শামীম ওসমানের সকাল

২৫১ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে

সাউথ কলকাতার এক অ্যাপার্টমেন্টে পাখির গানে ঘুম ভাঙে শামীম ওসমানের। মনটা কাল রাত থেকেই খারাপ। জীবন-যৌবনের সবটুকু দিয়ে যে নারায়ণগঞ্জের গৌরবগাঁথা তৈরি করেছিল সে; গতকাল এক ঝটকায় সে গৌরবগাঁথার নতুন কুতুব মিনার উঁকি দিয়েছে হবিগঞ্জে। এমবাপ্পে দশ গোল করে যেভাবে মেসির কাছ থেকে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিয়েছে; গউছ যেন একইভাবে শামীমের গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-এ শামীম যে সাফল্য জুলাই তারুণ্যের ওপর দেখাতে পারেনি; গউছ সেই সাফল্য দেখিয়েছে 'আলিফ' নামে এক তরুণের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেবার ব্যবস্থা করে।

কলিং বেলের শব্দ শুনে শামীম উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেখে, বিষণ্ণ হতবিহবল চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে অপু উকিল আর বাপ্পাদিত্য বসু।

: এসো এসো ভেতরে এসো তোমরা। অপু তোমার মনটা এত ভার কেন দিদি। আর চেহারার একি হাল করেছো; একটু লিপস্টিক লাগালেও তো পারো।

: আর চেহারা দিয়ে কী হবে ভাই, সংসদে সংরক্ষিত আসন নেই; টকশো-তে চেয়ার নেই; প্রতিদিন জীবন বাঁচাতে একটু পোস্ত ভর্তা করে আর ভাত রান্না করে টিকে থাকা।

: ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করো; রসুন বুনেছি। সংসদেও আমাদের বিজনেস পার্টনার সাংসদ আছে; মন্ত্রীসভায় আমাদের বেয়াইতন্ত্রের লোক আছে; গোয়েন্দা শাখায় অগ্নিহোত্রীর লোকেরা আছে। যেভাবে আওয়ামী লীগের রক্ত পরীক্ষা করে প্রশাসনে লোক নিয়োগ করেছি আমরা; আগামী পনের বছর শাসনযন্ত্র আমাদের হাতেই থাকবে।

: কিন্তু দাদা বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নতুন সাংসদ যেভাবে গতকাল হবিগঞ্জে হামলার জাস্টিফিকেশন দিয়েছে আর ভিক্টিম ব্লেমিং করেছে; আমি পনের বছরে যা করতে পারিনি; ঐ মহিলা কয়েক মাসে তার চেয়ে বেশি করে ফেলেছে। আমাকে কি আর লোকে মনে রাখবে!

: এটা জগতের নিয়ম অপু। টিভি টকশোতে নতুন ফারজানা রুপার দেখা মিলেছে; যে নিজ দলীয় লোকেদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষকে অপমান করে। ঐ যে মনে নেই, একাত্তর জার্নালে প্রতিপক্ষের একজনকে নিয়ে এসে যেভাবে উপস্থাপিকা, একজন সিনিয়র সাংবাদিক আর একজন আওয়ামী লীগ নেতার সালিশ বসিয়ে ভ্রুটা চিংড়ি মাছের মতো নাচিয়ে মুচকি মুচকি হাসত আর তকমা দিত। সেটাই নতুন করে শুরু হয়েছে। ওপরে যত আওয়ামী লীগ-বিএনপি; ভেতরে সবার একই লাল। তা বসু কেমন আছো!

বাপ্পাদিত্য বসু বলে, জয় শ্রীরাম! আমরাই ভালো আছি বদ্দা। আওয়ামী লীগ থাকলে তাদের জন্য প্রগতপশীল সার্ভিস দিই; বিএনপি থাকলেও তাদের জন্য প্রগতপশীল সার্ভিস দিই। আমরা তো শুধু রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রগতপশীলতা করেছি; আমাদের অনুজেরা তো উমবের্তো একো, আগামবেন, আন্তনিও গ্রামসি দিয়ে প্রগতপশীলতা করছে। আমরা তো ফতুয়া পরে আধুনিক হয়েছিলাম, এদের টিশার্টের ওপর লেখা থাকে 'গড ইজ ডেড, আই এম নিতসে।'

: তোমাদের তো ঠিকমতো উইকিপিডিয়া ছিলো না; চ্যাটজিপিটি ছিলো না; পলিট বুড়োরা যা বলত; ঐ শুনে তোমরা পুনরাবৃত্তি করতে। তা কালচারাল উইং ঠিকমতো কাজ করছে তো বসু! ১৯৯৬-এর মতো আমাদের রেজারেকশান ঘটাতে তো পারবে তো!

: পেরে বসে আছে বদ্দা। সেনসিটিভ নারী ইস্যু পেলেই সেটা মাথায় নিয়ে আওয়ামী লীগের গুদামে নিয়ে আসে সিনিয়র সাংবাদিকেরা; যারা গণভবনের পিঠপুলির আসরে প্লট-পদক ও পদবী নিয়ে সিনিয়র হয়ে উঠেছিলো। ওরা মোর্চা করে কম খর্চায় আওয়ামী চর্চা করছে।

 বসু একটু দম নিয়ে বলে, অগ্নিহোত্রীও জমিয়ে দিচ্ছে; মাঝে মাঝেই ভিডিও ফাঁস করে; বাংলালিকসের নতুন সিরিজ চালু করেছে। যতক্ষণ দাড়ি টুপি আছে; ততক্ষণ শিবব্রত'র কার্টুনে জোশ আছে; দাড়ি টুপি রগড়ে ইদানিং রহমত-রুকসানাও জমে গেছে। সবার মনেই তো চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদার আর জমিদার গিন্নি সাজার স্বপ্ন থাকে। ফলে বিএনপির রহমত আর রুকসানা এখন লীগের সহমত আর ললিতার জায়গাটা নিয়েছে।

: দুবাই-এ থাকলে আমারও শেখ হবার শখ হয় বসু; ফলে ঢাকায় থাকলে জমিদার হবার শখ হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে আমরা বেগুনি মুখমণ্ডলের দাঁত উঁচু লোকেরা অন্যকে নিম্নবর্গ, ইতর বলে নাক উঁচু ভাব দেখাতে পছন্দ করি। চিন্তা করো, যার দাদা সবুজ লুঙ্গি বা খসখসে ধুতি পরে মসজিদ ও মন্দিরে চিত হয়ে পড়ে থাকতো; তার নাতি নাতনি নিজেকে এলিট প্রমাণে অন্যকে রাইট উইঙ্গার বলে দেবার আনন্দই আলাদা। তবে আমি মানুষটা সর্ব ধর্মবাদী; আমি মাদ্রাসা স্থাপন করে বেহেশতে একটা ঘর নিশ্চিত করি; আবার পুজোর সময় মন্দিরে উপঢৌকন দিয়ে স্বর্গে আসন নিশ্চিত করি।

অপু উকিল হাসতে হাসতে বলে, আপনি তো দাদা আওয়ামী যুগের সম্রাট আকবর।

: এই তো আমার বোনের মুখে একটু হাসি ফুটেছে।

২৫১ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৩১ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি


Top