বিশ্বকাপের উত্তাপে যখন পুরো ফুটবল বিশ্ব মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স আর একের পর এক রেকর্ডে বুঁদ হয়ে আছে, তখন ঠিক সেই মুহূর্তেই ঢাকা থেকে এক অদ্ভুত আর চাঞ্চল্যকর খবর বেরিয়ে এসেছে। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করতে গিয়ে খোদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়েছেন। গণভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেসি যেভাবে একা হাতে গোল করছেন এবং ম্যাচ জেতাচ্ছেন, তাতে আর্জেন্টিনার বাকি ১০ জন খেলোয়াড় মাঠে কেবল শোপিস হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এই নিষ্ক্রিয়তা সহ্য করা কঠিন। তাই তিনি আর্জেন্টিনার বাকি ১০ ফুটবলারকে দ্রুত বেকার কার্ড বা আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, একজন মানুষ একা ৫টা গোল করছে, আর বাকিরা কি শুধু মাঠের ঘাস মাপছে? এটাকে তো আমি সরাসরি জনশক্তির অপচয় বলব। বাংলাদেশে আমাদের সরকার যেমন ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষক কার্ড দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখছে, আর্জেন্টিনা দলের ক্ষেত্রেও এখন সেই মডেল দরকার। মেসি যেহেতু একাই আর্জেন্টিনা চালাচ্ছেন, বাকি ১০ জন যে বেকার, সেটা তো পরিষ্কার। তাই আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বলবো, ওই ১০ জনকে যেন অবিলম্বে আমাদের দেওয়া ফরম্যাটে বেকার কার্ডের আওতায় নিয়ে আসে। তাতে অন্তত তাদের দুপুরের খাবারের বাজেটটা বেঁচে যাবে।
এই প্রস্তাবের পেছনে তারেক রহমানের যুক্তি হলো, মেসির এই অসাধারণ ফর্মের যুগে অন্যদের মাঠে থাকাটা সময়ের অপচয়। তিনি আরও যোগ করেন, আর্জেন্টিনা দল যদি এভাবে শুধু মেসির ওপর নির্ভর করে চলে, তবে তাদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বেকার কার্ডই হতে পারে একমাত্র সমাধান। এই কার্ডধারীরা চাইলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষকদের মতো ভর্তুকি বা সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন, যদি তারা আর গোল করতে ব্যর্থ হন।
এদিকে, এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে। আর্জেন্টিনার টিম ম্যানেজমেন্ট এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও, খোদ মেসির ভক্তরা বলছেন, তারেক রহমানের এই প্রস্তাব আসলে ফুটবলের অমানবিক নির্ভরতার দিকেই একটা কড়া ইঙ্গিত। মেসি গোল করছেন ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাকি ১০ জন যে এখন আর্জেন্টিনায় বেকার হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার ঝুঁকির মুখে, তা নিয়ে রসিক মহলে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনা পরবর্তী ম্যাচে গোল সংখ্যা বাড়াতে পারে কি না, নাকি বাকি ১০ জনকে সত্যিই বেকার কার্ডের জন্য আবেদন করতে হয়!


