মাংস রান্না শেষ হওয়ার আগেই ৬ বার ‘হইছে?’ জিজ্ঞেস করে রান্নাঘর থেকে বহিষ্কার ছোটোভাই

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে

 

কোরবানিতে গরু জবাই করে কাটাকাটি শেষ হওয়ার পর যেন আর কারও ধৈর্য কুলায় না। চুলায় মাংস বসানোর পর থেকেই বাইরে থেকে ডাক আসতে শুরু করে, হইছে কিনা? ব্যস্ততার মাঝে মা হয়তো একবার-দুইবার উত্তর দেন, কিন্তু ৬ বার জিজ্ঞেস করলে কারও মেজাজ ঠিক থাকে না। মোহাম্মদপুরে মাংস রান্না শেষ হওয়ার আগেই ৬ বার হইছে? জিজ্ঞেস করে রান্নাঘর থেকে বহিষ্কার হয়েছেন এক ছোটোভাই।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে eআরকি কোরবানি টিম জানতে পেরেছে, সকাল থেকে ছোটোভাই রাকিব কোরবানির মাংস দিয়ে ভাত খাবে বলে কিছুই মুখে দেয়নি। গরু কাটাকাটি হয়ে গেলে বারবার মাকে তাগাদা দেওয়ার পাশাপাশি সে জিজ্ঞেস করেছে, হয়েছে কিনা। মা শুরুর দিকে জবাব দিলেও, সে যখন ৫ বারের পর ৬ বার জিজ্ঞেস করে ফেলেছে, তখন আর তার মায়ের মাথা ঠিক ছিল না। একদম সরাসরি বহিষ্কার।

মাংস রান্না হলে সরাসরি টেবিলে নিয়ে যাওয়া হবে, এর আগে রান্নাঘরে ঢুঁ মারাও নিষেধ। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে খাবার টেবিলে না দিয়ে সরাসরি বারান্দায় বসে খেতে হবে। মায়ের রাগান্বিত মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতেও পারেনি সে।

এদিকে বহিষ্কারের পর রাকিবকে ড্রইংরুমে মুখ গোমড়া করে বসে থাকতে দেখা যায়। হাতে মোবাইল, কিন্তু মন পুরোপুরি হাঁড়ির ভেতর। পরিবারের বড়ভাই জানান, ও এখন প্রতি ৫ মিনিট পরপর আমাকে ইনবক্সে জিজ্ঞেস করতেছে, ভাই সত্যি সত্যি হইছে নাকি এখনও হয় নাই?

অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ছোটোভাই হাঁড়ির ঢাকনা খুলে টেস্ট করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে, কোথাও আবার মাংস না হতেই প্লেট হাতে ডাইনিং টেবিলে বসে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির দিনে ছোটোভাইদের এই আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তারা একে বলছেন পোস্ট-কোরবানি দ্রুত মাংস খাওয়া সিনড্রোম। এর প্রধান লক্ষণ হলো প্রতি ৪ মিনিট অন্তর রান্নাঘরে যাওয়া, অকারণে হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে থাকা, আর মাংসের গন্ধ পেলেই মনে হওয়া, এই তো হইয়া গেছে! বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মাংস রান্না শেষ হওয়ার আগেই ৬ বার হইছে? জিজ্ঞেস করে রান্নাঘর থেকে বহিষ্কার ছোটোভাই

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে

Top