ডুবে গেছে ঢাকা, নৌকা নিয়ে কামব্যাক দেয়ার স্বপ্নে বিভোর শেখ হাসিনা

১৫ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

 

টানা ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকা যখন ভেনিস শহরকে রীতিমতো টেক্কা দিয়ে বঙ্গোপসাগরের এক নতুন এক্সটেনশনে রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই ভারতের কোনো এক গোপন আস্তানা থেকে দূরবীন চোখে ঢাকার দিকে তাকিয়ে এক অদ্ভুত আশার আলো দেখছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্ভরযোগ্য এবং সম্পূর্ণ কাল্পনিক সূত্র জানাচ্ছে, মিরপুর, কারওয়ান বাজার আর গ্রিন রোডের বুক চিরে যখন কোমর সমান পানিতে রাজধানীবাসী সাঁতার কাটছে, তখন দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা হর্ষোৎফুল্ল চিত্তে তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও একমাত্র বিশ্বস্ত সঙ্গী ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’কে জানিয়েছেন, এটাই তাঁর দেশে ফেরার মোক্ষম সময়। আগামী ডিসেম্বরে ফেরার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন, প্রকৃতির কৃপায় তা হয়তো আরও এগিয়ে আসবে, কারণ ঢাকার এই অথৈ জলে চড়ার জন্য ‘নৌকা’র চেয়ে উত্তম বাহন এই মুহূর্তে আর দ্বিতীয়টি নেই। তিনি নাকি অত্যন্ত দূরদর্শী ভঙ্গিতে বলেছেন, আমি তো জানতামই অদূর ভবিষ্যতে ঢাকায় শুধু নৌকাই চলবে, তাই গত ১৫ বছর ধরে সবাইকে নৌকায় ভোট দিতে বলেছিলাম! দেশের মানুষ তখন বোঝেনি, আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

এদিকে এই যুগান্তকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগকে নিজেদের অনুকূলে আনতে আওয়ামী লীগের নির্বাসিত থিঙ্কট্যাংক ইতিমধ্যেই এক অভিনব ‘জলপথ পুনরুত্থান’ পরিকল্পনা সাজিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শীতে নয়, বরং এই বর্ষাতেই শেখ হাসিনা ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে সরাসরি সাঁতার কেটে অথবা একটি রাজকীয় স্পিডবোটে চড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন। সাধারণ কোনো এয়ারপোর্ট বা ল্যান্ড পোর্ট নয়, তাঁর আগমন ঘটবে সরাসরি কুড়িল ফ্লাইওভারের নিচে জমে থাকা সুইমিং পুলে কিংবা কারওয়ান বাজারের ইলিশ মাছের বাজারের প্রবেশদ্বারে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার জন্য তাঁদের কোনো গাড়ি বা প্রিজন ভ্যানের প্রয়োজন হবে না; নেত্রী নিজেই একটি সুসজ্জিত ময়ূরপঙ্খী নৌকায় চড়ে সরাসরি মহামান্য আদালতের এজলাসের ভেতরে নোঙর ফেলবেন। এমনকি আইনি প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়েছেন যে, যদি এজলাসের ভেতরে পানি বেশি থাকে, তবে যেন ডাইভিং স্যুট পরে এবং ওয়াটারপ্রুফ ফাইল নিয়ে শুনানিতে বসা হয়।

তবে শেখ হাসিনার এই ‘জলযান কামব্যাক’ তত্ত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সদ্য নির্বাচনে জেতা বিএনপি শিবিরে ব্যাপক রাজনৈতিক জলঘোলার সৃষ্টি করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা অবশ্য পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে লুঙ্গি হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বৈরাচারের এই জলজ ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দেব না! ঢাকা ডুবেছে ঠিকই, কিন্তু আমরা ধানের শীষকে রাতারাতি ওয়াটার লিলি বা শাপলা ফুলে রূপান্তরিত করার প্রযুক্তি নিয়ে ভাবছি, যেন পানির ওপরেও আমাদের প্রতীক ভেসে থাকে। অন্যদিকে সাধারণ ঢাকাবাসী, যারা সকাল থেকে জ্যাম আর ম্যানহোলের ঢাকনা খুঁজে পেতে ব্যস্ত, তারা এই রাজনৈতিক হাঙ্গামার মাঝে পড়ে চরম বিরক্ত। ধানমন্ডির এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, নেত্রী নৌকা নিয়ে ফিরুন আর সাধারণ মানুষ সাবমেরিন নিয়ে চলুক, আমাদের শুধু একটাই দাবি—যিনিই ক্ষমতায় আসুন না কেন, দয়া করে আগে এই ড্রেনের প্লাস্টিকের বোতলগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্বটা নিন, নইলে আগামীতে রাজনীতি করার জন্য এই দেশে কোনো মানুষই আর বেঁচে থাকবে না, শুধু ব্যাঙ আর মাগুর মাছ থাকবে।

১৫ পঠিত ... ১৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

Top