প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক বলছিলেন, আমি একবার মিস্টার এ কে ফজলুল হকরে যাইয়া কইলাম, আমি আপনের জীবনীটা লেখবার চাই। আপনে যদি দয়া কইর্যা পারমিশনটা দেন, কাজ শুরু করবার পারি।
হক সাহেব তখন ইস্ট পাকিস্তানের গভর্নর। আমার প্রস্তাব শুইন্যা খেকাইয়া উইঠ্যা কইলেন, আমার জীবনী লেখতে চাও, নিশ্চয়ই তোমার একটা মতলব আছে।
আমি কইলাম, মতলব ত একটা অবশ্যই আছে।
হক সাহেব কইলেন, আগে হেইডা কও।
আমি কইলাম, আপনে যখন গাঁও-গেরামে যান, মাইনষের লগে এমন ব্যবহার করেন, তারা মনে করে জনমভর আপনে গাঁও-গেরামে কাটাইয়া তাগো সুখ-দুঃখের অংশ লইতাছেন। তারপরে গাঁও-গেরাম থেইক্যা ঢাকা শহরে আইস্যা আহসান মঞ্জিলের ছাদে উইঠ্যা নওয়াব হাবিবুল্লাহর লগে যখন ঘুড্ডি উড়ান, লোকজন দেইখ্যা আপনেরে নওয়াববাড়ির ফরজন্দ মনে করে। তারপরে আবার যখন কলিকাতায় যাইয়া শ্যামাপ্রসাদের লগে গলা মিলাইয়া শ্যামাপ্রসাদরে ভাই কইল্যা ডাক দেন, কলিকাতার মানুষ চিন্তা করে আপনে শ্যামাপ্রসাদের আরেকটা ভাই। বাংলার বাইরে লখনৌ কিংবা এলাহাবাদে গিয়া মুসলিম নাইট নবাবগো লগে যখন বয়েন, দেখলে মনে অইব আপনে তাগো একজন।
এই এতগুলা ভূমিকায় আপনে এত সুন্দর সাকসেসফুল অভিনয় করতে পারেন, এইডা ত একটা মস্ত ক্ষমতা। এই ক্ষমতা স্যার অলিভার লরেন্সেরও নাই। এই অভিনয়ক্ষমতার একটা এনকোয়ারি আমি করবার চাই। আর নইলে আপনের আসল গুণপনা কোথায়, হেইডা ত আমাগো অজানা নাই।
হক সাহেব হুঙ্কার ছাইড়্যা জিগাইতে লাগলেন, তুমি আমার সম্পর্কে কী জান?
আমি কইলাম, আপনে সুন্দর সুন্দর বিশ্বাসযোগ্য মিছা কথা কইবার পারেন।
আমার জবাব শুইন্যা হক সাহেব হা হা কইর্যা হাইস্যা উঠলেন।



পাঠকের মন্তব্য