সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় আলেম-ওলামারা। তাদের দাবি, দিরাইয়ে এর আগে ফুটবল ম্যাচ হয়নি, আর মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ অশ্লীল। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে পক্ষে-বিপক্ষে নানাবিধ আলোচনা-সমালোচনা চললেও স্থানীয় আলেম-ওলামাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সিগমা মেইল এসোসিয়েশন।
তবে সংগঠনটি মনে করছে, শুধু দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল বন্ধ করে খুব বেশি লাভ হবে না। তাদের মতে, এই আন্দোলন এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়া দরকার। অর্থাৎ দিরাই থেকে শুরু করে সরাসরি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সিগমা মেইল এসোসিয়েশনের এক সদস্য বলেন, শুধু দিরাইয়ে কেন? বিশ্বকাপেও মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধ করা উচিত। এগুলো অশ্লীল কিন্তু মেয়েদের ফুটবলকে ঠিক কীভাবে অশ্লীল এবং ছেলেদের ফুটবলকে ঠিক কীভাবে শ্লীল করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নারীর কাজ মূলত গরে তাকা এবং সন্তান লালোন-পালোন করা। ফুটবল খেলা, মাঠে দৌড়ানো কিংবা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো কাজ নারীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এদিকে দিরাইয়ের একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচ থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন বিশ্বকাপ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় ফুটবল বিশ্বে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই মেয়েদের ফুটবল বন্ধের পর মেয়েদের ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার এবং অন্যান্য খেলাধুলার বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক আন্দোলন শুরু হতে পারে। তবে সিগমা মেইল এসোসিয়েশন জানিয়েছে, আপাতত এতদূর যাওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। কারণ আগে বিশ্বকাপটা বন্ধ হোক। তারপর দেখা যাবে।


