ঢাকার জলাবদ্ধতা, মশা আর যানজট—এই তিনের যাঁতাকলে পিষ্ট নগরবাসীর জন্য এবার এক অভাবনীয় চমক নিয়ে এলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নাগরিক সেবার মান বাড়াতে এবার বিশেষ কোটায় নিয়োগ দেয়া হবে এমন তরুণ-তরুণীদের, যারা মূলত ‘জাপান সমর্থক’ বা ‘জাপানিজ পপ-কালচার’-এ বিশেষজ্ঞ।
সিটি কর্পোরেশনের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমরা খেয়াল করেছি, ড্রেনের ওপর লতাগুল্মের জঙ্গল আর রাস্তার খানাখন্দ ঠিক করতে গিয়ে আমাদের প্রথাগত প্রকৌশলীরা হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আমরা ভাবলাম, যারা জাপান নিয়ে মাতামাতি করে, তাদের নিয়োগ দেয়া যাক। তারা যেহেতু সবকিছুতে জাপানিজ পারফেকশন খোঁজে, তাই তারা অন্তত রাস্তাটা ঠিক না করতে পারলেও সেটাকে দেখতে জাপানিজ এস্থেটিক করে তুলবে।
নিয়োগের যোগ্যতা ও কার্যাবলি:
সূত্র অনুযায়ী, নিয়োগের জন্য বেশ কিছু অদ্ভুত কিন্তু যুগান্তকারী শর্ত রাখা হয়েছে:
- নিয়োগপ্রাপ্তরা ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার না করে সেগুলোতে শ্যাওলা আর পাথর দিয়ে ‘জাপানিজ জেন গার্ডেন’ তৈরি করবেন। এতে মশা উৎপাদন হলেও পরিবেশটা অন্তত দেখতে চমৎকার লাগবে।
- যানজটের সময় রাস্তা পারাপারে সহায়তা করার পরিবর্তে নিয়োগপ্রাপ্তরা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে মিউজিক প্লে করবেন। এতে জনগণের মেজাজ অন্তত কিছুটা হলেও ফুরফুরে থাকবে।
- মশা মারার ধোঁয়া ছিটিয়ে পরিবেশ দূষণ না করে, এরা মশাগুলোকে Sushi খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শহর থেকে বের করে দেয়ার বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।
- ঢাকার ভাঙা রাস্তাগুলোকে ঠিক না করে সেগুলোর ওপর জাপানিজ ভাষায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হবে, যেন বিদেশিরা ভুল করে মনে করে তারা টোকিওতে আছে।
ঢাকা উত্তরের মেয়র মহোদয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, যারা জাপানিজ সিনেমা দেখে অভ্যস্ত, তারা জানেন কীভাবে ঝকঝকে থাকতে হয়। আমরা আশা করছি, আমাদের অফিসগুলো এখন থেকে কাগজের ফাইলের বদলে সামুরাই তলোয়ার দিয়ে ফাইল প্রসেস করবে, এতে কাজের গতি বাড়বে।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যারা নিয়মিত রামেন নুডলস খায়, তাদের আমরা ঢাকা শহরের খোলা ড্রেনগুলোর পাশে বসিয়ে দেব। তারা নুডলস খাওয়ার সময় ড্রেনের পানি দেখে এটা দাবি করবে যে, এগুলো আসলে জাপানের কোনো এক আধুনিক সুয়ারেজ সিস্টেমের অংশ।
এই খবরে সাধারণ নগরবাসী মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মিরপুরের এক বাসিন্দা বলেন, রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি পার হতে গিয়ে যখন দেখব একদল তরুণ অ্যানিমে কসপ্লে পরে জাপানিজ ভাষায় আমাকে বলছে গণবাতে কুদসাই (চেষ্টা চালিয়ে যান), তখন হয়তো আমার কষ্টটা কিছুটা কমবে।
এদিকে, নিয়োগের খবর শুনে ধানমন্ডি ও উত্তরায় বসবাসরত ওটাকুদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। অনেকেই তাদের সিভি রেডি করছেন ‘কাটানা’ চালানোয় দক্ষতাকে বড় করে দেখিয়ে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী মাস থেকেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের অফিসগুলোতে জাপানিজ চা-চক্র বা টি সেরিমনি শুরু হবে, যা অফিসের ফাইল জট নিরসনে প্রথাগত আমলাতন্ত্রের চেয়ে বেশি কার্যকরী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


