ব্রাজিলীয় ফুটবল দর্শনের প্রধান শত্রু যে এখন আর রক্ষণাত্মক ফুটবল বা ট্যাকটিক্যাল ভুল নয়, বরং ‘মাথার লম্বা চুল’ সেটি গত কালই প্রমাণিত হয়ে গেছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ১-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর দেশজুড়ে ব্রাজিল সমর্থকদের মাঝে এক অদ্ভুত লং হেয়ার ফোবিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে কিংবা সেলুনে লম্বা চুলের কোনো মানুষকে দেখলেই সেলেসাও ভক্তরা বুক চেপে ধরে, ‘হ্যাল্যান্ড আইলো রে!’ বলে চিৎকার দিয়ে উঠছেন। বাতাসে সোনালি কিংবা বাদামি রঙের চুল উড়তে দেখলেই ডিফেন্ডারদের মতো পিছু হটছেন তারা।
সেলুনগুলোতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, কোনো গ্রাহক এসে যদি ‘ভাইকিং কাট’ দিতে চান, তবে তাকে সরাসরি দোকান থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঘরের শান্তশিষ্ট বিড়ালটির পশম একটু বড় হয়ে গেলেও ব্রাজিল-সমর্থক গৃহকর্তা তাকে এরলিং হ্যাল্যান্ড ভেবে লাথি মারতে যাচ্ছেন, যেন বিড়ালটি এখনই ৭৯ মিনিটে একটি হেডার আর ৯০ মিনিটে দূরপাল্লার শট দিয়ে তার ড্রয়িংরুমের শান্তি ধূলিসাৎ করে দেবে।
পাড়ার যেসব বড় ভাই এত দিন শখ করে চুলে টপকাট বা বান (ঝুঁটি) বেঁধে ঘুরতেন, তাদের ওপর দিয়েই সবচেয়ে বড় ঝড় যাচ্ছে। ছোট ভাইয়েরা দল বেঁধে তাদের দেখলেই, ঐ যে নরওয়ের কাউন্টার অ্যাটাক আসে! বলে গালমন্দ করছে। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সেই ঐতিহাসিক বাণী, লম্বা চুল রাখলে গোল করার ক্ষমতা বাড়ে, এখন ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে এক নির্মম অভিশাপের নাম।
অবস্থা বেগতিক দেখে অনেক নিরীহ লম্বা চুলের মানুষ এখন নিজেদের জীবন ও সামাজিক সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়ে ন্যাড়া হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কারণ বর্তমান বাজারে হ্যাল্যান্ডের মতো দেখতে হওয়া মানেই যেকোনো ক্ষুব্ধ ব্রাজিল-সমর্থকের রোষানলে পড়া। কাপ হাতছাড়া হওয়ার দুঃখ ভুলে এখন তারা মোনাজাত করছেন, কোয়ার্টার ফাইনালে যেন ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস কিংবা হ্যারি কেন নরওয়ের ওই ‘উড়ন্ত সোনালি চুল’ টেনে ধরে মাঠ থেকে বিদায় করে দেন। নইলে আগামী চার বছর লম্বা চুল দেখলেই সেলেসাও শিবিরে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থেকেই যাবে।


