১% ভোটের গল্প

৪৪ পঠিত ... ১৫ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে

পকাত গ্রুপ অফ কোম্পানিজ'র বিশাল বোর্ডরুম জুড়ে তখন পিনপতন নীরবতা। টেবিলের মাথায় গম্ভীর মুখে বসে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান রহমান সাহেব। বার্ষিক নির্বাচনের ফল এইমাত্র স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে: জনাব রহমান – ৯৯% ভোট।

চারপাশে হাততালির ধুম পড়ে গেল। ডিরেক্টররা কোলাকুলি শুরু করলেন। কিন্তু রহমান সাহেবের মুখে কোনো হাসি নেই। তিনি আচমকা কাঁচের টেবিলে জোরে একটা চাপড় মারলেন। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর ঠান্ডা হয়ে গেল।

কার এত বড় সাহস? রহমান সাহেব গর্জে উঠলেন। আমার পুরো প্ল্যানটা কে নষ্ট করল?

ডিরেক্টররা ভয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন। তারা সবাই জানেন, এই কোম্পানির প্রতিটি মানুষ রহমান সাহেবের হাতের পুতুল। তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সাহস এ যাবৎ কারও হয়নি।

রহমান সাহেব তার তরুণ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবিরের দিকে আঙুল তুললেন। আবির! তোমাকে যে দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছিল, তুমি কি সেটা ঠিকঠাক করোনি?

আবির ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে তার চামড়ার ব্যাগ থেকে একটা খাম বের করল। স্যার, আমি আপনার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি! এই যে আপনার দেওয়া এক লাখ টাকার খাম। আর এই যে ব্যালট পেপার—আমি কিন্তু আপনাকে ভোট দিইনি।

বোর্ডরুমের বাকি কর্তারা হা হয়ে গেলেন। রহমান সাহেব তখন চেয়ারে হেলান দিয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিলেন। "যাক বাবা, বাঁচা গেল! আমি তো ভেবেছিলাম তুমিও বুঝি আমাকে ভোট দিয়ে বসে আছ।"

ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহেব আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করলেন, স্যার, কিছু মনে করবেন না। আপনি আবিরকে টাকা দিয়ে আপনার বিপক্ষে ভোট দেওয়ালেন? কিন্তু কেন?

রহমান সাহেব তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকালেন। এরা ব্যবসা বোঝে, কিন্তু করপোরেট পলিটিক্স বোঝে না।

তিনি চশমাটা ঠিক করতে করতে বললেন, আরে বোকার দল! মিডিয়ায় যদি খবর যায় আমি ১০০% ভোট পেয়েছি, তখন লোকে কী বলবে? সবাই বলবে এটা উত্তর কোরিয়া! সবাই বলবে এই নির্বাচন ভুয়া, জালিয়াতি হয়েছে! কাল সকালেই দুর্নীতি দমন কমিশন আমাদের অফিসে এসে হাজির হবে।

রহমান সাহেব নিজের মাথায় টোকা দিয়ে বললেন, ১০০% জয় মানেই সেখানে দুর্নীতির গন্ধ থাকে। আর ৯৯% জয়? আহা, এটাই তো আসল গণতন্ত্র! এতে প্রমাণ হয় আমাদের কোম্পানিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। একটা ছোট্ট বিরোধী দলও আছে! কেউ আমাদের দিকে আঙুল তুলতে পারবে না।

মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরের ভয় কেটে গিয়ে প্রশংসার বন্যা বয়ে গেল।

এইচআর হেড চেঁচিয়ে উঠলেন, স্যার, আপনার দূরদর্শিতা অসাধারণ!

সিএফও সাহেব বললেন, একেবারে নিখুঁত করপোরেট পলিসি!

কোণার টেবিলে আবির তখনো টাকার খামটা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। পুরো কোম্পানিতে তার চাকরিটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার একমাত্র কাজ হলো টাকা খেয়ে চেয়ারম্যানের বিপক্ষে থাকা, যাতে চেয়ারম্যান সাহেবকে দেখতে একদম ধোয়া তুলসী পাতা মনে হয়।

রহমান সাহেব হাসিমুখে কেক কাটতে কাটতে বললেন, মনে রেখো, আধুনিক করপোরেট পলিটিক্সের নিয়ম একটাই—নিজেকে পুরোপুরি সৎ দেখাতে হলে, সবসময় ঠিক এক পার্সেন্ট সততা লুকিয়ে রাখতে হয়!

৪৪ পঠিত ... ১৫ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top