যে মানুষটি হুমায়ূন আহমেদকে চিনেছিলেন সবার আগে

১৭৫ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে

 

সেদিন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামার কথা ছিল, কিন্তু নামেনি। ঢাকার বাতাসটা কেমন যেন ভারী হয়ে ছিল, ঠিক যেন একটা নতুন কিছু প্রসব করার অপেক্ষায় থাকা কোনো গর্ভবতী নারীর মতো। আমি তখন থাকি নীলক্ষেতের এক চিলতে ঘরে, যেখানে বইয়ের স্তূপ আর চায়ের কাপের দাগ ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই। মানুষের জীবনটা অদ্ভুত। কেউ ঘর বাঁধে, কেউ সংসার বাঁধে, আর আমার মতো কেউ কেউ শুধু খবরের কাগজ আর সিগারেটের ধোঁয়া বুনে জীবন পার করে দেয়।

হঠাৎ একদিন এক তরুণ আমার ঘরে এসে দাঁড়াল। উষ্কখুষ্ক চুল, চোখে চশমা, কিন্তু সেই চোখের ভেতরে একটা অদ্ভুত মায়া আর এক জেদি রকমের প্রতিভা লুকিয়ে আছে। ছেলেটার নাম হুমায়ুন। রসায়নের ছাত্র, অথচ পকেটে লুকিয়ে রেখেছে এক টানটান পাণ্ডুলিপি। নাম রেখেছে, নন্দিত নরক।

আমি পাণ্ডুলিপিটা হাতে নিলাম। পাতাগুলো ওল্টাতে ওল্টাতে আমার বুকের ভেতর কেমন যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠল। আরে, এ তো সাধারণ কোনো লেখা না! এ তো একেবারে খাঁটি সোনা। বাংলা সাহিত্যের চাকাটা যে এই ছেলেটা ঘুরিয়ে দেবে, সেটা আমি ওই প্রথম দিনই বুঝতে পেরেছিলাম। আমাদের এই তথাকথিত বিদগ্ধ সমাজ, যারা সারাক্ষণ ড্রয়িংরুমে বসে চিল্ড বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে বিপ্লবের গল্প ফাঁদে, তারা এই লেখার মর্ম বুঝবে না।

আমি হুমায়ুনকে বললাম, মিয়া, তুমি তো জাদুকর। এই বই প্রকাশ করতেই হবে।

টাকা পয়সা নেই, প্রকাশক পাওয়া তো আরও ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু ছফা দমে যাওয়ার পাত্র নয়। খান ব্রাদার্সের পিছে লেগে থেকে, প্রায় জোর করেই বইটা প্রকাশের ব্যবস্থা করলাম। বই বের হওয়ার পর চারদিকে হইচই পড়ে গেল। হুমায়ুন তো অবাক, তার চশমার আড়ালে চোখ দুটো চকচক করে উঠত।

মনে আছে, এক রাতে আমরা দল বেঁধে নীলক্ষেতের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। চারপাশ নিঝুম, শুধু দু-একটা নেড়ি কুকুর আমাদের পিছু নিয়েছে। হুমায়ুন, তার ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সবাই আমার পেছনে হাঁটছে, যেন আমি কোনো হন্টন পীর! আমি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালাম। মাথার ওপর নিয়ন আলোর আবছা আলো, আর বুকের ভেতর এক মহাসমুদ্রের গর্জন। আমি দুই হাত আকাশে তুলে চিৎকার করে উঠলাম, আমার বাংলাদেশ! দেখে যাও তোমরা, এই আমার বাংলাদেশ!

হুমায়ুন আমার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। ও হয়তো ভাবছিল, এই লোকটা এত বোহেমিয়ান, এত পাগল কেন? কিন্তু ও জানত না, এই পাগলামি টুকুই এই দেশের আসল প্রাণ।

তারপর... তারপর তো এলো সেই ১৯৭২ সালের এক ভয়ঙ্কর দিন। হুমায়ুনদের শহীদ পরিবারের বাড়িটা যখন কিছু লোভী মানুষ কেড়ে নিতে চাইল, তখন আমার ভেতরের ছফা জেগে উঠল। আমি তো শুধু মুখে বিপ্লব করার মানুষ নই।

সেই দিনটার কথা মনে হলে এখনো আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন জ্বলে ওঠে। ঢাকার আকাশ তখনো স্বাধীন দেশের নতুন সূর্য চেনার চেষ্টা করছে, কিন্তু মানুষের ভেতরের লোভ আর হিংস্রতা একবিন্দুও কমেনি।

হুমায়ুনের বাবা ফয়জুর রহমান সাহেব মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। এই স্বাধীন দেশটা তাঁর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। অথচ স্বাধীনতার পরপরই একদল লোভী, সুযোগ সন্ধানী মানুষ হুমায়ুনদের শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা বাড়িটা থেকে ওদের উচ্ছেদ করার জন্য মেতে উঠল। বিধবা মা আর একঝাঁক ছোট ছোট ভাইবোন নিয়ে হুমায়ুন তখন দিশেহারা। ওর ওই চশমা পরা মায়াবী চোখে আমি গভীর অন্ধকার দেখতে পাচ্ছিলাম।

আমি ছফা, জীবনে কোনোদিন নিজের জন্য একটা ঘর বানাইনি, সংসার করিনি। ক্ষমতার লোভ বা বৃত্তের মোহ আমাকে কোনোদিন ছুঁতে পারেনি। কিন্তু একটা শহীদ পরিবারের ওপর এই অন্যায় আমি জ্যান্ত থাকতে মেনে নেব? অসম্ভব!

আমি হুমায়ুনকে বললাম, মিয়া, তুমি ভাবছ ছফা ভাই বেঁচে থাকতে তোমরা রাস্তায় দাঁড়াবে? এই দেশটা কি এই বদমাশদের বাপের সম্পত্তি?

কোনো আইনি নোটিশ, কোনো টেবিলে বসে ভদ্র আলোচনা—এসবের সময় তখন ছিল না। ক্ষমতাশীলেরা যখন বধির হয়ে যায়, তখন তাদের কান ফাটানোর জন্য চরম কিছু করতে হয়। আমি সোজা চলে গেলাম ওদের সেই বাড়ির সামনে। এক হাতে একটা দিয়াশলাই, আর অন্য হাতে এক টিন খাঁটি কেরোসিন।

চারপাশে মানুষ জমে গেছে। হুমায়ুন আর ওর ভাইয়েরা আতঙ্কে ফ্যাকাশে হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি পুরো টিনটা কাত করে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢালতে শুরু করলাম। চড়া গন্ধটা আমার নাকে-মুখে ঢুকে যাচ্ছিল, কিন্তু আমার মাথায় তখন একটাই জেদ—যদি এই শহীদ পরিবার উচ্ছেদ হয়, তবে আহমদ ছফা নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে এই তথাকথিত স্বাধীন বাংলাদেশের মুখোস পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।

আমি চিৎকার করে বললাম,ছুঁয়ে দেখ এই বাড়ি! দেখি কার কত বড় ক্ষমতা! আজ ছফা মরবে, নয়তো এই পরিবার বিচার পাবে।

ঠিক সেই মুহূর্তে সৈয়দ আলী আকসাদ (সিকান্দার আবু জাফর ভাইসহ) ছুটে এলেন। তাঁরা আমাকে জাপটে ধরলেন, আমার হাত থেকে দিয়াশলাইটা কেড়ে নিলেন। চারদিকে তখন এক তুমুল হট্টগোল। আমার এই উন্মাদনা, এই মরণপণ প্রতিরোধ দেখে সেই লোভী উচ্ছেদকারীরা ভয়ে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হলো। বাড়িটা সেযাত্রায় বেঁচে গেল।

হুমায়ুন সেদিন দূর থেকে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। ও হয়তো সেদিন বুঝেছিল, এই ছফা ভাই মানুষটা শুধু আড্ডায় বসে সাহিত্যের তাত্ত্বিক কথা বলে না, দরকারে নিজের জীবনটাও বাজি রাখতে পারে।

পরবর্তীকালে হুমায়ুন যখন অনেক বড় লেখক হলো, পয়সা-কড়ি হলো, ওর চারপাশের দুনিয়াটা বদলে যেতে লাগল। আর আমি? আমি যেমন নীলক্ষেতের বোহেমিয়ান ছিলাম, তেমনই রয়ে গেলাম। আমাদের সম্পর্কের মেঘ-রোদ্দুরের খেলা তখনো বাকি ছিল...

সময় বড় অদ্ভুত জিনিস, মিয়া। নদী যেমন এক জায়গায় স্থির থাকে না, মানুষের ভাগ্যও তেমনি বাঁক বদলায়। ‘নন্দিত নরক’ আর ‘শঙ্খনীল কারাগার’ দিয়ে যে হুমায়ুন বাংলা সাহিত্যের আকাশে ডানা মেলেছিল, সে আস্তে আস্তে এক বিরাট বটবৃক্ষ হয়ে উঠতে লাগল। চারদিকে তার নাম, তার বইয়ের জন্য প্রকাশকদের লাইন, পাঠকদের উন্মাদনা। হুমায়ুন আহমেদ তখন আর শুধু আমার চেনা সেই উষ্কখুষ্ক চুলের রসায়নের ছাত্রটি নেই, সে এখন কোটি মানুষের প্রিয় লেখক।

আমি দূর থেকে দেখতাম। আমার ভালো লাগত, আবার কোথাও যেন একটা খটকাও লাগত। আমি ছফা, সারাজীবন ক্ষমতার বিপরীতে হেঁটেছি। রাজদরবারের পায়ে যে বুদ্ধিজীবীরা তেল মাখে, তাদের আমি দেখতে পারতাম না। হুমায়ুন যখন আস্তে আস্তে বাণিজ্যিক সাফল্যের গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়তে লাগল, যখন তার লেখার ভেতরের সেই প্রথম দিকের ধারালো মধ্যবিত্ত হাহাকারটা সস্তা জনপ্রিয়তার আড়ালে ঢাকা পড়তে লাগল, তখন আমার খারাপ লেগেছিল। আমি তাকে আড়ালে-আবডালে সমালোচনাও করেছি। ও জাদুকর ছিল, কিন্তু জাদুকর যখন শুধু তাসের খেলা দেখিয়ে হাততালি কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে যায়, তখন মেন্টর হিসেবে আমার বুকে তো একটু লাগবেই, তাই না?

তবে আমাদের এই দূরত্বের মাঝেও একটা বড় ছায়া সবসময় আমাদের মাথার ওপর ছিল। তিনি আর কেউ নন—জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক সাহেব। আমার গুরু, আমার যদ্যপি আমার গুরু।

১৯৭০ সাল থেকে শুরু করে প্রায় তিরিশটা বছর আমি এই মানুষটার পিছে পিছে ঘুরেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেই বুড়ো অধ্যাপক, যিনি প্রথম দেখাতেই আমাকে ‘মৌলভি আহমদ ছফা’ বলে ডেকেছিলেন। রাজ্জাক সাহেব কোনোদিন নিজে বই লিখে নাম কামানোর পেছনে ছোটেননি, কিন্তু তাঁর ভেতরের যে জ্ঞান, যে তীক্ষ্ণ ধীশক্তি—তার প্রেমে আমি পড়ে গিয়েছিলাম।

আমি যখন হুমায়ুনের ওপর রেগে থাকতাম, বা যখন আমার নিজের ভেতরের একাকীত্ব আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেত, আমি চলে যেতাম স্যারের কাছে। স্যার তাঁর চেনা সেই ‘ঢাকাইয়া বুড়ো’র মতো করে তামাক টানতে টানতে বলতেন,"ছফা, মানুষেরে তার নিজের রাস্তায় চলন দিতে হয়। তুমি তোমার নিজের কাম করো।

আমি স্যারের ড্রয়িংরুমে বসে সমাজ, রাজনীতি, ইতিহাস নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তর্ক করতাম। কখনো কখনো আমাদের মতের অমিল হতো, বিশেষ করে জিন্নাহ বা মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে, কিন্তু স্যারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা এক চুলও কমেনি। স্যারের সেই নিষ্পাপ, নিষ্কাম জ্ঞানচর্চা আমাকে শিখিয়েছিল যে, দুনিয়ায় সবাই যখন ক্ষমতার পেছনে দৌড়াবে, তখন অন্তত একজনকে একা দাঁড়িয়ে সত্যটা বলতে হবে।

হুমায়ুনও রাজ্জাক সাহেবকে শ্রদ্ধা করত। কিন্তু হুমায়ুন তখন ব্যস্ত তার নিজস্ব এক সাম্রাজ্য গড়তে, আর আমি ব্যস্ত ছিলাম আমার গুরুর পায়ে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য, যদ্যপি আমার গুরু বইটা উৎসর্গ করতে।

হুমায়ুনের সাথে আমার সম্পর্কের সেই শেষ অধ্যায়, যেখানে একদিকে ছিল তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা আর অন্যদিকে আমার এই একগুঁয়ে, আপসহীন বোহেমিয়ান জীবন, তা আরও এক অদ্ভুত বাঁক নিয়েছিল, যখন ঢাকার সাহিত্য পাড়ায় এক নতুন ঝড়ের আগমন ঘটল...

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকটা ছিল বড় অদ্ভুত। চারদিকে কেমন যেন একটা অস্থিরতা। হুমায়ুন তখন তার জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, আর ঠিক সেই সময়ে ঢাকার সাহিত্য পাড়ায় আরেক হুমায়ুনের সাথে আমার এক তুমুল দ্বৈরথ শুরু হলো—তিনি হুমায়ুন আজাদ।

আজাদ সাহেব মানুষটা পণ্ডিত ছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর স্বভাবটা ছিল ওই সজারুর মতো, সারাক্ষণ কাঁটা খাড়া করে রাখতেন আর সুযোগ পেলেই আমাদের অগ্রজদের, এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে নিয়ে যা তা মন্তব্য করতেন। একদিন এক আড্ডায় বলেই বসলাম, হুমায়ুন আজাদ একটা সজারু, যে শুধু কাঁটা ছড়িয়ে নিজেকে পণ্ডিত জাহির করতে চায়। নজরুলকে নিয়ে তাঁর এক চরম ধৃষ্টতার পর আমি রেগে গিয়ে আরও কড়া কথা শুনিয়েছিলাম।

কিন্তু ওই যে, ছফা মানুষের ওপর রাগ করে থাকতে পারে না। একবার বইমেলায় আজাদ সাহেবের স্ত্রীর সাথে দেখা হতে আমি তাঁর পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বললাম, ভাবী, এই রকম একটা খ্যাপা মানুষের সাথে যিনি এত বছর ঘর-সংসার করতে পারছেন, তিনি অবশ্যই প্রণম্য। আজাদ সাহেব নিজের ‘নারী’ বইটা নিষিদ্ধ হওয়ার পর আমার ক্ষুরধার লেখনীকেই পাশে পেয়েছিলেন। আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়।

হুমায়ুন আহমেদ আমাদের এই সমস্ত কোন্দল আর বিতর্ক থেকে দূরে তার নিজের তৈরি ‘নুহাশ পল্লী’র মায়াপুড়িতে মগ্ন ছিল। আমাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়ে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ওর প্রতি আমার ভেতরের সেই আদিম স্নেহটা কোনোদিন মরে যায়নি। ও যখনই ওর স্মৃতিকথায় আমার কথা লিখত, আমার সেই কেরোসিন ঢালার গল্পটা বলত, আমার চোখ দুটো ভিজে উঠত। ও জানত, এই ছফা ভাই যেমন গালমন্দ করতে পারে, তেমনই ওর জন্য নিজের জীবনটাও বাজি রাখতে পারে।

আমার জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছে তীব্র একাকীত্বে। আমি তো ঘর বাঁধিনি, সংসার করিনি। পিএইচডিটাও শেষ করা হলো না, কিন্তু জার্মান ভাষা শিখে গ্যোটের ‘ফাউস্ট’ অনুবাদ করে যে আনন্দ পেয়েছিলাম, তা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিতে পেতাম না। নীলক্ষেতের চা স্টলের সেই রাস্তার কুকুরগুলোকে যখন বিস্কুট খাওয়াতাম, তখন আমার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক শান্তি নেমে আসত। মনে হতো, এই শহরের বুর্জোয়া বুদ্ধিজীবীদের চেয়ে এই অবুঝ প্রাণীগুলো অনেক বেশি বিশ্বস্ত।

২০০১ সালের ২৮শে জুলাই। ঢাকার পিজি হাসপাতালে যখন আমার চোখ দুটো চিরতরে বুজে আসছিল, তখন বাইরের বাতাসে হয়তো কোনো চেনা সুবাস ছিল না। আমি চলে গেলাম, কোনো রাষ্ট্রীয় পদক কিংবা ক্ষমতার তোয়াক্কা না করেই। মৃত্যুর পর ২০০২ সালে তারা আমাকে ‘একুশে পদক’ দিল। মরার পরে পদক দিয়ে কী হয়, মিয়া? বেঁচে থাকতে যে মানুষটা এক টুকরো খাঁটি বাংলাদেশের জন্য চিৎকার করে গলা ফেরেছে, তার পদক তো এ দেশের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা।

হুমায়ুন হয়তো আমার মৃত্যুর খবর শুনে তার চশমাটা খুলে চোখটা মুছেছিল। ও হয়তো মনে মনে বলেছিল, বিদায়, আমার যৌবনের সেই হন্টন পীর।

আজ আমি নেই, হুমায়ুনও নেই, রাজ্জাক স্যারও নেই। কিন্তু নীলক্ষেতের সেই নিয়ন আলোর নিচে, ঢাকার কোনো এক বৃষ্টির রাতে যদি কোনো তরুণ এক হাতে জলন্ত সিগারেট আর অন্য হাতে এক বুক বিপ্লব নিয়ে হেঁটে যায়, তবে বুঝবেন, সেখানেই আহমদ ছফা আজও বেঁচে আছে।

আমার বাংলাদেশ... ভালো থেকো।

১৭৫ পঠিত ... ৭ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top