বিসিবি নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ (ক্লাব ক্যাটাগরি) থেকে ৭৪ ভোটের মধ্যে ৭৩ ভোট পেয়ে তামিম ইকবালের এই ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি বা বিশাল জয় দেশের ক্রিকেটপাড়ায় যতটা না আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার চেয়েও বড় ধাক্কা দিয়েছে রাজনৈতিক নস্টালজিয়ায়। বিশেষ করে ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পাওয়ার এই ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান দেখে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সেফ হাউজে বসে নাকি আবেগ আপ্লুত ও নস্টালজিক হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কিছু রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গতকাল রোববার রাতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের এই নির্বাচনী ফলাফল যখন টেলিভিশনের স্ক্রিনে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ভেসে ওঠে, তখন তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪, ২০১৮ কিংবা ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলোর কথাই ধরা যাক। সেখানে কিছু কিছু কেন্দ্রে শতভাগ কিংবা ৯৯.৯ শতাংশ ভোট পড়ার যে রেকর্ড ছিল, তামিম ইকবালের ৭৩টি ভোট পাওয়ার পরিসংখ্যান হুবহু সেই স্মৃতিই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
নয়াদিল্লির সূত্রটি জানায়, ফলাফল দেখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মৃদু হেসে তার পাশে থাকা একজনকে বলেছেন, ‘রাজনীতিতে আমরা যে ধারা তৈরি করে এসেছিলাম, ক্রিকেট বোর্ড তো দেখছি সেটাই ধরে রেখেছে। তবে তামিম তো তাও ৭৩টা পেয়েছে, ওই ১টা ভোট কেন কম পড়লো? আমাদের সময়ে হলে তো ৭৪ জনের মধ্যে ৭৫ জনই ভোট দিয়ে দিত!’
তামিম ইকবাল যেভাবে প্রথমে পরিচালক এবং পরে বোর্ডের ভেতরে আনকনটেস্টেড সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রিয় মডেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়-এর সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যেভাবে ১৫৪ জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে এসেছিলেন, তামিমের এই সভাপতি হওয়া যেন তারই একটি ক্ষুদ্র ও স্পোর্টিং সংস্করণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ রসিকতা করে বলছেন, তামিম ইকবালের এই নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ফলাফল দেখে মনে হতেই পারে—বিসিবির এই অ্যাডহক কমিটি ও কাউন্সিলররা হয়তো গোপনে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুরনো নির্বাচনী ইশতেহার ও স্ট্র্যাটেজি গাইডলাইন ফলো করেছেন।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নস্টালজিয়ার মাঝেও একটা খটকা রয়ে গেছে। তার আমলের নির্বাচনে যেখানে কোনো ভুল বা বিদ্রো'-এর সুযোগ থাকত না, সেখানে ৭৪ জনের মধ্যে ১ জন ভোটার কীভাবে তামিমকে ভোট না দিয়ে পার পেয়ে গেলেন, তা নিয়ে তিনি কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ভারতের কূটনৈতিক মহলের এক কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় বলেন, ম্যাডাম হয়তো ভাবছেন, এই ১ জন ভোটারকে যদি ওনার আমলের নির্বাচন কমিশন পেত, তবে ভোটের আগেই তার কাউন্সিলর পদ বাতিল করে দেওয়া হতো!
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই হেডলাইন নিয়ে ট্রোলের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। নেটিজেনরা বলছেন, ক্রিকেটের বোর্ডে তামিমের এই শেখ হাসিনা স্টাইল জয় প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে ক্রিকেটের ব্যাট-বল কিংবা ক্ষমতার মসনদ, চেয়ার যেটাই হোক না কেন, ৯৯ শতাংশ ভোটের ম্যাজিক ফিগার বাঙালি কখনোই ভুলতে পারে না।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, বিসিবির সেই নিখোঁজ ১ ভোটের রহস্য খুঁজতে যখন গোয়েন্দারা মিরপুর চষে বেড়াচ্ছেন, তখন সীমান্তের ওপার থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই নস্টালজিক দীর্ঘশ্বাস মিরপুরের বাতাসে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক সুবাস ছড়াচ্ছে।


