মাম, আর ইউ সিওর দিস ওয়াটার স্যানিটারি? ইট লুকস কোয়েশ্চেনেবল টু মি! হোয়াট এবাউট ব্যাকটেরিয়া?
একটা গোলু-মোলু সুন্দর লাল ছানা হাতি। মায়ের কাছে যেতে চাচ্ছে সে। কিন্তু মা হাটুপানিতে দাঁড়িয়ে অন্যদের সাথে গসিপে ব্যস্ত!
ছানা হাতিটার নাম ট্যান্টর। সে পানি খুবই অপছন্দ করে। কিন্তু মায়ের সাথে লেগে থাকতে হলে পানিতেই যেতে হবে। মায়ের আবার পানিটা খুবই পছন্দ। কি আর করা? নামতেই হল পানিতে। নাকমুখ কুচকে ইয়াক ইয়াক করতে করতে সে মায়ের কাছে পৌঁছাতে লাগল। কিন্তু হঠাৎ তার চোখে পড়ল ছোট সাইজের মাছের মত কি যেন সাতরে যাচ্ছে! ভয়ে ট্যান্টরের আত্মা উড়ে গেল। সে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠল,
পিরানহা! পিরানহা!
ব্যস, মুহুর্তের মধ্যে বিশাল হাতিগুলোর ভীত দাপাদাপিতে জায়গাটা নরক হয়ে গেল! এত সবকিছুর মধ্যে ট্যান্টরই খেয়াল করল, পিরানহাটা আসলে পিরানহা নয়, একটা মানুষের বাচ্চা! টারজান!
আমি বলছিলাম ১৯৯৯ সালে ডিজনির বিখ্যাত অ্যানিমেশন মুভি ‘টারজানের’ কথা।
টারজান! শুধু এই নামটি অনেক কথা একসাথে বলে দেয়। জেনারেশনের পর জেনারেশন ধরে কাচ্চা-বাচ্চা, বুড়ো-বুড়ি, ছেলে-ছোকরা সবাই কমবেশি এই নামটি জানে।
কিন্তু মজার একটা ব্যাপার! বেশিরভাগ মানুষই ভাবত টারজান কোন পুরোনো ফেইরিটেল থেকে বানানো মুভি! সিন্ডারেলা, স্নো হোয়াইট টাইপ আরকি!
আই বেট, খুব কম মানুষই জানেন যে
টারজান আসলে উপন্যাস সিরিজ ছিল। তারমানে এটার একজন লেখক ছিলেন! কেউ কি জানেন টারজানের লেখকের নাম কি ছিল?
টারজানের জন্মদাতার নাম- এডগার রাইস বারোজ. মার্কিন মুলুকে জন্ম তার। একজন মানুষ যিনি নিজের জীবনের পয়ত্রিশটি বছর পর্যন্ত ছিলেন এক আগাগোড়া ফেইলিওর!
লেখক হওয়ার আগে তিনি মার্কিন ক্যাভালরি সেনাসদস্য, আইডাহোর সোনা সংগ্রাহক, কাউবয়, রেলরোড পুলিশ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পেন্সিল শার্পনার বিক্রেতাও হয়েছেন। কিন্তু ব্যর্থতা পিছু ছাড়েনি। ছাড়বেও বা কেন? তার ব্লকবাস্টার হিট হবার ক্ষেত্র যে আরেক জায়গায়!
বারোজ একদিন একটা পত্রিকা পড়ছেন- কোনো গল্প হবে! পড়তে পড়তে রেগে গিয়ে ভাবলেন, এত বাজে লেখা যদি মানুষ টাকা খরচ করে কিনে পড়তে পারে, তবে আমিও এর চেয়ে বাজে লেখা লিখেও বিক্রি করতে পারব!
ফাইনালি, সব ছেড়ে-ছুড়ে তিনি ১৯১২ সালে তার প্রথম উপন্যাস লেখেন- আন্ডার দ্য মুনস অব মার্স। পরে এর নাম হয় ‘আ প্রিন্সেস অব মার্স’। এই শুরু হল তার লেখা। সাথে শুরু হল সফলতার মুখ দেখা!
এরপর ৮০টি উপন্যাস লিখেছেন তিনি, ছোটগল্প তো আছেই। আর টারজান লিখে তো এমন অবস্থা হল যে তাকে কেউ চিনুক না চিনুক, চরিত্রটিকে সবাই চেনে! তাও প্রজন্মের পর প্রজন্ম!
এই ১৯১২ সালেই তিনি সর্বপ্রথম টারজান চরিত্রটি সবার সামনে নিয়ে আসেন। এটা কিন্তু তার লেখা প্রথম বই নয়। তার আরো অনেক বিখ্যাত বই আছে। জন কার্টার সিরিজ, পেলুসাইডার সিরিজ, ভেনাস সিরিজ। কিন্তু টারজান সিরিজ তার চেরি অন দ্য টপ!
বারোজ মোট ২৪ টি অফিসিয়াল উপন্যাস লিখেছেন টারজানকে নিয়ে। প্রথম বইটা ছিল- টারজান অব দ্য এপস। এছাড়াও কিছু আনঅফিসিয়াল পান্ডুলিপি ছিল। বারোজ টারজান বইয়ে এপ বা গরিলাদের মুখেও ভাষা দিয়েছিলেন। কাল্পনিক এই ভাষাটির নাম- মাংগানি। এই ভাষায় টারজান শব্দের অর্থ ‘সাদা চামড়া'।
সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার বানানো ছবির চরিত্রগুলোর মধ্যে টারজান অন্যতম। সারাবিশ্বে ২০০টিরও বেশি সিনেমা ও টিভি সিরিজ বানানো হয়েছে টারজানকে কেন্দ্র করে! সেই নির্বাক মুভির যুগে প্রথম ১৯১৮ সালে প্রথমবার মুভি বানানো হয় টারজানের। এরপর থেকে এই জার্নির আর শেষ হয়নি। চলছেই! সর্বশেষ বানানো হয়েছে ২০১৬ সালে।
তাছাড়া টিভি শো, রেডিও শো, কমিকস, স্ট্রিপ কোথায় নেই টারজান? যেখানে সে গেছে সেখানেই সে আইকনিক মর্যাদা পেয়েছে!
মজার কথা হচ্ছে, কাল্পনিক চরিত্র টারজানের নামে একটা আস্ত বাস্তবের শহর রয়েছে, ‘টারজানা’ নামে! ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে আছে শহরটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোটে এই নামকরন হয়!
টারজান প্রকাশের কিছুদিন পর থেকেই আর শুধু গল্পের বই থাকেনি, হয়ে গেছিলো এক গ্লোবাল ব্র্যান্ড! তিনিই প্রথম লেখক যিনি নিজ সাহিত্যিক ক্যারেক্টারকে ব্র্যান্ডিং ও লাইসেন্সিংকে একটি করপোরেশনের রূপ দেন। এই পপ কালচারের সাথে সাথে তাকে আধুনিক কল্পবিজ্ঞানেরও গুরু বল৷ হয়!
আজ এই টারজানের জন্মদাতার জন্মবার্ষিকী। আমাদের এবং আরো আরো প্রজন্মের ছোটবেলাটাকে ফ্যান্টাসির রঙয়ে রাঙিয়ে দেবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ!



পাঠকের মন্তব্য