স্পয়লার অ্যালার্ট!
সিনেমার প্রধান চরিত্র অর্থাৎ নায়ক লিমন শালমান। কাহিনীতে দেখা যায় সে নায়ক হবার আগে যখন ছোটো ছিল তখনই পাকনা পাকনা কথা বলত। পাশের বাড়ির রানীর সাথে তার ছিল গলায় গলায় ভাব। খেলতে গিয়ে তারা রাজা-রানী সাজত। সেই যুগে মোবাইল ফোন ছিল না। তাই তারা রাজা-রানীর মধ্যে অদ্ভুত ওয়াই-ফাই কানেকশন তৈরি করেছিল।
নোলান তার সিনেমায় সুযোগের সদ্ব্যবহার করে দেখিয়েছিলেন ওয়াই-ফাই এর জনক আদতে কারা।
লিমন আর রানী একদিন ভাবল কত আর ছোটো থাকব! তাই তারা গাইতে শুরু করল ‘পাতার বাসুরী’ গান আর হিড় হিড় করে কয়েক মাইক্রো সেকেন্ডে বড় হয়ে গেল। কিন্তু বড় হলেও লিমন লিমনই আর রানী রানীই ছিল! এটাই নোলানের Aura!
লিমন আর রানী একদিন জঙ্গলে বেড়াতে গেল।
হঠাৎ উষ্টা খেয়ে লিমন ডিগবাজি দিয়ে গাছের সাথে আঘাত পায়। লিমন নায়ক মানুষ, তত ব্যথা পায় না। কিন্তু ঘটনা ঘটে যায় গাছের, ব্যাটা যায় স্মৃতিশক্তি ভুলে! গাছ নিজের চরিত্র, সহজাত ভুলে বৃক্ষরাজির গুষ্টি উদ্ধার করে কথা বলে ওঠে। বলে বসে, আমি কে! কোথায়? তুমি কে? তোমার পাশে ও কে? আমরা সবাই কোথায়?
নায়ক হলে যন্ত্রণা আছে। গাছের এমন পরিস্থিতিতে সে তো আর তাকে এভাবে ফেলে যেতে পারে না।
লিমনের মনে পড়ে যায় একটি সিনেমার কথা, গজনী।
আমির খানেরও এমন গাছের মত ভুলে যাবার বিরল রোগ অ্যান্টেরোগ্রেড অ্যামনেশিয়া ছিল। সে শরীরে লিখে রাখত। লিমন খুশিতে লাফিয়ে উঠে রানীকে ধরে বলল, গাছটাকে আজ থেকে আমি আমির খানের মত লেখার ট্রেইনিং দিবো। এরপর থেকে শুরু হয় লিমন আর গাছের এক সংগ্রামী জীবন যার প্রতি মুহূর্ত ছুঁয়ে যায় দর্শকদের।
সিনেমার এ পর্যায়ে রয়েছে একটা গান: প্রেমের সমাধি ফেলে মনের শিকল ছিঁড়ে স্মৃতি যায় উড়ে যায়, তোমায় পাব না জানি…..
নোলানের এই সিনেমা আমাদের শেখায় সবার জীবন লিমন আর রানীর মত সহজ নয়। বাস্তবতার নির্মম কষাঘাত কখনো কখনো উল্টে দেয় জীবনকে দেখার উপলব্ধি।



পাঠকের মন্তব্য