!
আতংক!
এই ক্রিয়াগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বলি হল একটা নিরপরাধ প্রাণ।
গ্রামের নাম লাঠি। নাম শুনলেই শিরদাঁড়াটা একটু চকিত হয়ে বসে। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার এই গ্রামে ১৮ আগস্ট তখন প্রায় বেলা সাড়ে এগারোটা। একটি মেছোবাঘ বা মেছোবিড়াল হয়তো কোনভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল। বেচারা বোধহয় জানতো না জঙ্গলের বাইরে রয়েছে এক মহাজঙ্গল। মেছোবাঘের উপস্থিতি টের পেয়ে সেই মহাজঙ্গলের দোপেয়ে দৈত্যরা হয়ে উঠেছিল রাক্ষসের মত ভয়ংকর! চতুষ্পদ হলেও কবরের মত চিরনিদ্রায়, চিরতরে শুয়ে থাকার জায়গাকে নিরাপদ ভেবে নিয়েছিল ওর পশুস্বত্ত্বা।
কিন্তু কবরও ওকে রক্ষা করতে পারেনি। দৈত্য গুলো মানুষের রূপ ধরে ওকে খুঁজে বের করে। তারপর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। শুধু তা-ই নয়, এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা; বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মেছোবিড়াল তার জীবদ্দশায় শুধুমাত্র ইঁদুর খেয়ে কৃষকের লক্ষাধিক টাকার ফসল রক্ষা করতে পারে। জলাভূমির মরা ও অসুস্থ মাছ, অন্যান্য ছোট প্রাণী খেয়ে পানি ও চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে। ব্যাঙ, কাঁকড়া ও ছোট প্রাণীদের সংখ্যা প্রাকৃতিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রেখে খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে একসময় সর্বত্র এদের বিচরণ থাকলেও এখন হাওড় অঞ্চলগুলোতে এদের আধিক্য বেশি।
মেছোবিড়ালের সাথে মানুষের শত্রুতা কীভাবে উত্তোরোত্তর বাড়ছে? কেন বাড়ছে কখনো কি ভেবেছি?
শান্ত ও লাজুক স্বভাবের নিরীহ এই বুনো বিড়াল প্রজাতিকে ‘মেছোবাঘ’ পরিচয় করিয়ে দেয়াটাই কি তবে সে অদৃশ্য দূরত্বের হাতিয়ার?
২০২৩ সালে সিলেটে একটি পুরুষ মেছো বিড়ালের গলায় স্যাটেলাইট কলার বসিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল প্রাণীটির গতিবিধি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানার জন্য। কিন্তু মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে বিড়ালটিকে হত্যা করেন এক কৃষক। বন বিভাগের নড়চড় এরপর আর তেমন দৃষ্টিগোচর হয়নি। (সূত্র: কালবেলা)
২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইন বলে মেছোবিড়াল হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আইন অনুযায়ী এখন অব্দি কোন দৃষ্টান্ত কি আমাদের নজরে এসেছে? মনে পড়ে না।
এ ব্যাপারে সাধারণ জনগনকে সচেতন করার দায়িত্ব কাউকে না কাউকে নিয়ে হবে। মেছো বিড়ালের প্রতি মানুষের যে সহানুভূতি, ‘বাঘ’ অনুসর্গে কি তা আসে?
আর এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি করা মানুষের মধ্যে মানবিকতার আশা আমরা ছেড়ে দিয়েছি। এদের বিপরীতে একটু কঠোরতার আশা কি করতে পারিনা?



পাঠকের মন্তব্য