ভারতের মাটিতে বসে সম্প্রতি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশেষ রাজনৈতিক উপদেশ বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্যে করে শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ চালাতে গিয়ে যদি কখনো বেগতিক পরিস্থিতি তৈরিও হয়, তবুও ভুলেও পালানোর চিন্তা করবেন না। আর যদি পালানোর কথাই মাথায় আসে, তবে দয়া করে হেলিকপ্টারের তেল অকারণে পুড়িয়ে বাংলাদেশ বা অন্য কোথাও আকাশপথে ট্রায়াল মারার বোকামি করবেন না!
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রাজপথে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে তরুণ ও বেকার যুবকদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ এবং দেশটির প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যখন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যটি সামনে এল।
দিল্লির গোপন আস্তানা বা বিশেষ নিরাপত্তা ঘেরাটোপে কাটানো এক ঘরোয়া বৈঠকে শেখ হাসিনা নাকি নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এই পরামর্শ দেন। ২০২৪ সালের আগস্টে নিজের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এবং শেষ মুহূর্তে বিমানবাহিনীর সি-130 বিমানে দেশ ছাড়ার উত্তাল স্মৃতিচারণ করে হাসিনা মোদিকে মনে করিয়ে দেন, পালাতে গেলে প্লেন বা চপার পাওয়ার সময় পাওয়া যায় না। আর পেলেও হিসাব করে এগোতে হয়। অযথা হেলিকপ্টারে তেল ভরিয়ে এয়ারবেডে গিয়ে বসে থাকার চেয়ে শেষ পর্যন্ত চেয়ার কামড়ে পড়ে থাকাই শ্রেয়।
তবে হাসিনার এই ‘অভিজ্ঞতালব্ধ’ পরামর্শ স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুরে মোদি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদি কোনো দিন পালায়নি, পালায় না এবং ভবিষ্যতেও পালাবে না!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে যখন শিক্ষিত বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস এবং ‘ককরোচ’ তকমা পাওয়ার ক্ষোভে ফুঁসছে ভারতের তরুণ সমাজ—ঠিক তখন দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানদের এই ‘পলায়ন তত্ত্ব’ ও ‘পালাব না’ স্লোগানের রাজনীতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নতুন হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে। বিশেষ করে, যে দেশেই আন্দোলন হোক না কেন, নেতাদের মুখে ‘পালাব না’ বুলি শোনা গেলেও শেষ মুহূর্তের নাটকের কোনো কমতি থাকে না—এমনটাই ট্রল করছেন নেটিজেনরা।
এদিকে, মোদির পক্ষ থেকে কড়া বার্তা আসার পর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী CJP-র আন্দোলন দমনে আরও কঠোর সাইবার নজরদারি এবং ডিজিটাল সেন্সরশিপ জোরদার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।


