মেট্রোরেলে উঠতে হলে এতদিন টিকিট কাটা, গেটে কার্ড পাঞ্চ করা আর ঠিক স্টেশনে নামাটাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু সম্প্রতি জানা গেল, এর সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে- আপনার প্যান্টের দৈর্ঘ্য!
সম্প্রতি ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়ে এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে প্রায় ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য। পোশাকটিকে অশালীন উল্লেখ করে তাকে ট্রাউজার পরে আসতে বলা হয়। কিন্তু হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠলে কিছু সমস্যা আছে। কী সেইসব সমস্যা? চলুন জেনে আসা যাক।
১. মেট্রোরেল স্টার্ট নেবে না
হাফপ্যান্ট পরা যাত্রী ট্রেনে উঠলেই সিগন্যাল সিস্টেমে নতুন সতর্কবার্তা আসতে পারে- সম্মানিত যাত্রীবৃন্দ, আপনাদের শালীনতা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকবে, কারণ বাংলাদেশে ট্রেনের চাকা থামার কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি নৈতিক ত্রুটিও এখন বিবেচ্য।
২. মাঝপথে দরজা খুলে যেতে পারে
মেট্রোরেল চলতে চলতে হঠাৎ কোনো যাত্রী হাফপ্যান্ট পরে আছে দেখা গেলে দরজা খুলে যেতে পারে। কারণ নিরাপত্তার জন্য দরজা বন্ধ রাখা জরুরি হলেও শালীনতার প্রশ্নে দরজা খুলে দেওয়া জরুরি- কোনটা আগে, সেটা পরিস্থিতি বুঝে ঠিক করা হবে।
৩. মশারাও সুযোগ পেয়ে যাবে
হাফপ্যান্টের কারণে মশার কামড় খাওয়ার জায়গা বেড়ে যাবে। এতদিন মেট্রোরেলের ভেতরে মশা ঢুকলে যাত্রীদের দোষ ছিল না। কিন্তু অপরাধীর দোষ দেখার বদলে যেভাবে ভিক্টিমের পোশাক দেখা হয়, সেভাবে এখানেও ভিক্টিম ব্লেমিংয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এখন থেকে মশা কামড়ালেও দায়টা পোশাকের ওপর দেওয়া যাবে এ বলে যে- শালীন পোশাক পরলে মশাটা ঢুকতে পারত না! কিংবা ভদ্র ঘরের পুরুষরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠে না!
৪. দেশের GDP-ও ঝুঁকিতে পড়তে পারে
মানুষ হাফপ্যান্ট পরলে কাপড় কম কিনবে, কাপড় কম কিনলে কাপড়ের ব্যবসা কমবে, ব্যবসা কমলে উৎপাদন কমবে। অতএব অর্থনীতিকে বাঁচাতে এখনই ট্রাউজার কিংবা ফুলপ্যান্ট পরা শুরু করা উচিত। আজকের হাফপ্যান্ট আগামীকালের GDP সংকট- জাতীয় ক্যামপেইন বাতাবিলেবুর বাম্পার ফলনকে সরিয়ে নতুন শিরোনাম হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবে।
৫. মেট্রো আপনার স্টেশনে নাও থামতে পারে
হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোতে উঠলে আপনি যে স্টেশনে নামবেন, মেট্রো হয়তো সেখানে থামবেই না। বরং শালীনতার ভারে ট্রেন এতটাই উত্তেজিত হয়ে যেতে পারে যে স্টেশন পেরিয়ে সোজা আকাশে উঠে যাবে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলেও অন্তত আকাশ ভ্রমণটা হয়ে যাবে।
৬. পুলিশ চাঁদাবাজ ধরার সময় পাবে না
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো, চাঁদাবাজ ধরা কিংবা ছিনতাই ঠেকানোর মতো পুরোনো দায়িত্বগুলো আপাতত কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। কারণ মেট্রোরেলে কে হাফপ্যান্ট পরে উঠল, সেটা আটকাতেই পুলিশকে দিনরাত ব্যস্ত থাকতে হবে।
৭. মেট্রোরেলে হাফপ্যান্ট পরা ঠেকাতে নতুন বাহিনী নামতে পারে
চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে যতজন পুলিশ লাগে, তার চেয়েও বেশি সদস্য মোতায়েন হতে পারে মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে। হাতে থাকবে ওয়াকিটকি, চোখ থাকবে যাত্রীদের হাঁটুতে- দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবশেষে পাওয়া যাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টহল।
৮. হাফপ্যান্ট দেখলেই জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে
মেট্রোরেল স্টেশনে একজন হাফপ্যান্ট পরা যাত্রী ঢুকলেই সাইরেন বেজে উঠবে, গেট বন্ধ হয়ে যাবে, যাত্রীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এসে বলবে- আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, শুধু একজন নাগরিক স্বাধীনভাবে পোশাক পরেছেন!
৯. মেট্রোরেলের ভাড়া বাড়তে পারে
হাফপ্যান্ট পরা যাত্রীদের কারণে মেট্রোরেলের ওপর অতিরিক্ত নৈতিক চাপ তৈরি হওয়ায় ভাড়া বাড়াতে হতে পারে। বাড়তি টাকা যাবে পোশাক যাচাই, হাঁটু পর্যবেক্ষণ ও শালীনতা রক্ষার পেছনে- যাত্রীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, ভাড়ার সঙ্গে তাদের পোশাকেরও একটা মূল্য আছে।
১০. হাফপ্যান্ট পরলেই মেট্রোরেল আপনাকে চিনে রাখবে
একবার হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠলে আপনার ছবি, নাম ও যাত্রার ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখা হতে পারে। ভবিষ্যতে একই অপরাধ নিয়ে আবার উঠলে সিস্টেম নিজেই সতর্ক করবে, এই যাত্রী আগেও হাঁটু নিয়ে সন্দেহজনক আচরণ করেছেন।
শেষ পর্যন্ত সমস্যা হাফপ্যান্ট কতটুকু লম্বা, সেটা নয়। সমস্যা হলো, কোনো নিয়মে নিষেধ না থাকলেও একজন নাগরিককে নিয়মের নামে থামিয়ে দেওয়ার অভ্যাসটা কত লম্বা।
মেট্রোরেলের ড্রেস কোড নেই। কিন্তু কারও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করার লোকের কোনো অভাবও নেই। বরং তারা এতটাই দায়িত্বশীল যে, দেশের কোথায় কী হচ্ছে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে দেখে নিতে হবে, আপনার প্যান্ট ঠিক আছে কি না!


