দেশের চলমান কার্ড-সংস্কৃতিতে এবার যোগ হলো এক বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী দাবি। নসুর শিক্ষার্থী নাবিলা সরকারের কাছে অত্যন্ত সিরিয়াস ভঙ্গিতে একটি নতুন ক্যাটাগরির কার্ডের দাবি তুলেছেন, যার নাম তিনি দিয়েছেন শামি কার্ড। তার মতে, বর্তমানে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে স্বামীর যে বাজারদর (১০ কোটি টাকা) চলছে, তাতে এই খাতের সঠিক তদারকি ও কেনাবেচার জন্য একটি সরকারি নীতিমালা এবং ডিজিটাল কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক।
নাবিলা অত্যন্ত গম্ভীর মুখে জানান, পহেলা বৈশাখে আমাদের নাচ দেখে যারা কিস্তি তুলে ডিভোর্স দেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই কার্ডটি হবে একটি সময়োপযোগী ইনভেস্টমেন্ট টুল। ধরুন, আমার স্বামী আমাকে ডিভোর্স দিতে চাইলো, কিন্তু তার হাতে কিস্তির টাকা নেই। তখন আমি যদি আমার শামি কার্ড ব্যবহার করে তাকে বাজারে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করে দিতে পারি, তবে সেই টাকা দিয়ে সে খুব সহজেই আমার দেনমোহরের কিস্তি শোধ করতে পারবে। এটা তো একটা উইন-উইন সিচুয়েশন!
নাবিলা আরও যুক্তি দেখান যে, যেহেতু বিএনপি সরকার এখন কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করছে, তাই বিবাহিত নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা' নিশ্চিত করতে এই ১০ কোটি টাকার ট্রানজ্যাকশন বৈধ করা উচিত।
নাবিলার পেশ করা খসড়া প্রস্তাবে এই কার্ডের তিনটি বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে:
১. স্মার্ট লিস্টিং:কার্ডধারী স্ত্রীরা তাদের স্বামীর গুণাবলী (যেমন: বাজার করে দেওয়া, ঝাড়ি খেয়ে চুপ থাকা) অনুযায়ী কিউআর কোডের মাধ্যমে নিলামে তুলতে পারবেন।
২. ইনস্টলমেন্ট সাপোর্ট: যদি কোনো ক্রেতা একবারে ১০ কোটি টাকা দিতে না পারেন, তবে কিস্তি তুলে ডিভোর্স ফান্ড থেকে ঋণের ব্যবস্থা থাকবে।
৩. রিটার্ন পলিসি: যদি বিক্রিত স্বামী নতুন মালিকের ঘরে গিয়ে ঠিকমতো বাসন মাজতে না পারে, তবে কার্ডের মাধ্যমে মানিব্যাক গ্যারান্টি থাকবে।
এদিকে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ১০ কোটিতে স্বামী বিক্রি আর কিস্তি তুলে ডিভোর্স এখন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নসুর একদল শিক্ষার্থী বলছেন, নাবিলা আসলে ডিজিটাল ইকোনমির এক লুকানো সত্য সামনে এনেছেন। যদি ১০ কোটিতে বিক্রি হওয়া সম্ভব হয়, তবে আমরা কেন শুধু শুধু কিস্তির চিন্তায় ঘুম হারাম করবো?
তবে রক্ষণশীল অনেক স্বামী এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, আজ যদি শামি কার্ড চালু হয়, কাল হয়তো স্ত্রীরা আমাদের কিউআর কোড কপালে লাগিয়ে সুপারশপে দাঁড় করিয়ে রাখবে!
নাবিলা অবশ্য তার দাবিতে অনড়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যুগ বদলাচ্ছে। এখন আর চোখের জলে সম্পর্ক টেকে না, এখন সম্পর্ক টেকে ১০ কোটির ডিল-এ। আর নসু-র মেয়ে হিসেবে আমি মনে করি, যে কোনো ডিল হতে হবে প্রফেশনাল এবং কার্ড-বেজড!


