জর্জ অরওয়েলের মেসির খামার!

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে

ম্যানর খামারের সবুজ চারণভূমিতে আজ এক ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচ। চারপাশের বেড়ার ওপর বসে আছে হাজার হাজার ক্যানারি পাখি। তারা ডানা ঝাপটে অনবরত প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে-

: চার পা ভালো, হলুদ জার্সি আরও ভালো! বিগ ব্রাদার সেলেসাও-এর পাঁচটি ট্রফিই শেষ সত্য, বাকিরা সব তুচ্ছ!

খামারের এই হলুদ ষাঁড় আর পাখিদের দল দীর্ঘদিন ধরে খামারের ফুটবল মাঠটা দখল করে রেখেছিল, নিজেদের তারা ভাবত অপরাজেয়।

কিন্তু মাঠের ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল 'আলবিসেলেস্তে' আকাশি-সাদা ডোরার ভেড়া আর ঘোড়াদের দল। তাদের নেতৃত্বে ৪১ বছর বয়সী এক বুড়ো, শান্ত ঘোড়া -কমরেড মেসি।

হলুদ দলের তরুণ এবং হিংস্র ষাঁড়গুলো কাদা উড়িয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। তারা কড়া ডায়েট আর আধুনিক ট্রেনিংয়ের অহংকারে ভাবছিল, এই বুড়ো ঘোড়াটাকে তারা শিং দিয়ে গুঁতিয়ে মাঠের বাইরে ফেলে দেবে। তারা যখনই কমরেড মেসির দিকে তেড়ে আসত, ক্যানারি পাখিরা কিচিরমিচির করে তীব্র চিৎকার আর গালিগালাজ শুরু করত।

কিন্তু কমরেড মেসি ভারী ধূর্ত। তিনি মাঠের এক কোণে চুপচাপ ছোলা খাওয়ার ভান করে দাঁড়িয়ে রইলেন। হলুদ দলের ডিফেন্ডাররা ভাবল, বুড়োটার দম শেষ, বিপ্লব শেষ!

ঠিক খেলা শেষের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ঘটল সেই অলৌকিক কাণ্ড!

ভেড়াদের দল একটা পাস দিল মেসির দিকে। বলটা পায়ে আসতেই বুড়ো কমরেড মেসির শরীর থেকে যেন সব ক্লান্তি উধাও হয়ে গেল। তিনি এমন এক জাদুকরী বডি ডজ দিলেন যে, হলুদ দলের অহংকারী ষাঁড়গুলো নিজেদের ভারসাম্য হারিয়ে একে অপরের ওপর হুড়মুড় করে আছাড় খেয়ে পড়ল। মেসি চিতা বাঘের মতো দৌড়ালেন না, বরং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বলটা শিং দিয়ে ঠেলে জালে জড়িয়ে দিলেন।

গোল!

মুহূর্তের মধ্যে ক্যানারি পাখিদের কিচিরমিচির বন্ধ হয়ে গেল। খামারের একনায়কতান্ত্রিক হলুদ প্রোপাগান্ডা এক সেকেন্ডে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। আকাশি-সাদা ভেড়ারা খুশিতে ব্যা-ব্যা করে চিৎকার করে উঠল।

আমি খামারের এক কোণে বসে আমার সেই ঐতিহাসিক চায়ের কাপে অবশ্যই যেখানে আগে লিকার, পরে দুধ ঢালা হয়েছে-তাতে চুমুক দিতে দিতে ভাবলাম- হলুদ বিগ ব্রাদাররা যতই নিজেদের ইতিহাসের দোহাই দিয়ে খামার শাসন করতে চাক না কেন, কমরেড মেসির এই ঐতিহাসিক জয় একটা নতুন নীতি লিখে দিয়ে গেল:

সব দলের জার্সির রঙই সুন্দর, কিন্তু আকাশি-সাদা জার্সি অন্যদের চেয়ে একটু বেশি সুন্দর!

(গল্পটি সম্পুর্ন কাল্পনিক তবে অরওয়েলের ১৯৮৪ এবং এনিম্যাল ফার্মের ছায়ায় লেখা)

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top