দেশের নাগরিকেরা বিদেশের মাটিতে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি, অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নাকি জানতেনই না! কারণ হিসেবে সামনে এসেছে এক অভিনব ব্যাখ্যা। কারাবন্দিদের তালিকায় ব্যবহৃত শ্রেণিবিন্যাস দেখে তাঁরা ধারণা করেছিলেন, দুই বাংলাদেশির হয়তো ছয় মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড যে অপেক্ষা করছে, সেই খবর তাদের হিসাবের খাতায় ছিল না। ফলে দুই বাংলাদেশির জীবন-মৃত্যুর মতো গুরুতর একটি বিষয়ও তাঁদের নজর এড়িয়ে গেছে।
এখন প্রশ্ন হলো, যেখানে মানুষের জীবনের হিসাব রাখার কথা, সেখানে হিসাবের ভুল হয় কীভাবে? যে দায়িত্বের সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন জড়িয়ে আছে, সেখানে এমন ভুল কীভাবে সম্ভব? জেদ্দা মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে কাল্পনিক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, দেখুন, আমরা তো মানুষ, ক্যালকুলেটর নই। তালিকায় কী লেখা ছিল, কী বোঝানো হয়েছিল, এসব বুঝতে একটু সময় লাগে। আর আমরা তখন ঘুমে ছিলাম, তাই হিসাব ছিল না। মৃত্যুদণ্ড আর কারাদণ্ডের মধ্যে যে সামান্য একটা পার্থক্য আছে, সেটা ঘুমের মধ্যে ধরতে পারিনি। বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত, আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তারা আরও বলেন, আসলে আমরা ভেবেছিলাম, ছয় মাস থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিষয়। তাই বিষয়টি নিয়ে অতটা চিন্তিত হওয়ার কিছু দেখিনি। কিন্তু পরে যখন জানলাম, ব্যাপারটা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত গড়িয়েছে, তখন বুঝতে পারলাম হিসাবটা একটু বেশিই ভুল হয়ে গেছে। তবে ভুল তো মানুষেরই হয়, তাই না? সবকিছু তো আর ঘুমের মধ্যে পরিষ্কার বোঝা যায় না। এদিকে আরেক কর্মকর্তা এক ভিডিও কলে আমাদের বলেন, দেখুন, সরকারি চাকরি করতে করতে আমাদের শরীরে অনেক চর্বি জমেছে। একটু স্পিড মানির ব্যবস্থা না হলে সে চর্বিগুলো নড়তে চায় না। আর ওখানে তো স্পিড মানির ব্যবস্থা নেই, তাই আমাদের ঘুম সহজে ভাঙে নাই। সরি।
তিনি আরও বলেন, আপনারা বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখছেন। আমরা কিন্তু ঘুমের মধ্যেও দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি। তবে কিছু কিছু খবর এতটাই গুরুতর যে সেগুলো ঘুমের মধ্যে বুঝে ওঠা কঠিন। কারাদণ্ড আর মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে পার্থক্যটা যে এত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা এখন বুঝতে পারছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের তালিকা দেখার আগে ভালো করে ঘুম ভেঙে নেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।


