তারেক রহমান গিয়েছেন মালয়েশিয়া সফরে। অবধারিতভাবেই সাথে গিয়েছেন তার সিনিয়র পার্সোনাল ফটোগ্রাফার। তবে সফরের অর্ধেক দিন পার হলেও তারেক রহমানের ভেরিফাইড পেজে কোনো ছবির দেখা নেই! অন্যদিকে, ফটোগ্রাফার সাহেবের নিজের ফেসবুক আইডি মালয়েশিয়ার নান্দনিক সব একক ছবিতে সয়লাব!
নেতার পেজ মরুভূমি, আর ফটোগ্রাফারের প্রোফাইল যেন জলপ্রপাত, এই বৈষম্য দেখে ক্ষেপে আগুন বিএনপির সাইবার ব্রিগেড। ভক্তদের এমন চরম হতাশার দিনে দেবদূতের মতো ত্রাণকর্তা হয়ে এগিয়ে এলেন ওবায়দুল কাদেরের সাবেক ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার! তিনি সরাসরি তারেক রহমানের অফিশিয়াল ক্রু হিসেবে যোগ দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে এই কিংবদন্তি লেন্সম্যান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, মালয়েশিয়া গিয়েও নেতার একটা ভালো ছবি নাই, এইটা একজন পেশাদার হিসেবে আমার বুকে তীরের মতো বিঁধেছে! আমি ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথে যখন ছিলাম, তখন উনি ঘর থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার আগেই একই পোজে অন্তত ২০টা ক্যান্ডিড ছবি তুলে দিতাম! জ্যাকেটের চেইন টানছেন ৫টা ছবি, সানগ্লাস মুছছেন ১০টা ছবি, ডান পা আগে বাড়ালেন না বাম পা, তার নিখুঁত ফ্রেম!
তিনি আরও যোগ করেন, তারেক ভাই সুযোগ দিলে ওনাকে দেখায় দিতাম, ছবি কারে কয়! নেতার পেজে প্রতিদিন ৩ বেলা ছবির জোয়ার বইয়ে দিতাম!
এদিকে ওবায়দুল কাদেরের সাবেক ফটোগ্রাফারের এমন প্রস্তাবের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গুঞ্জনের ডালপালা গজাতে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে বলছেন, এই নিয়োগ সত্যি সত্যি হয়ে গেলে বিএনপির রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ভিজুয়াল রেভল্যুশন বা দৃশ্যমান বিপ্লব ঘটে যাবে। এতকাল ধরে যারা বিএনপির কেবল প্রেস রিলিজ আর বিবৃতির দীর্ঘ টেক্সট পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তারা এবার অন্তত প্রতিদিন সকালে এক কাপ চায়ের সাথে নেতার স্টাইলিশ হাই-ডেফিনেশন ও কালার-গ্রেডেড ছবি দেখে চোখ জুড়াতে পারবেন।
তবে গুঞ্জনের এখানেই শেষ নয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই ফটোগ্রাফার নাকি ওবায়দুল কাদেরের সুপরিচিত কোটি টাকার ঘড়ির কালেকশন এবং রঙিন কোটের বাহার ফ্রেমবন্দী করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারেক রহমানের জন্যও নতুন কিছু ভাবছেন। তিনি নাকি গোপনে জানিয়েছেন, তারেক ভাই কেবল একটা স্যুট পরেই পুরো মালয়েশিয়া পার করে দিলেন, এটা মানা যায় না! আমি দায়িত্ব নিলে স্যুটের হাতার ভাজ থেকে শুরু করে টাইয়ের নট পর্যন্ত প্রতিটা ডিটেইলের আলাদা ক্লোজ-আপ শট নিতাম। দলের কর্মীরা তখন আর আন্দোলনের চিন্তা না করে শুধু নেতার নতুন স্যুটের ব্র্যান্ড খুঁজতে ব্যস্ত থাকতো!


