১৯৯২ সালের ২ অক্টোবর। ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরের কারানদিরু কারাগার। প্যাভিলিয়ন ৯-এ তখন প্রায় দুই হাজার বন্দি। তাদের সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন মাত্র ১৫ জন প্রহরী।
গোলমালের শুরু ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে। দুই বন্দি দলনেতা কোয়েলহো আর বারবারের মধ্যে ঝগড়া হয়। ছোট একটা ঝগড়া খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্যাভিলিয়নে। বন্দিদের হাতে চলে আসে ছুরি, পাইপসহ বিভিন্ন অস্ত্র। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
দুপুর দুইটার দিকে কারা কর্তৃপক্ষের ডাকে ভারী অস্ত্র নিয়ে মিলিটারি পুলিশ কারাগারের ভেতরে ঢোকে। নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল উবিরাতান গুইমারেস। এরপর যা ঘটে, সেটাই কারানদিরু হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত হয়ে যায়।
পুলিশ প্যাভিলিয়নে গুলি চালানো শুরু করে। মেশিনগান আর শটগানের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো জায়গা। পরে তদন্তে জানা যায়, সেদিন তিন হাজার পাঁচশোরও বেশি গুলি ছোড়া হয়েছিল। মারা যান ১১১ জন বন্দি।
অনেকের শরীরে গুলি লেগেছিল বুক, মাথা আর গলায়। অনেকের হাত ছিল মুখের সামনে বা মাথার পেছনে। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন তারা। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, নিহত ১১১ জনের মধ্যে ৩৪ জন তখনও কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি। তারা শুধু বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।
ঘটনার পর ব্রাজিলজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কর্নেল উবিরাতান গুইমারেসের বিচার হয় এবং তাকে জেলও দেওয়া হয়। কিন্তু পরে সেই সাজা বাতিল হয়ে যায়।
কারানদিরুর ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। অনেকের মতে, এই ঘটনার পরের বছরই ব্রাজিলের শক্তিশালী অপরাধী সংগঠন পিসিসির উত্থান শুরু হয়। কারাগারের ভেতরের ক্ষোভ আর নির্যাতন থেকে তৈরি হওয়া এই সংগঠন পরে ব্রাজিলের অন্যতম বড় অপরাধী চক্রে পরিণত হয়।
২০০২ সালে কারানদিরু কারাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে কারাগারটি ভেঙে সেখানে তৈরি করা হয় পার্ক দা জুভেন্তুদে। আজ সেখানে মানুষ হাঁটে, ঘোরে, শিশুরা খেলে।
কিন্তু জায়গাটা বদলে গেলেও ইতিহাসটা বদলায়নি। কারানদিরুর সেই ঘটনা পরে পরিচালক হেক্টর বাবেনকোর সিনেমা Carandiru-তেও উঠে আসে।



পাঠকের মন্তব্য