একজন স্ত্রীর জন্য ব্যাপারটা এত সহজ না!

৫২৯ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

 

আমাদের দেশের এক লোক চাকরির সুবাদে টানা পাঁচ বছরের জন্য শ্রীলঙ্কায় গিয়ে থাকতে বাধ্য হলো, আর তার স্ত্রী বাংলাদেশেই রয়ে গেল।

বিদেশে যাওয়ার সময় স্বামী-স্ত্রী দুজন নিজেদের মধ্যে ওয়াদা করে নিল যে পাঁচ বছর দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, তারা একে অপরের প্রতি একদম খাঁটি থাকবে, কখনোই পরকীয়ায় জড়াবে না।

পাঁচ বছর পর স্বামী শ্রীলঙ্কার পাট চুকিয়ে দেশে ফিরল। অনেক দিন পর দেখা, দুজনের আনন্দের সীমা নেই। তবে কিছুক্ষণ পর ঘরের পরিবেশ একটু থমথমে হয়ে এল। মনের ভেতরে জমানো সেই আসল কথাটা তো তুলতে হবে। তারা কি সত্যিই নিজেদের কথা রাখতে পেরেছে?

স্বামী একটু ইতস্তত করে বলা শুরু করল, আমার লক্ষ্মী বউ! এই পাঁচটা বছর তোমাকে দেখার জন্য আমার মনটা ছটফট করত। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় গিয়েছি, আর সেখানকার মেয়েদের সৌন্দর্য যে কেমন, তা তো তোমার অচেনা নয়! তাই সত্যিটা আর চেপে রাখতে পারছি না। কয়েকবার সেখানকার সুন্দর মেয়েদের দেখে আমি সত্যি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, এমনকি তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কল্পনাতেও ডুবে গিয়েছিলাম।

স্ত্রী মিষ্টি হেসে বলল, আরে, এতে লজ্জিত হওয়ার কী আছে! তুমি তো জানোই, কত ভালো ভালো ছেলে আমার পেছনে ঘুরঘুর করত। তোমার অনুপস্থিতিতে আমার মনে কখনো এমন ভাবনা আসেনি বললে একদম মিথ্যা বলা হবে।

স্বামী মাথা নিচু করে বলল, কিন্তু বউ, আমি তো শুধু কল্পনার মধ্যেই থেমে থাকিনি। মাসে অন্তত একবার হলেও ক্যান্ডি বা কলম্বোর নাইটক্লাবে যেতাম আর কোনো শ্রীলঙ্কান মেয়ের সঙ্গে একটু-আধটু ফ্লার্ট করতাম।

তোমার ওপর আমি মোটেও রাগ করছি না, স্ত্রী সান্ত্বনা দিয়ে বলল, কারণ আমিও তো মাসে অন্তত একবার ধানমন্ডির কোনো ক্যাফেতে যেতাম আর কোনো ছেলের সঙ্গে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতাম।

স্বামী একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ওহ! শুধু তা-ই নয়, কয়েকবার তো ক্লাব থেকে মেয়েদের সোজা আমার ফ্ল্যাটেও নিয়ে এসেছি!

সব মাফ করে দিলাম, স্ত্রী আলতো করে স্বামীর হাত ধরে বলল, তুমি বিদেশে একা ছিলে। সত্যি বলতে, এতগুলো বছরে আমিও দু-একবার কোনো ছেলের কথায় গলে গিয়ে তাকে আমাদের এই বাসায় ডেকে এনেছিলাম।

স্বামীর গলা ধরে এল, নিজের অপরাধের কথা আর বইতে পারছি না! বেশ কয়েকবার পরিস্থিতি এমন দূর গড়ায় যে আমি আর সেই মেয়ে দুজনেই গায়ের জামাকাপড় খুলে ফেলেছিলাম। এমনকি আমি গিয়ে একেবারে তার ওপর শুয়েও পড়েছিলাম!

স্ত্রীও যেন সমবেদনায় কেঁদে ফেলল, তোমার অনুপস্থিতিতে কতবার যে আমিও একইভাবে আরেকটা ছেলেকে আমার ওপর শুতে দিয়েছি!

স্বামী তখন গর্বে বুক ফুলিয়ে বলল, কিন্তু শোনো! যেই না আমার শরীরের সঙ্গে সেই মেয়ের শরীর স্পর্শ করেছে, অমনি আমার মনে পড়ে গিয়েছে, না! আমি এ কাজ করতে পারি না! বাংলাদেশে আমার মিষ্টি বউ আমার পথ চেয়ে বসে আছে! তোমার কথা মনে হতেই আমি এক লাফে বিছানা থেকে নেমে গেলাম! পাপ কাজ থেকে দূরে, সেই মেয়ের কাছ থেকে লাফ দিয়ে সরে গিয়ে তাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বললাম!

স্ত্রী তখন স্বামীর দিকে তাকিয়ে একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, আমাদের দুজনের হিসাবটা একদম পরিষ্কার হওয়া দরকার, বুঝলে?

তুমি যখন ওপরে ছিলে, তখন লাফিয়ে সরে যাওয়াটা তোমার জন্য অনেক সহজ ছিল!

৫২৯ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top