ফুটবল বিশ্বে কালা জাদুর পাওয়ার ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ঘানার নানা কোয়াকু বোনসামের সব আধ্যাত্মিক কারিশমা বোধহয় গতকাল রাতেই শেষ হয়ে গেছে। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নকআউট রাউন্ডে নবাগত কাবো ভার্দেকে জেতানোর জন্য তিনি যে ব্ল্যাক ম্যাজিক ভবিষ্যদ্বাণী শুরু করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত মাঠে কোনো কাজই করল না। আর্জেন্টিনাকে লাথি মেরে টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার বিশাল হুঙ্কার দিলেও, খেলার মাঠে বোনসামের জাদুর বদলে মেসির পায়ের জাদুই বেশি জ্বলে উঠল।
ফুটবল ভক্তদের দাবি, বোনসামের আধ্যাত্মিক প্রজেক্ট-এর আসল সমস্যাটা ছিল তার জাদুর পাউডারে। নকআউট রাউন্ডের উত্তেজনার চাপে হয়তো সেই অতিপ্রাকৃত পাউডারের স্টক শেষ হয়ে গিয়েছিল, অথবা জাদুর বাক্সের ব্যাটারিতে চার্জ ছিল না। তান্ত্রিক যখন গ্যালারিতে বসে কীসব মন্ত্র পড়ছিলেন, তখন ওদিকে রোমেরোর হেডার আর লিসান্দ্রোর গোল দেখে মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনার ওপর তার জাদুর প্রভাবটা আসলে উল্টো কাজ করেছে! হয়তো কোনো এক অজানা টেকনিক্যাল ফল্টে তার জাদুর সার্ভারটি আর্জেন্টিনা ম্যাচে কাজ করাই বন্ধ করে দিয়েছিল।
বোনসামের এই ব্যর্থতাকে ঘিরে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার জোয়ার বইছে। কেউ বলছেন, পর্তুগালকে জেতানোর জন্য যে ১৭ বোতল দামী হুইস্কি আর শ্যাম্পেন নদীতে ঢালার টোটকা তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলো বোধহয় তান্ত্রিক নিজেই শেষ করে ফেলেছিলেন, তাই কেপ ভার্দের ম্যাচে তার মনোযোগ ছিল না। কলম্বিয়ার ভক্তরা তো অনেক আগেই মনসেরাতে পাহাড়ে প্রার্থনা করে বোনসামের ‘জুজু’ থেকে বেঁচে গেছেন, কিন্তু বেচারা কাবো ভার্দে সেই আজব টোটকার ওপর ভরসা করে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরেই বসলো।
সব মিলিয়ে, ফুটবল মাঠে যে জাদুটা চলে তা পায়ের—পকেটের বা জাদুর বাক্সের নয়। নানা কোয়াকু বোনসাম হয়তো এখন নতুন কোনো টোটকা খুঁজছেন, কিন্তু বিশ্বকাপের এই মঞ্চে তার সেই পুরোনো কালা জাদুর পাউডার যে আর কাজ করছে না, তা মাঠের স্কোরবোর্ডই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখন প্রশ্ন একটাই—পরের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য তান্ত্রিক মশাই নতুন ব্র্যান্ডের পাউডার কোথায় পাবেন?


