সম্প্রতি তৌহিদি জনতার আপত্তির মুখে একের পর এক কনসার্ট বাতিল হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর চিন্তা। দীর্ঘ মিটিং, চা-নাশতা এবং কয়েক দফা ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর অবশেষে তারা এমন এক সমাধান বের করেছেন, যা নাকি একই সঙ্গে সংস্কৃতি রক্ষা ও ভেন্যু সংকট, দুই সমস্যারই সমাধান করবে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আর কনসার্ট করার কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না। জেলার বাইরে একটি জায়গা নির্ধারণ করে সেটিকেই ঘোষণা করা হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘হোম ভেন্যু’।
আয়োজকদের যুক্তি, এতে স্থানীয় আপত্তিও থাকবে না, আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও থেমে থাকবে না। অর্থাৎ মাঠ অন্য জেলার, কিন্তু আবেগ শতভাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। এক কনসার্ট আয়োজক বলেন, দেখেন, হোম ভেন্যু মানে যে ভেন্যু নিজের জেলায় হতে হবে, এমন কোনো আন্তর্জাতিক আইন নেই। আমরা জেলার বাইরে করব, কিন্তু টিকিটে লিখে দেব ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া হোম ভেন্যু’। ব্যস, সমস্যার সমাধান।
তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান মডেলেই তো অনেক কিছু সম্ভব। সেখানে অনেক কিছু বন্ধ থাকলেও বাইরের জায়গাকে নানা ক্ষেত্রে নিজেদের হোম হিসেবে ব্যবহার করার নজির আছে। আমরা ভাবলাম, সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও একটু উদ্ভাবনী হওয়া যাক।
তবে সংস্কৃতিপ্রেমীদের এই প্রস্তাব এখানেই থেমে নেই। তারা বলছেন, শুধু কনসার্ট কেন, খেলাধুলার ক্ষেত্রেও একই মডেল চালু করা যেতে পারে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্রিকেট দল জেলার বাইরে খেলবে, কিন্তু স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া হোম ম্যাচ’। এমনকি ভবিষ্যতে জেলার সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অন্য জেলায় আয়োজন করে তার নাম দেওয়া হতে পারে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’।
এক সংস্কৃতিপ্রেমী বলেন, আমরা তো আর বেশি কিছু চাই না। শুধু গান শুনতে চাই, খেলা দেখতে চাই। যদি নিজের জেলায় সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য জেলার মাঠকেই নিজের বলে চালিয়ে দেব। পৃথিবীতে জায়গার অভাব নেই।
এদিকে সংস্কৃতিপ্রেমীরা আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন, যেহেতু কনসার্ট বাইরে হবে, তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নামেই একটি এক্সটেন্ডেড হোম জেলা ঘোষণা করা হোক। প্রয়োজনে একাধিক জেলার মাঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হোম ভেন্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে। তাদের দাবি, শুধু এক ক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে অনুসরণ করলে হবে কেন? সব ক্ষেত্রেই করতে হবে।


