যুবদল নেতা নয়নের কাছে জোরে দৌড়ানো শিখতে চায় ফুটবলাররা!

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে

আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারের আসরের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে উত্তর আমেরিকার চরম গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা। বিশেষ করে মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ভেন্যুগুলোতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পারদ এতটাই ওপরে যে, তা ফুটবলারদের ম্যাচ স্ট্যামিনা ও শারীরিক সক্ষমতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তীব্র গরমে ৯০ মিনিটের ম্যাচে ১০-১২ কিলোমিটার হাই-ইনটেনসিটি দৌড় বজায় রাখা এবং দ্রুত রিকভারি করা সাধারণ কোনো অ্যাথলেটের পক্ষে অসম্ভব। এমন এক বৈশ্বিক সংকটে ফিফা বিশ্বকাপের একাধিক হাই-প্রোফাইল দল ও বিশ্বসেরা রানিং মিডফিল্ডাররা এক অভিনব ও অবিশ্বাস্য সমাধানের পথ খুঁজছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। ফুটবলপাড়ায় জোরালো গুঞ্জন, তীব্র গরমে ক্লান্তিহীনভাবে দীর্ঘ পথ স্প্রিন্ট করার অবিশ্বাস্য কৌশল রপ্ত করতে বিশ্বসেরা ফুটবলাররা এখন যোগাযোগ করছেন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাকরাইল মোড়ের এক কিংবদন্তি রানারের সঙ্গে। তিনি আর কেউ নন, সদ্য ঘোষিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন।

ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, গত মে মাসে ঢাকার তীব্র গরম ও যানজটের ভেতরেও বিএনপির চেয়ারম্যান ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুতগামী গাড়িবহরের সমান্তরালে যেভাবে স্যালুট ও স্লোগান দিতে দিতে নয়ন ভোঁ-দৌড় দিয়েছিলেন, তা পৃথিবীর যেকোনো অলিম্পিক স্প্রিন্টারের জন্য ঈর্ষণীয়। সেই ভাইরাল ভিডিও ফুটেজটি বর্তমানে বিশ্বকাপের দলগুলোর টেকনিক্যাল অ্যানালিস্টদের ল্যাবে লুপে ফেলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে জার্মানির জামাল মুসিয়ালা, ইংল্যান্ডের বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম এবং ফ্রান্সের স্প্রিন্ট কিং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা নয়নের এই বিশেষ রানিং টেকনিক দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউরোপের একটি শীর্ষ দলের কন্ডিশনিং কোচ জানান, আমরা হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (HIIT) দিয়ে খেলোয়াড়দের ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়াই। কিন্তু ঢাকার কাকরাইল মোড়ে নয়ন যেভাবে প্রটোকল গাড়ির গতিকে টেক্কা দিয়ে, একই সঙ্গে স্লোগান উগরে দিয়ে এবং নিখুঁত মিলিটারি স্যালুট বজায় রেখে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দৌড়েছেন, এই মাল্টিটাস্কিং অ্যান্ডুরেন্স আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের খেলোয়াড়রা গরমে ডিহাইড্রেশনে ভুগছে, আর উনি স্রেফ দলীয় আনুগত্যের জ্বালানিতেই সুপারসনিক গতিতে ছুটছেন!

দলীয় ও আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বেশ কিছু দেশ, যারা প্রাকৃতিকভাবে গরম আবহাওয়ায় অভ্যস্ত, তারাও নয়নের এই কাকরাইল স্প্রিন্ট মেথড-এর কাছে নতি স্বীকার করেছে। মরক্কো ও সেনেগালের মতো ফিজিক্যাল ফুটবল খেলা দলগুলোর প্রতিনিধিরা নাকি ইতোমধ্যে নয়নের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে মেসেজ পাঠিয়ে জানতে চেয়েছেন, একটানা দৌড়ানোর সময় কীভাবে ফুসফুসের দম ধরে রেখে স্লোগান দিতে হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ফিফার নিয়মে সামান্য পরিবর্তন এনে ফুটবলারদের মাঠের ভেতর রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে হয়তো নয়নের এই টেকনিক শতভাগ কাজে লাগানো যেত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তরা ভালোবাসার ঝড় বইয়ে দিয়ে বলছেন, মেক্সিকোর গরমে কিলিয়ান এমবাপ্পে বা ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা যদি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তবে তাঁদের অবিলম্বে যুবদলের এই নেতার কাছ থেকে শর্ট কোর্স ট্রেনিং নেওয়া উচিত।

নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি এবার গোল্ডেন রানিং শু বা বেস্ট প্রমোশনাল স্প্রিন্ট নামে নতুন কোনো পুরস্কার থাকলে, সেটি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নয়নের ঘরে চলে যেত।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়রা যখন মাঠের তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করবেন, তখন ডাগআউটে থাকা কোচদের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখে ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলবেন, দৌড়াতে হলে আসলে নয়ন ভাইয়ের মতোই দৌড়াতে হয়!

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে

Top