কিছুদিন আগে জার্মানির ডুইসবুর্গ নামক শহর থেকে আমার লাগেজ চুরি গেছে। একা অ্যামস্টারডাম থেকে বার্লিন যাচ্ছিলাম, পথে ওই শহরে ট্রেন চেঞ্জ ছিল। বেশ সকাল, ঘুম ঘুম চোখে বড় লাগেজটা প্ল্যাটফর্মে নামিয়ে কাঁধের ব্যাগটা নিয়ে নামতে না নামতেই দেখি লাগেজ গায়েব!
পুরো প্ল্যাটফর্ম তন্নতন্ন করে খুঁজে না পেয়ে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে গেলাম। তারা বলল ইনফরমেশন ডেস্কে যেতে। সেখানকার লোকজন বলল, পাশেই পুলিশ স্টেশন, ওখানে গিয়ে রিপোর্ট করো। ততক্ষণে মনে হচ্ছিল, যদিও চুরিই হয়, লাগেজটা ফেরত পাওয়া যাবে। সবখানে সিসিটিভি আছে না? পুলিশকে সরাসরি সেটাই বললাম, এই যে লাগেজের ছবি, এই যে প্ল্যাটফর্মে যেখানে রেখেছিলাম সেখানকার ছবি, এই যে আমার ইনফো, তোমরা ওই জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার ব্যবস্থা করো।
পুলিশের ব্যবহার বেশ অমায়িক। তারা অমায়িকভাবেই জানাল, কনস্ট্রাকশনের কারণে রিসেন্টলি ওই প্ল্যাটফর্মের আশপাশের সিসিক্যাম নামানো হয়েছে। ওখানে চুরি বেড়েছে। তারা দুঃখিত, কিন্তু তাদের কিছু করার নেই!
ট্যুর তখনো দেড় সপ্তাহ বাকি। গায়ের পোশাক বাদে লিটারেলি সঙ্গে কোনো জামাকাপড় নেই। বার্লিন শহর থেকে তখনো চার ঘণ্টা দূরে। বার্লিনে কাজিনের বাসা, তাকে ফোন করলাম। সে বলল, ওই লাগেজ আর পাওয়া যাবে না। আশা ছেড়ে দিয়ে যেন পরের ট্রেনে চলে আসি। পরে তার বন্ধুও একই কথা বলল। এসব ছোট শহরে এমন হতেই থাকে। বার্লিন হলে একটা কথা ছিল। পরেরবার যেন একটু বেশি খরচ হলেও ডাইরেক্ট ট্রেন নিই।
আমার হিসাব মিলল না। বেকার ভাতা অমুক-তমুক বেনিফিটস চালু থাকা দেশে কেন এভাবে চুরি হতে হলো? পরিষ্কার রাস্তাঘাট, পরিবেশ, আবহাওয়া আর পরম আরাধ্য বার্লিন ওয়ালকে সেদিন মনে হলো ক্রূর, নির্দয়, আনইনভাইটিং।
যাই হোক।
জার্মানির এক কিশোর সম্প্রতি বাংলাদেশে বেড়াতে এসে রাজশাহী থেকে তার ব্যাগ চুরি গেছে। সবাই উতলা হয়ে গেছে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে। ব্যাপারটা রীতিমতো ন্যাশনাল ইস্যু হয়ে গেছে। সেই ব্যাগ আবার পাওয়া না গেলেও, বাংলাদেশি লোকজন তাকে নতুন ম্যাকবুক থেকে শুরু করে দরকারি নানা জিনিসপত্র কিনে দিয়েছে। দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও রক্ষা পেয়েছে।
নিশ্চয়ই একটা ছোট শহর গোটা জার্মানিকে রিপ্রেজেন্ট করে না। নিশ্চয়ই আমার ব্যাগ পাওয়া না গেলেও আরও কারওটা পাওয়া গেছে।
কিন্তু কিন্তু।
আমার ব্যাগ চুরির সঙ্গে জার্মানির ভাবমূর্তির কিছু যায় আসে না।
ওরা ভদ্রলোকের দেশই থাকে।
ওখানে বাদামি ট্যুরিস্টের লাগেজ আহামরি ইস্যু হয় না।
এটাই আরকি।



পাঠকের মন্তব্য