বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ-এর সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব চিকিৎসা-গবেষণামূলক বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নীতি-নির্ধারণী সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে পেতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে সংস্থাটি। জেনেভার সদর দপ্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য অ্যাসেম্বলির এক জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক WHO-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আমরা বছরের পর বছর বিলিয়ন ডলার খরচ করে, হাজারটা পিয়ার-রিভিউড স্টাডি আর BDHS-এর মতো ডেটা অ্যানালাইসিস করে যা বের করতে পারিনি, মিস্টার জাবের ঢাকার এক সংবাদ সম্মেলনে মাত্র কয়েক মিনিটে তা পানির মতো পরিষ্কার করে দিয়েছেন। উনার মতো এমন ডেটা-জাদুকর এবং নারী ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞই এই মুহূর্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মূলত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে হাম পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া জাবেরের একটি বৈপ্লবিক তত্ত্বই WHO-এর বিজ্ঞানীদের চোখ খুলে দিয়েছে। যেখানে সারাবিশ্বের চিকিৎসকেরা হাম ছড়ানোর পেছনে ভ্যাকসিনের অভাব বা ইমিউনিটির ঘাটতিকে দায়ী করছিলেন, সেখানে জাবের সম্পূর্ণ নতুন এক ম্যাটারনাল ফিটনেস থিওরি আবিষ্কার করেন। তিনি দাবি করেন, ফিটনেস বা শারীরিক গঠন নষ্ট হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশের ৫৫% থেকে ৫৬% মা তাদের বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান না, যার ফলেই মূলত বাচ্চারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
জেনেভার প্রধান কার্যালয়ের এক এপিডেমিওলজিস্ট (মহামারি বিশেষজ্ঞ) আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমরা এতদিন বোকার মতো ভাবতাম কর্মজীবী মায়েদের ডে-কেয়ারের অভাব, ফর্মুলা মিল্ক কোম্পানির আগ্রাসী বিজ্ঞাপন, বা সিজারিয়ান ডেলিভারির জটিলতার কারণে এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু মিস্টার জাবের আমাদের ভুল ভাঙালেন। বাংলাদেশের কোটি কোটি মা জিমনেসিয়ামে গিয়ে সিক্স প্যাক বানানোর জন্য বা জিরো ফিগার ধরে রাখার জন্য বাচ্চাদের দুধ দিচ্ছেন না, এই মহাজাগতিক সত্য উন্মোচনের পর আমরা উনাকে ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছি।
এদিকে জেনেভা থেকে জাবেরকে মহাসচিব পদের প্রস্তাব দেওয়ার গুঞ্জনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে। ইনকিলাব মঞ্চের একাংশ বলছে, এটি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনার এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, WHO যদি সত্যিই এই তত্ত্বকে গ্রহণ করে, তবে আগামীতে ডায়রিয়া বা কলেরার কারণ হিসেবে মায়েদের বিউটি পার্লারে যাওয়া কিংবা ডায়েট কন্ট্রোলকে দায়ী করে নতুন বৈশ্বিক গাইডলাইন আসতে পারে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আব্দুল্লাহ আল জাবের এই বৈশ্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সমালোচকেরা বলছেন, বাংলাদেশে ফিটনেস-সচেতন মায়েদের সংখ্যা নিয়ে উনার এই ৫৬ শতাংশের নিখুঁত হিসাব যেভাবে ভাইরাল হয়েছে, তাতে জেনেভায় যাওয়ার আগেই উনাকে দেশের মায়েরা মিলে বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার জন্য খুঁজছেন।


