দীর্ঘদিন ধরে কোনো উল্লেখযোগ্য মবিং কার্যক্রমে অংশ নিতে না পেরে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জাশি কর্মীরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আগের মতো নিয়মিত মবের সুযোগ না থাকায় অনেকেই পেশাগত ও মানসিক সংকটে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে সম্প্রতি ধানমন্ডি ৩২-এর সামনে এক সাংবাদিককে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন তারা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন কর্মী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নিজেদের দক্ষতা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা আবেগাপ্লুত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জাশি কর্মী বলেন, অনেকদিন পর মব করতে পাইরা শইলে একটা ভাব আইছে। হাত-পা একদম জং ধইরা গেছিল। প্রথমে একটু নার্ভাস লাগতেছিল, পরে দেখি পুরান ফর্ম এখনও আছে। অন্য এক কর্মী অভিযোগ করে বলেন, নতুন সরকারের আমলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তরুণ প্রজন্ম এখন আর ঠিকমতো মব করতে চায় না। সবাই শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। মাঠে নামার লোক নাই।
এদিকে জাশি সাংস্কৃতিক পরিষদের পক্ষ থেকে মবিংকে দেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির এক নেতা বলেন, যেভাবে বাউল গান, জারি-সারি কিংবা লাঠিখেলা সংরক্ষণ করা হয়, ঠিক সেভাবেই মবিং শিল্পকেও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কয়েক দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রত্যেক নিবন্ধিত কর্মীকে একটি করে মব কার্ড প্রদান, মাসে ন্যূনতম একটি বাধ্যতামূলক মবের ব্যবস্থা, এবং সফল মবকারীদের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা।
তাদের ভাষ্য, মাসে অন্তত একটা করে মব না করলে আমরা বাঁচব কীভাবে? সংসার চলে না, স্কিলও নষ্ট হয়। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যদি দ্রুত মবিং শিল্পের পুনরুজ্জীবনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে অনেক দক্ষ কর্মী বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমেন্ট-যোদ্ধা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন কর্মীকে পুরোনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মবিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও করছেন বলে জানা গেছে।


