পাবলো দিয়েগো হোসে ফ্রান্সিসকো ডি পাওলা হুয়ান নেপোমুসিনো মারিয়া দে লস রেমেদিওস সিপ্রিয়ানো দে লা সান্তিসিমা ত্রিনিদাদ রুইজ ই পিকাসো! চেনেন নাকি? আরে, চেনেন, চেনেন! নামটা শুনে একটু তব্দা লেগে গেছে আরকি! বিশাল নামের মতো বিশাল জীবন ও কর্মের অধিকারী পাবলো পিকাসো।
আসুন, আজ দেখে নিই এই জিনিয়াসের কিছু মজার কাণ্ড…
১.
পিকাসোর আঁকাআঁকির শুরু হয়েছিল তার বাবার আঁকা কবুতরের পা আঁকার মধ্য দিয়ে। তাঁর বাবাও একজন আর্টিস্ট ছিলেন। বাবা কবুতর আঁকতেন, আর ছেলে আঁকতেন তার পা!
২.
যখন প্যারিসে নতুন এসে থাকা শুরু করেন, তখন তার অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে অনেক সময় নিজের কোনো স্কেচ বা ছবি পুড়িয়ে ঘর গরম রাখতেন!
৩.
আর যখন তিনি ফেমাস হয়ে গেলেন, তখন রেস্টুরেন্টে বিল দেওয়ার বদলে চেকে স্কেচ এঁকে দিতেন। কিন্তু রেস্টুরেন্টের মালিকেরা সেই চেক আর কখনো ভাঙাতে যেতেন না!
৪.
আইনস্টাইনকে পিকাসো ভাবতেন নিজের রাইভাল! বলতেন, তার কিউবিজম আইনস্টাইনের রিলেটিভিটির চেয়ে বেশি পাওয়ারফুল! মজার ব্যাপার হচ্ছে, দুজনেরই ডিসলেক্সিয়া ছিল। পড়তে ও লিখতে তাদের খুব কষ্ট করতে হতো।
৫.
‘মোনালিসা’র চোর বলে সন্দেহ করা হয়েছিল পিকাসোকে। ১৯১১ সালে মোনালিসা চুরি হলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন।
৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্যারিসে পিকাসোর স্টুডিওতে এক নাৎসি জার্মান অফিসার আসেন। টেবিলের ওপর ‘গুয়ের্নিকা’ ছবির একটি পোস্টার দেখে অফিসার বিরক্ত হয়ে পিকাসোকে জিজ্ঞেস করেন, এটা কি আপনার কাজ?
পিকাসো সোজা অফিসারের চোখের দিকে তাকিয়ে জবাব দিয়েছিলেন, না, এটা আপনারা করেছেন!
৭.
পিকাসো সব সময় নিজের সঙ্গে গুলিভরা একটি রিভলভার রাখতেন। কেউ তার শিল্পের সমালোচনা করলে বা বোরিং কথা বললে, ভয় দেখানোর জন্য তিনি শূন্যে গুলি ছুড়তেন!
৮.
তার শিল্পীজীবনকে কয়েকটি আলাদা পর্বে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্লু পিরিয়ড (১৯০১–১৯০৪), রোজ পিরিয়ড (১৯০৪–১৯০৬), আফ্রিকান পিরিয়ড (১৯০৭–১৯০৯), কিউবিজম (১৯০৯–১৯১৯) এবং পরবর্তী সময়ের নিও-ক্ল্যাসিক্যাল ও সাররিয়ালিস্ট ধারার কাজ।
৯.
পিকাসো কোনো কিছুই সহজে ফেলতেন না, সব জমিয়ে রাখতেন। তার বিশাল বাড়ির একেকটা রুম যখন জিনিসপত্রে ভরে যেত, তখন তিনি সেই রুমে তালা মেরে পাশের রুমে চলে যেতেন!
১০.
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, পিকাসো ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম কর্মঠ শিল্পী। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে পেইন্টিং, স্কেচ, ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিল্পকর্ম তৈরি করেছিলেন।
১১.
পিকাসোর আঁকা ছবিই অন্য যেকোনো শিল্পীর তুলনায় সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়! এখন পর্যন্ত তাঁর প্রায় ১,১০০টি শিল্পকর্ম নিখোঁজ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেমন তার নাম, তেমনই তার কাজ-কারবার! তাই না?



পাঠকের মন্তব্য