ককরোচ পার্টির বিপ্লব দমনে লুটিয়েন্সে কন্ট্রোল রুম স্থাপিত হয়। বিজিত দোভাল একটা সিগারেট ধরিয়ে লনে পায়চারি করতে থাকেন; পেছনে পেছনে হাঁটছে ভীতি অগ্নিহোত্রী।
হাসিনার অ্যাটেনডেন্ট রোদেলা সিং এসে বলে, হার এক্সেলেন্সি সালাম দিয়েছেন।
পাশাপাশি তিনটি স্ক্রিনে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের লাইভ স্ক্রিনিং চলছে। একটি তরুণীকে দফলি বাজিয়ে "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" গাইতে দেখে হাসিনা বলেন, "এই মেয়েটা সংস্কৃত না বলে উর্দু বলছে কেন! দিল্লিতে এত পাকিস্তানি এলো কোত্থেকে!"
বিজিত দোভাল উত্তর দেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকেই এই স্লোগান চলছে।
—আমাকে ইতিহাসের কথা বলবেন না। ইতিহাস নিজেরা লিখতে হয়। আপনাদের কি কোনো মুনতাসির মামুন নেই! আপনাদের বামগুলোই বা কেমন! 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ'-কে উর্দু স্লোগান হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে পেঁচাচ্ছে না কেন! আপনাদের জাফর ইকবাল কোথায়! ককরোচ পার্টির প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করতে আপনাদের একটা সাদা চুল আর গোঁফওয়ালা বুদ্ধিজীবী লাগবে।
বিজিত বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দেন, আপনি যেমন ৮১ সাল থেকে ঢাকায় একটা কালচারাল উইং বানিয়েছিলেন, তেমন কিছু দিল্লিতে গড়ে ওঠেনি।
—কঙ্গনা রানাওয়াতকে বলেন, ফেসবুকে আলো আসবেই গ্রুপ খুলতে। দরকার হলে সে অরুণা বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলুক। জেনে নিক, কীভাবে বিক্ষোভ দমনে গরম পানি ছেটাতে হয়।
ভীতি অগ্নিহোত্রী এসে জানায়, আপনার কথা অনুযায়ী ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে।
—ওভাবে বলছেন কেন! বলবেন, ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়নি; তা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেছে।
স্ক্রিনে শাবানা আজমীকে দেখে হাসিনা রেগে যান, একে এখনো পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেননি কেন!
সাংবাদিক ভুতুম লাহিড়ী এসে জানতে চান, আমরা কী করব, দিদি?
—আপনারা পিএম মোদির সঙ্গে বসে টিভিতে লাইভ বৈঠক করুন। সেখানে অর্ণব গোস্বামী এসে বলুক; ককরোচ পার্টির সঙ্গে ইসলামি জঙ্গিদের সম্পর্ক আছে।
ভুতুম লাহিড়ী চলে যাওয়ার ভঙ্গি করলে হাসিনা ধমক দিয়ে বলেন, পুরো কথা শুনে যান। আরাফাতের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নিন, কীভাবে বিক্ষোভকারীদের ড্রাগড বলতে হয়। বলতে হবে, পানির সঙ্গে মিশিয়ে ওদের মাদক পান করিয়েছে চীনের গুপ্তচরেরা।
লাইভ স্ক্রিনে পুলিশি অ্যাকশনে বিক্ষোভকারীর রক্তাক্ত মুখমণ্ডল দেখে হাসিনা বলেন, দিল্লি ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের হিন্দুত্ববাদী সিনিয়র অধ্যাপক খুঁজে বের করুন; যে সবসময় প্রগতিশীলের ভান ধরে থাকে। তাকে দিয়ে ফেসবুকে লেখান, বিক্ষোভকারীরা টমেটো সস মেখে নিজেদের রক্তাক্ত দেখাচ্ছে। রক্ত নয়, রক্ত নয়; ওগুলো টমেটোর সস।
বিজিত দোভাল বলেন, ওই তো একটা অসুবিধা, ম্যাডাম। আমাদের যে ক'টা বামপন্থী রামপন্থী হয়েছে, তারা প্রকাশ্যেই হয়েছে। প্রগতিশীলের ভান ধরে থাকেনি।
ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিত দীপকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুনেই হাসিনা বলেন, আমাদের হারুনটাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে ওকে দিয়ে অভিজিতকে নুডলস খাওয়ান। তারপর বন্দুক তাক করে ধরে ওকে দিয়ে বিক্ষোভ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ান।
লাইভ স্ক্রিনে সোনাম ওয়াংচুকের ছবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতে দেখে হাসিনা বিরক্ত হয়ে বলেন, এই লোকটাকে ধরে শহিদুল আলমের মতো ১০০ দিন কারাগারে রাখুন। এমন একটা ঘুষি দিতে হবে, যেন শার্টে ছোপ ছোপ রক্ত লেগে থাকে। তারপর ওটাকেও টমেটোর সস বলতে হবে।
ভীতি অগ্নিহোত্রী বলেন, ম্যাডাম, বিজেপির সাইবার গ্যাং আওয়ামী লীগের সাইবার গ্যাংয়ের মতো এত প্রশিক্ষিত নয়। ফলে ওরা কার্যকর কোনো প্রোপাগান্ডা করতে পারছে না।
—কলকাতায় ফোন করে আমাদের ধাপ্পাদিত্য পশুটিকে অ্যাকটিভ করুন; ওর একটা মাথায় যত প্যাঁচ আছে, অত প্যাঁচ স্ক্রুতেও নেই। আমাদের কাজল দেওয়া নাইস অ্যান্ড অ্যাট্রাকটিভ মেয়েটির কাছে পরামর্শ নিন।
বিজিত দোভাল মুচকি হেসে বলেন, হে বঙ্গভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন।



পাঠকের মন্তব্য