কোরবানির ঈদের স্টার হলো কোরবানির গরু। প্রতিবছরই সারাদেশে ভাইরাল হয় কিছু গরু, ষাঁড়, মহিষ বা ছাগল। এবারের ঈদে রাজনৈতিক নেতা ও আলোচিত ব্যক্তিত্বদের নামে রাখা গরুগুলোর স্টারডম বেশি দেখা গেছে। চলুন, এমন ৫ জনের একটু নাম-পরিচয় জেনে আসি।
মাঠের নেইমার ফাউল খেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খেলেও, যশোরের অভয়নগরের এই ১৬০০ কেজির নেইমার কিন্তু হাটে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চতা ৫.৬ ফুট, আর এর দামের গ্রাফ দেখলে যেকোনো ডিফেন্ডারের হাত-পা কাঁপতে বাধ্য। মালিক দাম হাঁকিয়েছেন একেবারে ১২ লাখ টাকা! তবে মাঠের নেইমারের মতো পিচে গড়াগড়ি খাওয়ার বা ইনজুরিতে পড়ার কোনো সুযোগ এর নেই। তবে ঈদের দিন কসাইয়ের সামনে ও কেমন ড্রিবলিং দেখায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
আমেরিকার ট্রাম্পের মতো পিরোজপুর সদরের কোহিনুর অ্যাগ্রোর এই ট্রাম্প ২.০-এর মেজাজটাও সবসময় গরম!
অপরিচিত কাউকে দেখলেই এমন ভাব নেয়, যেন মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তুলে দেবে। ১০–১২ মণের এই ষাঁড়ের কাছে সহজে কেউ ভিড়তে সাহস পায় না; কখন যে হোয়াইট হাউসের মতো গুঁতো মেরে কাস্টমারকে হাটের বাইরে পাঠিয়ে দেয়, তার ঠিক নেই! এই মেজাজি ট্রাম্পকে নিজের আস্তানায় নিতে হলে পকেট থেকে গুনতে হবে পুরো ৮ লাখ টাকা।
পিরোজপুরের ট্রাম্পের মেজাজ গরম থাকলেও নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ডোনাল্ড ট্রাম্প কিন্তু বেশ জনপ্রিয় এবং রাজনৈতিকভাবে সফল!
৭০০ কেজি ওজনের এই ট্রাম্পকে কিনতে কাস্টমারদের মধ্যে রীতিমতো নির্বাচনের মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়ে গেছে। শেষমেশ ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বাজেট পাস করে একজন একে নিজের ঘরে তুলে নিয়েছেন। আমেরিকার ট্রাম্প নির্বাচনে জিতুক আর না জিতুক, নারায়ণগঞ্জের ট্রাম্প কিন্তু সবার আগে সোল্ড আউট হয়ে বাজিমাত করে দিয়েছে!
নাম শুনেই হয়তো আন্দাজ করতে পারছেন, এর স্বভাব কেমন হতে পারে! স্বভাবসুলভ শান্ত মহিষ হলেও এই ‘নেতানিয়াহু’র ভেতর কূটনৈতিক শান্তির কোনো বালাই নেই। মানুষ দেখলেই একদম খেপে গিয়ে তেড়ে আসে গুঁতাতে! নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার এসএস ক্যাটেল-এর ৭৬০ কেজির এই রাগী মহিষের দাম ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা। একে যে কিনবে, তাকে কোরবানি দেওয়ার আগ পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টা বেশ কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখতে হবে, তা বলাই বাহুল্য!
তালিকার সবশেষে আছেন নীলি রাভি জাতের ৭০০ কেজির মহিষ নরেন্দ্র মোদী।
নারায়ণগঞ্জের এই মহিষটি হাটে এসে বেশিক্ষণ ভাষণ দেওয়ার সুযোগই পায়নি; এর হাইপ এত বেশি ছিল যে দেখার মাঝপথেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে। আসলে মোদীজি যেখানেই যান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন; তাই হাটের কাস্টমাররাও আর দেরি না করে জি–২০ সম্মেলনের মতোই দ্রুত চুক্তি সই করে একে ঘরে তুলে নিয়েছেন।






পাঠকের মন্তব্য