বিএনপি সরকারই কি ব্রাজিলের শেষ ভরসা

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে

একটু আবহ বর্ণনা দিয়ে শুরু করা যাক।

বাসার বারান্দা থেকে দেখলে আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে নানা রঙের পতাকা চোখে পড়ছে এই বিশ্বকাপের শুরু থেকে। ঠিক বিপরীতমুখী বাড়ির বারান্দা থেকে ঝুলছে দুটি পতাকা, পাশাপাশি। একটি ব্রাজিলের চিরচেনা হলুদ–সবুজ পতাকা। আরেকটি পর্তুগালের।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনীর দিনে ঝুলেছিল পতাকা দুটো। প্রথমে কিছুদিন দেখা গেল, বারান্দার গ্রিলের একই উচ্চতায় দুটি পতাকা ঝোলানো। কোনো উঁচু, নিচু নেই। অথচ মরক্কোর সাথে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের পরই এক পলকেই যেন বদলে গেল সম্পর্ক, থুড়ি অবস্থান!

২০ বছরের বেশি সময় ধরে হেক্সা জয়ের মিশনে থাকা ব্রাজিল যেই না মরক্কোর সাথে ড্র করল, অমনি চোখে পড়ল বারান্দার গ্রিলের শিকের অবস্থানে অবনমন ঘটল নেইমারদের। পর্তুগালের পতাকা উপরে থাকল, নেমে গেল ব্রাজিল।

বোঝা যাচ্ছে, যে বা যারা ব্রাজিলের পতাকা টাঙিয়েছিলেন, তাদের ব্রাজিলের প্রতি অনুরাগ বা পিরিত ওতোটা গাঢ় নয়। হয়, এমনটা হয়। সবাই তো আর ৩৬ বছর ধরে অপেক্ষা করে থাকতে পারে না। এতটা ধৈর্য্য অনেকের নাও থাকতে পারে।

আর ব্রাজিলের সমর্থকদের জন্য এমন অপেক্ষা সত্যিই নতুন। ১৯৭০ সালের পর একবার ২৪ বছরের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ২০২৬ সালেও ২৪ বছর পূরণ হচ্ছে আবার। ফলে অনেকটা অপেক্ষার শেষ সীমা বলা যায়! তা এমন পরিস্থিতিতে নাদান অনেকেরই আস্থার ভিত নড়ে যেতে পারে, বিশ্বাস টলে যেতে পারে।

এরূপ অবস্থাতে তাই দল বদলের একটা চিন্তা অবচেতনেই চেতনায় ধরা দেয়। ‘সেকেন্ড অপশন’ তো মানুষের লাগে। এত বড় টুর্নামেন্ট, এবং লম্বাও বটে। তাতে বিকল্প তো লাগেই। ধরুন, প্রথম পছন্দের দল এগোতে পারল না। বিপক্ষকে হারাতে শুধু শত্রুতা টিকিয়ে রাখতে হলেও তখন বিকল্প পছন্দ প্রয়োজন হয়। মনে হচ্ছে, এবারের ব্রাজিল সমর্থকদেরও তাই কখনো পর্তুগাল, কখনো স্পেন বা প্রয়োজনে ফ্রান্সের পতাকাও কিনে রাখতে হচ্ছে, হয়তো জার্সিও। সেভেন আপ বা হ্যান্ড অব গড’কে সামলাতে উপায়ই আর কী!

ব্যাপার না! এমন ঘটনা এই দেশে তো নতুন নয়। কেউ বাপ–দাদার সম্পত্তি বেচে খায়। কেউ আবার বেঁচে থাকে, একদিন কাপে চা খাবে বলে। দুই পক্ষেই দলবদলের ইতিহাস আছে। কোনো না কোনো কবি নিশ্চয়ই বলেছেন যে—জীবন বহতা ড্রেনের মতো, পরিবর্তন বা বদল আসেই।

যাক গে, ২৪ বছরের অপেক্ষায় ফেরা যাক। ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা যে জন্মেছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। যখন হতাশা বেশি থাকে, তখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তি পর্যবসিত হয় ক্ষোভে। তাতে অহেতুক কিছু ক্যাঁচালও তৈরি হয়। ক্রীড়াগত যুক্তি থেকে চলে যাওয়া হয় কেবলই খুঁত ধরার ট্রেন্ডে। উত্তেজনা বেশি চলে আসে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিম্পটমে আক্রান্ত হতে চায় মন।

তা, এমন বৈশিষ্ট্য এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে বটে। ধরুন, অভিনয়ের কথা শুনলেই অনেকের গা জ্বলে উঠছে! তবে তাদেরকেই যখন চিপায় নিয়ে সত্যি কথাটা জানতে চাওয়া হচ্ছে, তখন হতাশাটা বোঝা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে—‘ভাই, কী যে খেলতেসে’, ‘বুঝতাসিনা, ব্রাজিল কই?’, ‘এমনে খেললে বিপদ আছে’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

ফলে পুরো মাত্রায় কপালবাদী হয়ে উঠতে হচ্ছে হলুদ–সবুজদের। কপালকে যদি দোষ দেওয়া যায়, তবে নির্ভরও করা যেতে পারে। আর উপায় না থাকলে তো ভরসা আরও বেড়ে যায়। তাহলে চলুন, এমন কিছু আওলাঝাওলা যুক্তির (সু নাকি কু, আপনারা বুঝে নিন) খোঁজ করা যাক। কোনো না কোনো ঝগড়ায় কারও না কারও এসব কাজে তো লাগবেই!

যেমন, বাংলাদেশের জন্মের পর দুইবার বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে ব্রাজিল। একবার ১৯৯৪ সালে, আরেকবার ২০০২ সালে। এই দুইবারের মধ্যে পার্থক্য ছিল ৮ বছরের। এর আগেই কাটাতে হয়েছিল ২৪ বছরের অপেক্ষা।

আবার ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালেও বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। পার্থক্য ৮ বছরের ছিল। সেই হিসাবে এবার একটি ২৪ বছরের অপেক্ষা ব্রাজিলের শেষ হওয়া নিয়ে সম্ভাব্যতার সূত্রে ইতিবাচক হওয়া যেতেও পারে।

তবে বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আরও আশাবাদী বিষয় আছে। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জেতার বছরে বাংলাদেশে ছিল বিএনপির সরকার। ২০০২ সালেও তাই ছিল। আর এবারও কিন্তু…

আবার, বিএনপি’র নামের শুরু ইংরেজিতে ‘B’, বাংলায় ‘ব’ দিয়ে। আবার বাংলাদেশেরও বর্ণমালাগত শুরুও একই রকম। ওদিকে বাংলায় বিশ্বকাপও শুরু ‘ব’ দিয়ে। আর এসবের সাথে ব্রাজিলের মিলের বিষয়টার ইশারা নিশ্চয়ই না বোঝার মতো জটিল নয়।  

আশা করি যারা বোঝার তারা বুঝেছেন। যারা লুফে নেওয়ার তারা লুফেও হয়তো নেবেন। বাংলায় তো আছেই—সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা!

তাই নন্দিত ব্রাজিলীয় স্পন্দিত বুকে ক্ষণে ক্ষণে সব ধরনের সম্ভাবনাই গেঁড়ে বসতে চায়। এমনি এমনি তো আর ব্রাজিলের পতাকার পাশে পর্তুগাল বসে না। শঙ্কা থাকে। মরক্কোর সাথে প্রথম ম্যাচের পর তা হয়তো আরেকটু জেঁকে বসতে চাইছে। যদিও হাইতিকে হাতির ভাইব দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩ গোলে জয় পাওয়া গেছে, তবে আশঙ্কা উবে যাচ্ছে না। কারণ নামে বাঘ হলেও, কাজকাম আসলে তার মাসির মতো বলেই বোধ হচ্ছে। তার ওপর বাদবাকি সব সম্ভাবনাকে শঙ্কায় পরিণত করাই যে নেইমারের কাজ, তা কে না জানে!

তাহলে কি বিএনপি সরকারই ব্রাজিলের শেষ ভরসা?

হলেই ভালো। লাভই হবে। কাপ জিতলেই তো হলো, তাই না?

           

পঠিত ... ১ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top