AI ধারাবাহিক নাটক রিভিউ গুণ্ডার বউয়ের নতুন সংসার

৩০৫ পঠিত ... ২৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে

স্পয়লার অ্যালার্ট!

এই ড্রামার নায়িকা নোরা। চেহারা খুব সুন্দর। মুখে একটা ব্রণও নেই। কিন্তু সে একটু মোটা। আর মোটা হওয়ার অপরাধে স্বামীর আর তাকে ভালো লাগে না। ফলে নোরাকে ডিভোর্স দিয়ে বের করে দেয়।

এদিকে ঝড়-বৃষ্টির রাতে নোরা ‘সৎ মা চাই’ বিজ্ঞাপন দেখে হাজির হয়ে যায় বিজ্ঞাপনের ঠিকানায়। নোরা জানত না, বিজ্ঞাপন যে দিয়েছে সে একজন বড় গুন্ডা, এলাকার ত্রাস! তবে গুন্ডা হলেও বেশ ইয়াং এবং হ্যান্ডসাম। নাম লুকা।

লুকা নোরার একটা ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ নিয়ে চুক্তিতে বিয়ে করে ফেলে। চুক্তির শর্ত দুইটা—

১. লুকার ছেলে লিওকে দেখে রাখতে হবে।
২. তিনতলায় যাওয়া যাবে না।

এরপর লুকা মারামারি করার জন্য বিদেশে চলে যায়। নোরার সঙ্গে লিওর বেশ ভালো সম্পর্ক হয়ে যায়। এদিকে নোরা ভাবে, ড্রামার নায়িকা হয়ে এত মোটা থাকা যায় না। শুকাতেই হবে। তাই শুরু হয় তার দৌড়াদৌড়ি। সে দৌড়ায়, হয়রান হয়, পানি খায়, আবার দৌড়ায়। লিও তাকে সাহস দেয়—

তুমি পারবে নোরা, তোমাকে পারতেই হবে!

ছেলেটার আদব-কায়দা তখনো ভালো শেখা হয়নি। মুরুব্বিদের নাম ধরে ডাকে।

দুই মাস পর লুকা ফিরে আসে। বিড়ি ধরাতে গিয়ে সামনে নোরাকে দেখে তার হাত থেকে বিড়ি পড়ে যায়। কারণ নোরা দুই মাসে এমন শুকিয়ে গেছে যে দর্শকও কিছুক্ষণ চিনতে পারে না। দর্শকের মন তখন একটু গান গান করে। কিন্তু নোরা-লুকা কল্পনায় গানও গায় না, নাচেও না। এটাই এই ড্রামার একটা বড় নেগেটিভ বৈশিষ্ট্য। আস্তে আস্তে লুকা নোরার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

পুরোনো সংসারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নোরার মনে ডিপ্রেশনের জন্ম দিয়েছিল। তাই যতই ভালো থাকুক, মনে মনে তার একটা ‘ভাল্লাগে না’ অবস্থা চলতেই থাকে।

লুকা এমনিতে গুন্ডা হলেও দিনশেষে নরম মনের মানুষ। অন্যান্য সিনেমার মতোই নোরা যতবার বিপদে পড়ে, লুকা ঠিক সময়ে হাজির হয়ে তাকে উদ্ধার করে। একসময় লুকা কনফেস করে—সে নোরাকে এবার অনুষ্ঠান করে, খাসি ছাড়াই, কেক কেটে বিয়ে করতে চায়। নোরা রাজি হয়। দুজনের ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায়।

কিন্তু নোরা আত্মসম্মানী মেয়ে। তাই সে লুকাকে জানায়, কোনো কোটা ছাড়া নিজের যোগ্যতায় চাকরি করবে। লুকা যতই গুন্ডা হোক, দিনশেষে সে একজন সাধারণ মানুষ। তাই রাজি হয়ে যায়। বউ নোরার আত্মসম্মান বজায় রাখতে লুকা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে।

কিন্তু এর মধ্যেই নেমে আসে এক মহাটুইস্ট।

লুকা নোরাকে জানায়—এটাই আমার প্রথম বিয়ে! লিও তার ছেলে নয়। তার বোনের ছেলে।

এরপর কোনো গান না গেয়েই একসময় লিও বড় হয়ে যায়। নোরার আরেকটা মেয়ে হয়। একইভাবে সেও বড় হয়ে যায়। কোনো ঠেলাগাড়ি ছাড়াই নোরা একসময় বিশাল এক প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে যায়। গল্প এগিয়ে যেতে থাকে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই ড্রামায় কোনো আইটেম সং নেই। ভুস! ভুস! ভুস!—শব্দে তিনবার ঘাড় বাঁকানোর সিন নেই। প্রবাদবাক্য ছুড়ে মারতে মারতে কেউ সংলাপও দেয় না। নায়ক পাঁচ মিনিট পরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে না,

এই পৃথিবীটা বড় নিষ্ঠুর!

তারপরও মানুষ এত আগ্রহ নিয়ে দেখছে।

এই নাটকে নোরার চরিত্রে নোরা, লুকা ও লিও চরিত্রে লুকা ও লিও অভিনয় করেছে।

গল্পে যখনই নতুন সমস্যা আসছে, দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে—এই হয়তো লুকা ইয়া ঢিসুমাইক বলে কাজী মারুফের মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে। লুকা কি পারবে এই দর্শক-প্রত্যাশা পূরণ করতে?

৩০৫ পঠিত ... ২৩ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top