ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে শরীফ ওসমান বিন হাদির সমাধির পাশে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে স্থানান্তরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কারণ, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি নন, তিনি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অন্যদিকে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকায় এসে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার সেই অবস্থানের বিরুদ্ধেই পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠে ভাষা আন্দোলন।
ফলে একই জায়গায় নজরুলের সমাধির পাশে জিন্নাহকে স্থান দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত একটি স্থানে এমন সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
অবশ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত আরেকটি সম্ভাবনা হলো, জিন্নাহকে জায়গা করে দিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নেওয়া। তবে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা আদৌ এমন কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ইতিহাসের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মিল না হলে এবার হয়তো ইতিহাসকেই একটু পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
সমাধি নিয়ে এই সম্ভাব্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হোক বা না হোক, ঘটনাটি একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাজনৈতিক বয়ান বদলালে কি ইতিহাসের প্রতীকগুলোর অবস্থানও বদলে যাবে?


