বরাবর,
মুহাম্মদ ইউনূস
প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
নেন, পড়েন। যদিও জানি, আপনের পড়ার টাইম নাই।
ইউনিসেফের অত বড় বড় চিঠিই আপনে ত্যানা বানাইয়া ফালাইয়া রাখলেন, আমার এই খুচরা আলাপ আপনে পড়বেন ক্যা?
শোনেন প্রফেসর,
খুব তো ভাব নিয়া গদিতে বসছিলেন। গ্রামীণ চেকের পাঞ্জাবি পইড়া যখন বিশ্বময় পোজ দিতেন, ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন এই দেশের চিপাগলিতে আমাদের বাচ্চারা হামের টিকা পাইত না। হামের টিকা না পাইয়া ওরা এখন মরতেছে ধুঁকে ধুঁকে। খবর জানেন? একটা-দুইটা না, ৫০০ পার হইয়া গেছে লাশ। হিসাব রাখছেন? নাকি নোবেলের স্ক্র্যাচ মুছতে মুছতে সময় পান না?
অথচ কী খেল দেখাইলেন আল্লায়! ২৪-এর আগস্টে যখন এই দেশের ছোট ছোট পোলাপাইনগুলার রক্তে রাস্তা লাল হইল, আপনে আইসা বসলেন। হাহাকার দেইখা দরদ উথলাইয়া উঠছিল আপনের। মানুষ ভাবছিল, বুড়া মানুষটা বুঝি বাপের মতো আগলাইয়া রাখব।
আর তখন? বুলেটের গুলি তাও আওয়াজ কইরা বুক ঝাঁঝরা করে, আর আপনের ওই টেন্ডার-টেন্ডার খেলা, ভ্যাকসিনের ফাইল আটকাইয়া রাখার যে নীরব কায়দা—এইডা তো বুলেটের চেয়েও ধারালো ছিল। ইউনিসেফ চিল্লাইল, চিঠি দিল, মিটিং করল; আপনে কানে তুলা দিয়া বইসা রইলেন। এইডারে কী কয় জানেন? ঠান্ডা মাথার খুন। Preventable tragedy ট্যাগ মারলেই তো আর পাপ ধোয়া যায় না।
আশ্চর্য লাগে, এতগুলা বাচ্চার জান চইলা গেল, অথচ আপনের মুখ থিকা একটা আফসোস, একটা শোকবার্তাও বাইর হইল না! নাকি ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ায় ইন্টারভিউ না দিলে আপনের ঠোঁট নড়ে না?
যে শিশু হত্যার বিচার চাইয়া পোলাপাইনের লাশের ওপর দিয়া হাইটা আপনে সিংহাসনে আইসা বসলেন, আজ সেই আপনের নামেই চারদিকে লেআউট বদলাইয়া শিশু হত্যাকারীর স্লোগান ওঠে।
আরে ধুর, চিঠিটা ছিঁড়াইয়া ফালান। ডাস্টবিন তো আগেই ভইরা রাখছেন।
ক্ষমতার চেয়ারটা তো এমনিতেও চিরদিন থাকে না, আপনারটাও নাই। নতুন সরকার চইলা আসছে, গদি বদলাইছে, দিন বদলাইছে। কিন্তু প্রফেসর, মনে রাইখেন, চেয়ার চইলা গেলেই কিন্তু রক্তের দাগ চইলা যায় না। এই দেশের মায়েদের চোখের পানির কোনো টেন্ডার হয় নাই কোনো দিন, আর হবেও না।
গদি হারাইছেন ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের যে কাঠগড়ায় আপনে খাড়াইয়া গেলেন, সেইখানে এই ৫০০ শিশুর লাশের জবাব না দিয়া পার পাবেন না। ওই আগুন চিরকাল আপনের বিবেক পুড়াইয়া ছাই করব।



পাঠকের মন্তব্য