কিছুদিন আগেই শহীদুল জহিরকে ‘তৃতীয় শ্রেণির লেখক’ আখ্যা দিয়ে সাহিত্য অঙ্গনে ছোটখাটো ভূমিকম্প ঘটিয়েছিলেন সলিমুল্লাহ খান। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিনি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকেও ‘তৃতীয় শ্রেণির ম্যাচ’ বলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন। ঘটনার সূত্রপাত আমাদের প্রতিনিধির কাছে আসা একটি রহস্যময় ফোনকল থেকে। কলদাতা নিজেকে পরিচয় না দিলেও কথাবার্তার ভঙ্গি, দীর্ঘ বাক্যে কমা ব্যবহারের দক্ষতা এবং প্রতি তিন মিনিট পরপর ‘আপনারা বিষয়টা বুঝতে পারছেন না’ বলার অভ্যাস দেখে প্রতিবেদক নিশ্চিত হন, অপর প্রান্তে আছেন স্বয়ং সলিমুল্লাহ খান। পরে জানা যায়, তিনি নিজের একটি ফেক আইডি থেকেই কল করেছিলেন।
কলের একপর্যায়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপে প্রথম এবং দ্বিতীয় হওয়ার জন্য ফাইনাল এ দুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। কিন্তু তৃতীয় হওয়ার জন্য আবার আলাদা ম্যাচ? এটা তো তৃতীয় শ্রেণির চিন্তাভাবনা। তবে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন অসাবধানতাবশত ভিডিও কল অন হয়ে যায়। তখন দেখা যায়, তার গায়ে ফ্রান্সের জার্সি। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি দৃশ্যত বিব্রত হয়ে বলেন, জ্যাক লাকা সাহেব বলেছেন, জার্সি দেখে কোনো দর্শন বোঝা যায় না। এরপর প্রতিবেদক হালকা হাসি দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে বলেন, শালা, তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক এবং বলেই কল কেটে দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সলিমুল্লাহ খানের কাছে পৃথিবী এখন তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণি এবং বাকিটা তৃতীয় শ্রেণি। কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন, তিনি নাকি শিগগিরই ‘তৃতীয় শ্রেণির অভিধান’ নামে একটি বই লিখবেন, যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, খেলা ও মতামতকে যথাযথ শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, বিশ্বকাপ কর্তৃপক্ষ যদি ভবিষ্যতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের নাম বদলে ‘দুধভাত ম্যাচ’ নাম রাখে, তাহলে হয়তো সেটি আর তৃতীয় শ্রেণির ম্যাচ থাকবে না।


