মকবুল সাহেব আর তাঁর স্ত্রী রহিমা প্রতি বছরই বাণিজ্য মেলায় যান। আর প্রতিবারই মেলায় হেলিকপ্টার রাইড দেখে মকবুল সাহেব বলেন, বুঝলে রহিমা, ওই হেলিকপ্টারটায় একবার চড়ার বড্ড শখ!
রহিমা প্রতিবারই চোখ কপালে তুলে বলে, থামো তো! হেলিকপ্টারে চড়ার ভাড়া এক লাফে পাঁচ হাজার টাকা! পাঁচ হাজার টাকা মানে তো পাঁচ হাজার টাকাই!
এক বছর মেলায় গিয়ে মকবুল সাহেব উদাস হয়ে বললেন, রহিমা, দেখতে দেখতে আমার বয়স এখন পঁচাত্তর। এবার না চড়লে জীবনে হয়তো আর কোনোদিনই ওঠা হবে না!
রহিমা আগের মতোই মুখ ঘুরিয়ে বলল, ভুলে যেয়ো না, পাঁচ হাজার টাকা মানে তো পাঁচ হাজার টাকাই!
কথাগুলো পাশ থেকে হেলিকপ্টারের পাইলট শুনে ফেলল। সে এগিয়ে এসে বলল, আপনাদের জন্য একটা ফাটাফাটি অফার আছে! আমি আপনাদের দুজনকেই আকাশে ঘুরিয়ে আনব। পুরো রাইডে আপনারা যদি একটি টু-শব্দও না করেন, একদম মুখ বুজে থাকেন, তবে এক টাকাও নেব না। কিন্তু মুখ দিয়ে যদি একটা 'আহা' বা 'উহু'ও বের হয়, তবে পুরো পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।
মকবুল সাহেব আর রহিমা দম্পতির তো দারুণ আনন্দ! দুজনই রাজি হয়ে তড়িঘড়ি হেলিকপ্টারে উঠে পড়লেন।
আকাশে উঠে পাইলট কায়দা করে হেলিকপ্টারটাকে ডান-বাম করে কাত করল, খাড়া ওপর-নিচ করল, চক্কর খাওয়াল—কিন্তু পেছন থেকে কোনো শব্দ নেই! পাইলট এবার রোমাঞ্চ বাড়াতে হেলিকপ্টার দিয়ে বিপজ্জনক সব ডিগবাজি আর চক্কর দিতে লাগল। তবু পেছন থেকে একদম পিনপতন নীরবতা!
অবশেষে মেলায় অবতরণ করার পর পাইলট ঘুরে দাঁড়িয়ে মকবুল সাহেবকে বলল, মানতেই হবে, চাচা! আপনাদের ভয় পাইয়ে চিৎকার করানোর জন্য আমি তো সাধ্যের শেষটুকুও চেষ্টা করেছি, কিন্তু আপনার মুখ দিয়ে একটা আওয়াজও বের করতে পারলাম না! হ্যাটস অফ!
মকবুল সাহেব এবার লম্বা একটা হাঁফ ছেড়ে বললেন, আর বোলো না ভাই! সত্যি বলতে কী... রহিমা যখন মাঝআকাশে হেলিকপ্টার থেকে নিচে পড়ে গেল, আমি প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম! কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো—পাঁচ হাজার টাকা মানে তো পাঁচ হাজার টাকাই!



পাঠকের মন্তব্য