২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অন্তত চারবার ওয়াক আউট করেছে। সংবিধান সংস্কার, বিভিন্ন বিলের বিরোধিতা, রাজনৈতিক সমঝোতাসহ নানা ইস্যুতে তারা বারবার সংসদ থেকে বেরিয়ে গেছে। এত ঘন ঘন ওয়াক আউট করতে করতে অনেকে মজা করে তাদের 'ওয়াক আউট পার্টি' বলেও ডাকতে শুরু করেছেন। আর এই মাসেও আরও কয়েকটি ওয়াক আউটের খবর এসেছে, ফলে সংখ্যাটা এখন আরও বেড়েছে।
তবে বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওয়াক আউট নতুন কিছু নয়। আর সত্যি বলতে, ওয়াক আউট মানেই খারাপ কিছু নয়। জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন তর্ক না বাড়িয়ে, নিজের সম্মান, মানসিক শান্তি বা স্বার্থের জন্য সেখান থেকে বেরিয়ে আসাটাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
দৈনন্দিন জীবনের কিছু চিরচেনা ওয়াক আউট মুহূর্ত:
১. পারিবারিক আড্ডা জমে উঠেছে। সবাই হাসছে-গল্প করছে। হঠাৎ বাবা বলে উঠলেন, তোর রেজাল্টটা কেমন হলো? কিংবা সিজিপিএ কত এখন? ব্যস! আপনিও ধীরে ধীরে সেখান থেকে ওয়াক আউট।
২. পারিবারিক অনুষ্ঠানে বেশ আনন্দে আছেন। এমন সময় কোনো মুরব্বি ডেকে বললেন, বাবা, বিয়ে করবা কবে? এরপর ভুজুংভাজুং দিয়ে পরিস্থিতি সামলে কতবার যে ওয়াক আউট দিয়েছেন, তার হিসাব নেই।
৩. বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন, কিন্তু পকেট এখনো খালি। হঠাৎ রাস্তায় দেখা, আর বন্ধু বলল, দোস্ত, টাকাটা... সেই মুহূর্তে পৃথিবী থেকেই ওয়াক আউট দিতে ইচ্ছা করে।
৪. আপনি অফিসের বস। জানেন, বার্ষিক এপ্রেইজালের সময় চলে এসেছে। কর্মীরা বেতন বাড়ানোর আবেদন নিয়ে দরজার সামনে। আপনি তখন জরুরি মিটিংয়ের অজুহাতে কিউবিকল থেকেই ওয়াক আউট!
৫. ইল্লিয়েনে পাঞ্জাবি কিনতে গেলেন। প্রাইস ট্যাগ দেখে মনে হলো, এটা যেন তিন মাসের বেতনের সমান! এরপর শোরুম থেকে নীরবে ওয়াক আউট করাই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত।
৬. সিচুয়েশনশিপ বেশ ভালোই চলছিল। হঠাৎ একদিন ওপাশ থেকে প্রশ্ন, তাহলে বিয়ের প্ল্যান কবে? আপনি সঙ্গে সঙ্গে টপিক বদলানোর চেষ্টা করছেন... না হলে ওয়াক আউটই শেষ ভরসা।
৭. মাকে আদুরে গলায় বললেন, মা, খুব ক্ষুধা লাগছে, কিছু খেতে দাও। মা হাসিমুখে এক বাটি কাঁঠাল এনে দিলেন। তখন চুপচাপ সেখান থেকে ওয়াক আউট করা ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে!
সংসদ হোক বা সংসার, অফিস হোক বা আড্ডা, ওয়াক আউট আসলে জীবনেরই একটা অংশ। কোথাও এটা প্রতিবাদের ভাষা, কোথাও আত্মরক্ষার কৌশল।



পাঠকের মন্তব্য