বছরের পর বছর বাংলা প্রথমপত্রের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ভিলেন হিসেবে পরিচিত সোনার তরী অবশেষে পরাজিত হয়েছে। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে, কোক স্টুডিওর নতুন গান মেঘ। এমনটাই দাবি করেছে দেশের পরীক্ষার্থী সমাজ। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এতদিন ‘মুখস্ত করো’ এই উপদেশ দিয়ে বাবা-মা, শিক্ষক, কোচিং স্যার কেউ সফল হননি। কিন্তু তিন মিনিটের র্যাপে যা হলো, তা বারো বছরের শিক্ষাজীবনেও সম্ভব হয়নি।
এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, স্যার যতবার বলছেন 'কবিতার ভাব বুঝে পড়ো', ততবারই ঘুম পাইছে। কিন্তু অর্ণব ভাই যখন কবিতাটাকে র্যাপে ঢুকালেন, খেলাটা জমে গেলো। এখন চাইলেও সোনার তরী ভুলতে পারছি না। এদিকে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারেও নেমেছে বিপর্যয়। জানা গেছে, অনেক বাংলা শিক্ষক এখন ‘র্যাপে র্যাপে কবিতা শেখা’ কিংবা ‘রবীন্দ্রনাথ রিমিক্স ব্যাচ’ চালু করতে যাচ্ছেন। বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা এতদিন ছন্দ, অলংকার, রূপক বুঝিয়ে গেলাম। শেষে দেখা গেল একটা র্যাপআমাদের পুরো ক্যারিয়ারকে হার মানিয়ে দিল।
অন্যদিকে অভিভাবক সমাজও বেশ সন্তুষ্ট। এক মা জানান, আগে ছেলে র্যাপ শুনলে বকতাম। এখন নিজেই বলি বাবা, আরেকবার চালা তো, কাল বাংলা পরীক্ষা। এদিকে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছে, আগামীতে বনলতা সেন, বিদ্রোহী, এমনকি পুরো বাংলা ব্যাকরণও কোক স্টুডিওর হাতে তুলে দেওয়া হোক। তাদের যুক্তি, যে দেশে শর্ট ভিডিও দেখে মানুষ রান্না শিখে, সেখানে র্যাপ শুনে কবিতা মুখস্ত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। তবে সবশেষে কোক স্টুডিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য গান বানানো, পরীক্ষার্থীদের পাশ করানো নয়।


