এক গাইনোকোলজিস্ট মেডিকেল ম্যালপ্র্যাকটিস, আইনি ঝামেলা আর পাহাড়সমান কাগজপত্র সই করতে করতে একদম বোর হয়ে গিয়েছিলেন। চরম হতাশায় ভুগে তিনি ভাবলেন, আর এই চাকরিই করবেন না, অন্য কিছু করবেন।
তিনি ভাবলেন, এমন কোনো পেশা ধরা দরকার, যেখানে নিখুঁত হাতের কাজ লাগে। অনেক ভেবেচিন্তে তিনি অটো-মেকানিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। সোজা স্থানীয় এক টেকনিক্যাল কলেজে সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলেন। মাসের পর মাস অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে মেকানিকের অলিগলি শিখতে লাগলেন।
প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার দিন এগিয়ে আসল। ডাক্তার সপ্তাহের পর সপ্তাহ চরম প্রস্তুতি নিলেন এবং পরীক্ষার দিন নিজের সর্বোচ্চ দক্ষতা উজাড় করে ইঞ্জিন মেরামতের কাজ শেষ করলেন।
পরীক্ষার রেজাল্ট বের হওয়ার পর তো ডাক্তারের চোখ কপালে! তিনি দেখলেন, মার্কশিটে তাকে ১৫০% নম্বর দেওয়া হয়েছে! নম্বর গোনায় কোনো বড়সড় ভুল হলো কি না ভেবে তিনি খানিকটা ইতস্তত করে টেকনিক্যাল ইনস্ট্রাক্টরকে ফোন দিলেন,
স্যার, এমন রেজাল্ট পেয়ে আমি অবশ্যই খুব খুশি। কিন্তু কোনো ভুল হলো কি না বুঝতে পারছি না... ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ১৫০ পেলাম কীভাবে?
ইনস্ট্রাক্টর ফোনের ওপাশ থেকে একটু হেসে বললেন,
ভুল হয়নি, ডাক্তার সাহেব! শুনুন, আপনি পরীক্ষার সময় পুরো ইঞ্জিনটা একদম নিখুঁতভাবে পার্ট-বাই-পার্ট খুলে আলাদা করেছেন, সেটার জন্য ৫০% নম্বর পেয়েছেন। তারপর আবার পুরো ইঞ্জিনটা আগের মতো জোড়া দিয়ে পারফেক্টভাবে ফিট করেছেন, সেটার জন্য পেয়েছেন আরও ৫০% নম্বর।
এক মুহূর্ত একটু থেমে ইনস্ট্রাক্টর বললেন,
আর বাকি এক্সট্রা ৫০% নম্বর আমি আপনাকে বোনাস হিসেবে দিয়েছি। কারণ এই জীবনে প্রথমবার দেখলাম, কেউ আস্ত একটা গাড়ির ইঞ্জিনে হাত না দিয়ে সোজা গাড়ির সাইলেন্সার পাইপের সরু ফুটো দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পুরো ইঞ্জিন ডিসমেন্টাল আর অ্যাসেম্বল করে ফেলেছে...!!



পাঠকের মন্তব্য