যা মনে হচ্ছে, ক্ষমতায় না থাকলেই বরং স্যাটায়ারটা জমে। অন্তত রাকসুর ছাত্রদলের কাণ্ড দেখে তাই মনে হলো!
অর্থ উত্তোলনের হিসাব না দেওয়া, ভাউচার জমা না দেওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এই কাণ্ড। গত ২১ আগস্ট বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের আমতলা চত্বরে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে বসে যায় ব্যঙ্গাত্মক ‘ভাউচার মেলা’।
মূল টার্গেট ছিল রাকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা।
মেলায় ছিল আটটি স্টল। প্রতিটা স্টলের নামও বেশ ব্যঙ্গাত্মক। কোথাও ভিপি-জিএসের নাস্তার বিল, কোথাও সেলাই মেশিন ও কর্মশালা, কোথাও বেলচা কেনা, আবার কোথাও কাওয়ালি দলের ভাড়া, সভা-সেমিনার, বিতর্ক অনুষ্ঠান, ডেকোরেটর, সাউন্ড আর প্রজেক্টরের ভাউচার নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। মেলার পরিবেশ জমাতে বাজানো হয়েছে এআই দিয়ে বানানো কয়েকটি গানও, যেখানে রাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে রীতিমতো রসিকতা করা হয়েছে।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, ৪২টি কর্মসূচির নামে রাকসুর প্রতিনিধিরা প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা তুলেছেন। কিন্তু এর মধ্যে ৬১ থেকে ৬২ লাখ টাকার কোনো বৈধ বিল-ভাউচার বা খরচের হিসাব এখনও দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে মেলার আগের রাতেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদল।
তাদের ভাষ্যটা অবশ্য আরও মজার। প্রতিনিধিরা যখন নিজেরাই খরচের হিসাব দিতে পারছেন না, তখন তাদের ‘সহযোগিতা’ করতেই নাকি এই ভাউচার মেলা। অন্তত ব্যঙ্গ করে হলেও একটা হিসাব যেন দাঁড় করানো যায়!
রাজনীতিতে প্রতিবাদ সাধারণত মিছিল, সমাবেশ আর স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার তার সঙ্গে যোগ হলো নাস্তার বিল, বেলচা আর কাওয়ালি দলের ভাড়ার ভাউচারও।





পাঠকের মন্তব্য