ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে ‘স্টেট ব্যানকেট’ বা রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ছিল গ্রেট হল অব দ্য পিপলে। টেবিলে থরে থরে সাজানো ছিল চীনের ঐতিহ্যবাহী হুয়াইয়াং, লায়ন্স হেড, ইয়াংঝৌ ফ্রাইড রাইস, ওয়েনসি টোফু, আর মাছ ও বাঁশ কুঁড়ি… আরে একটু থামুন, এটা তো পত্র-পত্রিকার খবর।
আসলেই কি ট্রাম্পের সামনে চীনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ছিল? ট্রাম্প যা যা খেয়েছিলেন, সব কি চীনাদের খাবার? এ ব্যাপারে একদম পাকস্থলী থেকে এক অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরি করেছেন আমাদের প্রতিনিধি, তাও সুদূর চীন থেকে।
গ্রেট হলে প্রবেশের পর খাবারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাম্প যখন চীনা প্রধানমন্ত্রীর নোটবুক দেখছিলেন, ঘটনাটা ঠিক তখনই ঘটে, বদলে দেওয়া হয় ট্রাম্পের খাবার।
ট্রাম্প চামুচ হাতে নিয়ে ঢাকনা সরিয়েই দেখেন, সাদা ভাত আর পোলাও। টুক করে একটা হলুদ বল প্লেটে দেন শেফ। ট্রাম্প অবাক হয়ে দেখে বলেন, সেকি? আলুভর্তা?
শেফ মুচকি হেসে বলেন, দুয়েই, দুয়েই!
উইচ্যাটে ট্রান্সলেট করে ট্রাম্প বুঝতে পারেন, লোকটা হ্যাঁ হ্যাঁ করছে। শেফ আরও বলেন, “স্যার, হাতটা ধুয়ে নিন। গরম ভাতে ভর্তাটা চটকে নিন, সঙ্গে একটু পোড়া মরিচ ডলে নিন। বলেন তো, আমি মাখিয়ে দেই?”
না, না, আই ক্যান ডু…বলে ট্রাম্প মাখাতে শুরু করলেন। এরা আর কী কী রেখেছে, ভেবে সামনের সবগুলো ঢাকনা সরিয়ে ট্রাম্প দেখতে লাগলেন। ডিমভাজা, চালকুমড়া দিয়ে গরুর মাংস, মুরগির ঝোল, পান্তা, ইলিশ ভাজা, ভেন্ডি ভাজি, বেগুন ভাজা আর আম দিয়ে রান্না করা ডাল।
ট্রাম্প হকচকিয়ে গেলেন। পাশে থাকা প্রধানমন্ত্রী শি-কে জিজ্ঞেস করলেন, লবস্টার কই? মেন্যুতে তো অন্য কিছু শুনেছিলাম। এসব কী দিয়েছেন?
প্রধানমন্ত্রী ফিসফিস করে উত্তরে বলেন, আসলে কেউ বেড়াতে আসলে মানুষ তো একটু ভালো-মন্দ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। আমার এক বন্ধু কিছুদিন আগে বাংলাদেশে গিয়েছিল, সেখানে তাকে চাইনিজ খাইয়েছে। আপনি আমার দেশে এসেছেন, তাই আপনাকে একটু বিদেশি ভালো খাবার দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছি। এই তোমরা, ওনাকে একটু রাহা ভাজিটাও দাও তো। খেয়ে দেখেন, ভালো লাগবে।
আমাদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ট্রাম্প আম-ডালের সঙ্গে লেবু নিয়ে খেয়ে মিনিট দশেক চোখ বন্ধ করে ছিলেন। চীন ডেলিগেটরা ধারণা করেছেন, স্বাদের আতিশয্যে ট্রাম্প হয়তো মূর্ছা গেছেন।



পাঠকের মন্তব্য