কেউ কি ভুল করে অন্য মার্কায় চাপ দিলেন? তামিম ইকবালের সেই ১টি রহস্যময় মিসিং ভোটের সন্ধানে গোয়েন্দা সংস্থা

৫২ পঠিত ... ১৭ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে

 

শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কনফারেন্স রুমে তখন করতালির রোল। দেশের ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খান দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা বিসিবি-র ক্যাটাগরি-২ (ক্লাব ক্যাটাগরি) থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ ভোট পেয়ে পরিচালক এবং পরবর্তীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ৭৬ জন যোগ্য ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৭৪ জন।

সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু উৎসবের আলো কাটতে না কাটতেই ক্রিকেটপাড়ার আকাশে মেঘ জমিয়েছে একটি অঙ্ক। গণিতবিদ থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষক, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন: ৭৪ জন ভোট দিলে, তামিম যদি ৭৩টি পান, তবে বাকি ১টি ভোট গেল কোথায়? কে সেই দুঃসাহসী ভোটার, যিনি এই ‘তামিম জোয়ারে’ও নিজের হাত গুটিয়ে রাখলেন, কিংবা ব্যালটে অন্য কোথাও সিল মেরে বসলেন?

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই ১টি মিসিং ভোটের রহস্য উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সংস্থাকে অনানুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে গতকাল রাতেই মিরপুর স্টেডিয়ামের নির্বাচন বুথের ভেতরের ও বাইরের প্রায় ৪ টেরাবাইট সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আমরা প্রতিটি ভোটারের বুথে প্রবেশের সময়, ভেতরের স্থায়িত্ব এবং বের হওয়ার মুখের অভিব্যক্তির মাইক্রো-এক্সপ্রেশন অ্যানালাইসিস করছি। বিশেষ করে, ভোট দিয়ে বের হওয়ার সময় কার চোখে মুখে ভীতি বা অতিরিক্ত আনন্দের ছাপ ছিল, তা ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তকারীদের একটি বড় অংশ ধারণা করছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত বিদ্রোহ নয়, বরং টেকনিক্যাল বা মনস্তাত্ত্বিক ভুল। এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যালট পেপারে ১৬ জন প্রার্থীর নাম ছিল। ওল্ড ডিওএইচএস-এর কাউন্সিলর তামিম ইকবালের নাম দেখলেই চট করে সিল মারার কথা। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, কোনো বয়োবৃদ্ধ কাউন্সিলর কি চশমা না পরেই বুথে ঢুকেছিলেন? উনি কি ভুল করে অন্য মার্কায় বা নামের ওপর চাপ দিয়ে এসেছেন? নাকি ব্যালট পেপারের উল্টো পিঠে সিল মেরেছেন?

এদিকে এই রহস্যময় ভোট নিয়ে ঢাকার ক্লাব পাড়ায় এক অদ্ভুত প্যারাডক্স বা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। আজ সকাল থেকে প্রিমিয়ার ও ফার্স্ট ডিভিশনের শীর্ষ ক্লাবগুলোর (আবাহনী, মোহামেডান, প্রাইম ব্যাংক, আজাদ স্পোর্টিং) প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, ৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৮২ জন দাবি করেছেন যে তারা তামিম ইকবালকেই ভোট দিয়েছেন!

আবাহনী লিমিটেডের প্রতিনিধি ফাহিম সিনহা বা মোহামেডানের মাসুদুজ্জামানদের মতো শীর্ষ সংগঠকরা নিজেদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত করলেও, ছোট কিছু ক্লাবের কাউন্সিলরদের মধ্যে মৃদু আতঙ্ক দেখা গেছে। ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাব পাড়ার চায়ের দোকানে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অনেকেই এখন নিজেদের আঙুল চুষে দেখছেন যে গতকাল দুপুরের পর থেকে কোনো অবাধ্য আঙুল ভুল জায়গায় চলে গিয়েছিল কি না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ অবশ্য একে স্রেফ ভুল হিসেবে দেখতে নারাজ। নেট দুনিয়ায় জোর গুঞ্জন, এই ১টি ভোট ডার্ক ওয়েবের কোনো হ্যাকার গ্রুপ গায়েব করে দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কেউ কেউ আবার বলছেন, তামিম ইকবালের এই মহাবিজয়কে শতভাগ ‘নিখুঁত’ হতে না দেওয়ার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় চক্রের হাত থাকলেও থাকতে পারে।

নবনির্বাচিত পর্ষদের এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সভাপতি তো আনকনটেস্টেড হয়েছেন, সেটাই বড় কথা। তবে হ্যাঁ, বোর্ডের ভেতরেও একটা অনানুষ্ঠানিক কৌতুহল আছে। আমরা নিজেরা নিজেরা চা খাওয়ার ফাঁকে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছি আর ভাবছি—শত্রু কি তবে ঘরের ভেতরেই? ৭৩ জন যদি বন্ধু হয়, তবে ওই ১ জন কে?

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্যালট পেপারের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মেলানোর জন্য সিআইডির বিশেষ ফরেনসিক টিমকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। যতক্ষণ না সেই ১ জন ভোটার নিজে থেকে এসে স্বীকার করছেন যে, ‘ভাই, ভুল করে হাত ফস্কে গেছিল’, ততক্ষণ পর্যন্ত মিরপুরের এই গ্রেট ব্যালট মিস্ট্রি বা ‘ভোট-রহস্য’ ২০২৬ সালের দেশের সবচেয়ে বড় থ্রিলার হয়েই থাকছে।

৫২ পঠিত ... ১৭ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে

Top