ধানক্ষেতের মইধ্যে পাগলের মত দৌড়াইতাছে এক মাইয়া! একবার এদিক, আরেকবার ওদিক। প্যাচপেচে প্যাকে আইটকা যাইতাছে পা,ভার হইয়া ছাইড়া দিতাছে শরীর। তবুও সে দৌড়াইতাছে! কি করব? উপায় নাই; অমুল্য দুই জিনিস- জান আর ইজ্জত বাঁচাইতে হইব তো! পিছে ঘুরতাছে দানব! থামলেই খাইয়া ফেলাইব সব! নিজেরে বাঁচাইতে তো হইব!
কিন্তু শেষরক্ষা তো হইল না! সব গেল! মিশ্যা গেল মাডিতে! মাইয়াডি তো হইছে মিছরির পুতুল- ঠোকা দিব তো ভাইঙ্গা শ্যাষ! আহারে মাইয়া মানুষ! শইলে শক্তি নাই, কোন সিস্টেম জানা নাই- বেডারুপী রাক্ষসটির লগে পারব কেমনে? আমাগো মাইয়াডি এমুন ক্যান? নিজেরে বাঁচানোর ক্ষমতা নাই কিন্তু তারই বাঁচানো লাগব জানের চাইয়াও ওজনদার জিনিস- ইজ্জত! নাইলে বাঁইচ্যা লাভ নাই। সমাজ আছে- জ্যান্তই মাইরা ফালাইব!
আজকের মাইয়াগো অবস্থা যেন বড় নাজুক হইছে। মাইয়ারা তো এতো দুর্বল আগে ছিল না। আমরা যদি পলিওলিথিক সমাজের তাকাইয়া দেখি, সেইকালে মাইয়ারা আছিলো আর্থ-সামাজিকভাবে পুরুষের কাছাকাছি। তারা শিকার করত পুরুষগো লগে সমান তালে। তাই মাইয়াগো ওপর নির্যাতনডা হইত কম। কিন্তু যদি হইত তাইলে মাইয়ারা হইয়া যাইত হেইরকম পাওয়ারফুল। তারা কামড়াইতো, আচড়াইতো, ছিড়া ফালাফালা কইরা ফালাইত! নিষ্ঠুরতার জবাব হইত নিষ্ঠুরতা!
এরপর যখন কৃষিকাজের আমল শুরু হইল তখন আস্তে আস্তে নারীগো সম্পত্তির লাহান ইউজ করা শুরু হইল। কিন্তু তখনকার নারীরাও নিজেদের ওপর নির্যাতনের বদলা নিত কঠোরভাবেই। গ্রামীণ সমাজে নারীরা মাঠে কাম করার কাস্তে, কুঠার, ঢেঁকির মুষল, কিংবা রান্নার গরম খুন্তি বা ছাই- এইসব সাধারণ গৃহস্থালী ও কৃষিকাজের জিনিসগুলাকেই ইন্সট্যান্ট সেল্ফ-ডিফেন্সে ইউজ করতেন। অনেক সময়ই বঁটি, লাঠি দিয়া উপড়াইয়া দিতেন দানবডিরে। অনেক সময়ে দিতেন বিষ। মধ্যযুগে বিষপ্রয়োগ টর্চার মোকাবেলার একটা বড় উপায় আছিলো।
তাছাড়া একা না পারলে নিজেগো মত আরও মাইয়ালোক জোগাড় করতেন একলগে মোকাবিলা করনের জন্য। পঞ্চায়েতে বা নালিশ সভায় নালিশ কইরা আসতেন। তাতে অপরাধী শাস্তি না পাইলেও তার রেকর্ড থাইকা যাইত! যদি শেষ পর্যন্ত না পারতেন তাহলে অন্য জায়গায় চইলা যাইতেন।
সময় আরও আধুনিক হইল। ইতিহাসের পাতার মাইয়ারা আস্তে আস্তে জুডো, তায়কোয়ান্ডো, জুজিৎসু, বক্সিং শিখল। কিন্তু তারা স্পেশাল গোত্র! সমাজ সভ্য সভ্য কইয়া মাইয়াগো ঢুকাইল ঘরে। মাইয়াগো বানাইয়া রাখতে চাইল পুতুল। নড়বা চড়বা না, খাবা আর সন্তান জন্ম দিবা! জোরে কথা বলবা না, পুরুষের মুখে মুখে উঠবা না। কেউ ছুঁইয়া দিলে তোমারই দোষ! রেপ হইলেও তোমার দোষ! কারণ পুরুষ হইল সোনার আংটি, ওইডা তো বাঁকা হইলেও ভালো! সাধারন মাইয়ারা আস্তে আস্তে নির্ভরশীল হইয়া পড়ল। পুরুষ আর সমাজের হাতে চইলা গেল তাদের নিরাপত্তা।
কিন্তু আজকে যে দিন আসছে! ফ্যামিলি কোনো প্রতিকার করতে পারে না, রাষ্ট্র-সরকার হা কইরা বইসা থাকে, ভিক্টিম ব্লেমিং করে, নিজেদের নিরাপত্তা নিজেগো সামলাইতে কয়- হেইহানে? অবশ্যই মাইয়াগো ব্রুটাল হইতে হইব! নিজেরে বাঁচানোই সবচেয়ে বড় কথা এইখানে!
এমন যেকোন কিছু তারা সাথে রাখতে পারব যা দিয়া আত্মরক্ষা সম্ভব। পিপার স্প্রে, টিজার এইসব তো অনেকেই রাখে। এর চেয়েও পাওয়ারফুল কিছু হইলেও প্রবলেম নাই। কারন রাষ্ট্র তাদের কইছে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদের নিশ্চিত করতে। সবার তো আর ক্যারাটে-মার্শাল আর্ট শেখা সম্ভব না। যারা পারল, পারল- যারা পারব না হেরা? হের৷ চুপচাপ এইসব দানবের বলি হইব? মোটেই না। নিজেগো সেফ রাখতে যা করন লাগে সেইটা মাইয়ারা নিজেরাই দেখব। হাত পা ছুঁড়ব, দাঁত দিয়া কামড়ায়া ছিঁড়্যা ফালাইব, নখ দিয়া চোখ গাইল্লা ফালাইব! দানবের সাথে দানবী হইয়া লড়ব! আর সরকাররে সেইটা মাইনা নিতে হইব! নিরাপত্তা না দিতে পারলে আক্রমণের পারমিশন দিতে হইব!
আধুনিক সমাজে যেই ব্রুটালিটির সাক্ষী আমরা ডেইলি হইতাছি তার উপযুক্ত জবাব শুধু ব্রুটালিটিই হইতে পারে। সভ্য হইয়া লাভ কী যদি বাঁচতেই না পারি? দানব ভার্সাস মিছরির টুকরা হইলে হইব না। প্রতিপক্ষের শয়তানরে দমনের জন্য যা করন লাগে করতে হইব ! আমি আমারে বাঁচামুই সেডা যেমনেই হোক!
দানবটা মনে দানব, শরীলে মানুষই। উইক পয়েন্ট তার থাকবই। অ্যাটাক করতে হইব সেইখানে- যা দিয়াই হোক। সেল্ফ ডিফেন্সই সব। আর এইটা নারীরা পারেও। তার প্রমান ইতিহাসের পাতা!
অতএব বইনেরা, আর সময় নাই সভ্য পুতুল হইয়া থাকার! অসভ্য হও! দানবেরে ছিঁড়্যা ফালাও! তোমার নিজের জীবনের চেয়ে বড় কিছু নাই! ঘুম থেইকা উঠো আর নিজেরে দানবী বানাও! এই অসভ্য সমাজ, সভ্য আমাদের ডিজার্ভ করে না!
তথ্যসুত্র-
- Sarah B Pomeroy, (Goddesses, Whores, Wives, and Slaves: Women in Classical Antiquity)
- Tyldesley, Joyce . (Daughters of Isis: Women of Ancient Egypt.)
- Uma Chakrabarti, . (Gendering Caste: Through a Feminist Lens.)



পাঠকের মন্তব্য