গাঁজাখোরের ১০০ বছরের শ্বাস…

১০ পঠিত ... ৬ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

এক যৌনাসক্ত, এক মদ্যপ এবং এক গাঁজাখোর মারা যাওয়ার পর স্বর্গের গেটে হাজির হলো। স্বর্গের প্রহরী সেখানে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে তাদের পথ আগলে ধরলেন। তিনি বললেন, আমি এই গেটে দাঁড়িয়ে আত্মার বিচার করি। যদি তোমরা স্বর্গে প্রবেশের যোগ্য না হও, তবে তোমাদের নরকের আগুনের শিখায় নিক্ষেপ করা হবে, যেখানে অনন্তকাল তোমরা যন্ত্রণায় ছটফট করবে।
নিজেদের অতীত জীবনের কথা ভেবে তিন পাপী একে অপরের দিকে আতঙ্কিত চোখে তাকালো। তারা জানত যে তাদের জীবন স্বর্গের যোগ্য নয়, কিন্তু নরকবাসের কথাও তারা ভাবতে পারছিল না।
প্রহরী একটি চকচকে মার্বেলের বেদির ওপর রাখা একটি বিশাল বইয়ের দিকে তাকালেন। এই বইটিতে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের নাম আছে। আমি শুধু তোমাদের নাম খুঁজব এবং দেখতে পাব তোমরা পৃথিবীতে কেমন জীবন কাটিয়েছ!
তিনি বিড়বিড় করে বইয়ের পাতা উল্টাতে লাগলেন, আর ওই তিনজন রুদ্ধশ্বাসে তাদের ভাগ্যের কথা শোনার অপেক্ষায় রইল।
মনে হচ্ছে, প্রহরী অবশেষে মুখ খুললেন, তোমাদের কেউই এখানে থাকার যোগ্য নও। আসলে তোমরা পৃথিবীতে তোমাদের দিনগুলো শুধু নেশা আর লালসার পেছনেই নষ্ট করেছ। আমি দুঃখিত, তোমাদের জন্য স্বর্গের দরজা খুলবে না—
দাঁড়ান!!! যৌনাসক্ত লোকটি চিৎকার করে উঠল। আমাদের আরও একটা সুযোগ দিন প্রমাণ করার জন্য যে আমরা নিজেদের শুধরে নিতে পারি!
হ্যাঁ! আমাদের একটা পরীক্ষা নিন! মদ্যপ লোকটি যোগ করল।
প্রহরী কিছুক্ষণ ভাবলেন। তারপর একটি পরিকল্পনা করলেন। তিনি তিনটি দরজার আড়ালে তিনটি ঘরের ব্যবস্থা করে তাদের সেখানে নিয়ে গেলেন। এই ঘরগুলোর ভেতরে সেই সব সরঞ্জাম আছে যা দিয়ে তোমরা পৃথিবীতে পাপ করেছ। তোমরা এই ঘরে একশ বছর কাটাবে। আমি যখন ফিরে আসব, তখন যদি দেখি তোমরা প্রলোভন সামলে নিয়েছ এবং কোনো পাপ করোনি, তবেই তোমরা স্বর্গে ঢুকতে পারবে। তোমরা কি রাজি?
একশ বছরের জন্য দ্বিতীয় সুযোগ পেয়ে তিনজনই খুব উৎসাহের সাথে রাজি হলো।

প্রহরী তাদের প্রত্যেককে যার যার ঘরে নিয়ে গেলেন।
প্রথম ঘরটি ছিল যৌনাসক্ত লোকটির। ঘরটি সুন্দরী নারীতে ঠাসা আর শোয়ার জন্য নরম বিছানা পাতা। প্রহরী তাকে সেখানে রেখে দরজা বন্ধ করে দিলেন।
দ্বিতীয় ঘরটি খোলার পর দেখা গেল বিশাল এক মদের ভাণ্ডার। যতদূর চোখ যায় সব ধরণের দামী দামী মদে ঘরটি ভরা। প্রহরী মদ্যপ লোকটিকে সেখানে আটকে দিলেন।
সবশেষে তারা তৃতীয় ঘরের দরজায় পৌঁছালেন। দরজা খুলতেই দেখা গেল এক বিশাল গাঁজার খেত। চারদিকে গাঁজা গাছ আর সেগুলো খাওয়ার জন্য সব ধরণের সরঞ্জাম সাজানো।
শুভকামনা রইল, বলে প্রহরী গাঁজাখোর লোকটিকেও ভেতরে আটকে দিলেন।
দীর্ঘ একশ বছর কেটে গেল। স্বর্গের প্রহরী সেই তিনজনের খবর নিতে এলেন।


প্রথম দরজাটি খোলার সাথে সাথে তিনি দেখলেন, সেই যৌনাসক্ত লোকটি বিছানায় অনেক মহিলার মাঝে শুয়ে আছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে সে প্রলোভন সামলাতে পারেনি। প্রহরী সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং একটি লিভার টেনে সেই পাপীকে সোজা নরকে পাঠিয়ে দিলেন!
দ্বিতীয় দরজার কাছে আসতেই কড়া মদের গন্ধে প্রহরীর মাথা ঘুরে ওঠার দশা হলো। চারদিকে মদের ভাঙা বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আর মদ্যপ লোকটি মদের পুকুরে মত্ত হয়ে পড়ে আছে। মাথা নেড়ে প্রহরী দরজা বন্ধ করলেন এবং দ্বিতীয় লিভারটি টেনে তাকেও নরকের অতল গহ্বরে পাঠিয়ে দিলেন।
তৃতীয় দরজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রহরী দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তিনি ভাবলেন এখানেও হয়তো একই দৃশ্য দেখতে হবে। দরজা খুলে তিনি অবাক হয়ে দেখলেন সব নিস্তব্ধ। গাঁজাখোর লোকটি এক কোণে কুঁকড়ে বসে আছে।
তিনি দেখলেন চারপাশে সব গাঁজা খাওয়ার সরঞ্জাম একদম ঠাসা হয়ে আছে। পাহাড়ের মতো জয়েন্ট আর কল্কে সাজানো, কিন্তু সেগুলোর একটিতেও আগুন লাগানো হয়নি বা ধোঁয়া বের হয়নি।
প্রহরী অভিভূত হয়ে লোকটির কাছে গেলেন। দেখলেন লোকটি নিজের চোখের জলে ভাসছে। প্রহরীকে দেখে সে ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, হুজুর, দয়া করুন! আমাকে বরং নরকেই পাঠিয়ে দিন, কিন্তু আপনার পায়ে পড়ি... দয়া করে আমাকে কি একটা দেশলাই বা লাইটার দেবেন? একশ বছর ধরে আমি এই জিনিসের জন্য পাগল হয়ে আছি!

১০ পঠিত ... ৬ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top