জীবনকালের শেষ মুতন

১৯৫ পঠিত ... ১৫:৩৯, জুলাই ০৭, ২০২৬

দূর থিকা একটা বাইঞ্চোতমার্কা গর্জন ভাইসা আইলো। উহ এক্কেবারে পিশাচের মতোন ডাক!

আরাম কইরা হরিণের গর্দানডা খাওয়া শুরু করছিলাম, রুচি উইঠ্যা গেল। বয়স হইয়া গেছে দশ। তিনকাল গিয়া এককালে ঠেকছে। খামু, হাগমু, ঘুমামু। এহন কি এই গ্যাঞ্জাম ভাল্লাগে?

না, আমি হইতাছি সিংহ। পুরুষ সিংহ। আমার নাকি এইডি সাজে না। আমারে সীমানা পাহারা দিতে হইব, বড় বড় পশু মারনের সময় সাপোর্ট দিতে হইব, আটটা বউ পালতাছি, হেইডির লগে টাইমমতো মহব্বত করন লাগব। তার থিকা বড় কথা, সীমানার ভিত্রে যেই বাইঞ্চোত ব্যাডা সিংহ আইব, হেইডিরে বাইড়ায়া বিচি কান্ধে তুইল্যা দেওন লাগব!

উহ... ভাবতে ভাবতে হরিণের একটা ভাঙ্গা হাড্ডি গুঁতা দিছে হাতে। ছ্যাড়ছেড়াইয়া র*ক্ত পড়ন শুরু করছে! ক্যাঁত কইরা দিলাম লাত্থি মরা হরিণের পাছায়। ধামড়া বেজন্মাডা মইরাও জ্বালাইতাছে। মরবি যখন, কয়ডা দিন আগে মরতারলি না? ছাবড়া ছাবড়া গোস্তো, টান দিতে দিতে দাঁতের কথা বাদ, ঘিলু পর্যন্ত নড়তাছে।

কই গো... আমার নাগর! খাওন হইল?—পাশের থিকা আওয়াজ আইল।

আমি খাওনের দিকে নজর দিলাম আবার। ছুট্টো বউ। এইডার উপ্রে আমার হক আছে ভালামতোন। তিনবছর আগে এই জাগার মালিকের ঘাড়টা যখন মটকাইলাম, হালার তিন বউরে ভালামতোন মহব্বত কইরা পোষ মানাইলাম। আরেকটারে খুব চাইছিলাম, মহব্বতও করছিলাম জান দিয়া। শালীর বেটি পোষ মানে না। মরা জামাইয়ের লিগা দরদ! দিছি পোন্দে লাত্থি দিয়া খেদাইয়া। প্রেম করছি তো, জানে মারি নাই। তবে হ্যার বাচ্চাডারে রাইখ্যা দিছি। হেইডারেই বড় কইরা বিবি বানাইছি, ছুট্টো বিবি। বুইড়া হালার দুইডা বুইড়া বিবিও আছিল। দিছি ঘাড়ডা মটকাইয়া। আপদ পুইষ্যা লাভ কী?

ছুট্টো বিবি আইছে। গায়ে ঘেঁষটানি দিয়া কইল, হইছে খাওন আপনের? সব থিকা বড় হরিণডা মাইর‍্যা আনছি আপনের লিগা।

চুপ কর সুদানির ঝি। বুইড়া খাডাশ মাইর‍্যা আনছোস একটা! গোস্ত খাইতাছি নাকি গন্ডারের ছাল, বুঝতারছি না!

শালির কুডকুডানি আইজকা বেশি। গায়ে আরেকটু ঘ্যাঁষটানি দিয়া কইল, সুদানির ঝি আপনে আমারে কইতেই পারেন!

আমার মেজাজটা খারাপ হইল। অহন আমার মরণের বয়স। এইসব ঢঙ্গীপনা কি ভাল্লাগে? শখ না খুব? কচি বউ পালনের? খা শালা ঠাপানি!

একটু নেন না কোলে। অমন করেন ক্যান? থাকেন তো সারাডা দিন ওই বুইড়া মাগীগো আঁচলের তলে।

এমন মিজাজ খারাপ হইল! মুখটা খুলতে গিয়াও চুপ মাইরা গেলাম। বয়সকালে হইলে পুন্দে লাত্থি দিয়ে সীমানার থিকা বাইর কইরা দিতাম। অহন জোর কমছে। হয় ঠাস কইরা মইরা যামু গা। নাইলে আরেকটা জুয়ান বাঞ্চোত আইয়া আমার ঘাড় ভাংব। বুড়ি বিবিগুলিরে হয় খেদায়া দিব, নাইলে খাইয়া ফালাইব। আর এইডারে নিয়ে মউজ-মাস্তি করব।

আমি মুখ বাড়াইয়া ছুট্টো বউয়ের ঘাড়ে দুইটা চাটানি দিলাম।

ইহ... কুতকুতি লাগে। আপনে খুব ঢং করেন।

আমি ভুইলা গেলাম মরণের কথা, ভাইস্যা আসা পিশাচের লাহান গর্জনের কথা। আমার মনে অহন সুখ... শইল্লে সুখ... আহারে সুখ... সুখ...
...

কই গো... উডেন। মুতনের সময় অইছে আপনের।

মাইজ্যা বউ ডাইক্যা দিল। মুতন মানে চেঙ্গি দিয়া এক জায়গায় বইয়া ভাসাইয়া দেওন না। পুরুষ সিংহের মুতনের অনেক ঝকমারি। এই মুত দিয়া সীমানা ঠিক কইরা যাওন লাগে। পুরুষের মুতন একটা বিরাট দায়িত্ব। এক পুষ্কুনি পানি খাইতে হয়। তারপর হাঁটতে হাঁটতে মুততে হয় ছড়ছড়াইয়া...

আমি বাইর হইলাম। ছুট্টো বউরে একটা চাটানি দিয়া বাইর হইতে মন টানতাছিল। বুড়িগুলি ঠাট্টা মশকরা করব। কী দরকার এইডির?
...

গভীর রাইত অইছে। আমি গর্জন দিতাছি। মুততাছি। বনের রাজা অইলে এইডি করন লাগে। মুতের গন্ধ যদ্দূর যায়, অদ্দূরে আর কোনো সিংহ ঢুকতে নিষেধ! আগে এই গর্জন হুইন্যা গাছশুদ্ধা কাঁপত। অহন চেঙ্গি ইঁদুরও মনে অয় গা দুলাইয়া হাসতাছে।

চক্ষে কম দেহি, কিন্তু গন্ধ হুঁইক্কা কইতারি আশপাশে কী কী হইতাছে। অহন যেমন কইতারি, পিশাচের মতোন গর্জন দেওয়া দামড়া সিংহডা ঠিক আমার পিছনে আইয়া ঘাপটি মাইরা খাড়াইয়া আছে।

আমি জানি, এইডাই আমার জীবনকালের শেষ মুতন। চাইলে একটা শেষ গর্জনও দিতারি। কিন্তু মুখ দিয়া গর্জন বাইরাইলো না। সারাডা জীবন গর্জন দিয়া দিয়া জীবনের শেষ ডাকডা আইল একটা চিকন আহাজারি, ছুট্টো বউ... ও ছুট্টো বউ... আমি যাইতাছিগা গো...

১৯৫ পঠিত ... ১৫:৩৯, জুলাই ০৭, ২০২৬

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top