অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণা ইউনেস্কোর। অপরাধীরা ধন্যবাদ দিল সালাউদ্দিন আহমেদকে

৪৪ পঠিত ০ ... ১৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে

6 (24)

ঐতিহ্যবাহী ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং আইনের শাসনের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি, পুলিশের অলৌকিক নিষ্ক্রিয়তা এবং দিনে-দুপুরে পরম শান্তিতে মব-সহিংসতা চর্চার এক অবাধ ও সুসংগঠিত পরিবেশ উপহার দেওয়ায় সমগ্র বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব অপরাধী অভয়ারণ্য ও মুক্ত-মব চর্চা কেন্দ্র’ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)।

প্যারিস থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, পৃথিবীর যেকোনো সভ্য দেশে অপরাধ করার পর পুলিশের তাড়া খাওয়ার বা আদালতের সাজার ভয় থাকে, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ফেসবুক লাইভে এসে মানুষ জড়ো করে মহড়া দেওয়া যায়, সাতক্ষীরায় পুলিশ হেফাজতে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানুষকে টেনে বের করে পিটিয়ে হত্যা করা যায়, কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে পীর সাহেবকে ডজনখানেক কোপ দিয়ে হত্যা করা যায়, কিংবা রাজধানী মিরপুরের শাহ আলী মাজার থেকে শুরু করে দেশের শতাধিক মাজারে মুখোশ পরে লাঠি-রড নিয়ে অবাধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়ে বহাল তবিয়তে বাড়ি ফিরে যাওয়া যায়।

ইউনেস্কোর পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক বিশেষ কমিশন মন্তব্য করেছে যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে থ্রিল বা রোমাঞ্চের জন্য প্যারাস্যুট জাম্পিং বেছে নেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশে মব কালচার ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এখন বিকেলের সাধারণ জনপ্রিয় বিনোদনে পরিণত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই মহা-স্বীকৃতি অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে রাজপথে নেমে এসেছে দেশের ‘জাতীয় ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মব-উৎসাহী ও মাজার-ভাঙচুর যৌথ সংগ্রাম পরিষদ’।

এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অপরাধী চক্রের নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রতি বিশেষ কৃপাধন্য কৃতজ্ঞতা ও সাশ্রু ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, মন্ত্রী মহোদয় যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধ সত্ত্বেও সংসদে ও মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অবিচল ও নির্ভীক মুখে ‘অপরাধ গত ১৫ বছরের চেয়ে কমেছে’, ‘মব সংস্কৃতি শেষ’ এবং ‘জিরো টলারেন্স নীতি চলছে’ বলে আশ্বস্ত করে চলেছেন, তা তাঁদের কাজের গতি ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারা আরও বলেন, মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে মাত্র ১৩১ জন এবং পরবর্তী তিন মাসে ৫৪ জন মব-পিটুনিতে নিহতের পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ কথার আসল অর্থ হলো অপরাধীদের কাজে শূন্য শতাংশ হস্তক্ষেপ করা। বিশেষ করে, মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা স্টুডিওতে হামলার সময় পুলিশ যেভাবে নীরব দর্শকের মতো শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করেছে, সেই অনন্য ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলার একক কৃতিত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরই প্রাপ্য।

৪৪ পঠিত ০ ... ১৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে

Top ​