চারিদিকে চলছে কার্ড নিয়ে মাতামাতি। অনেকে অনেক রকম কার্ডের দাবি করছেন, আবার অনেকে পেয়েছেনও নানারকম কার্ড। এতসব কার্ডের ভীড়ে একটু খুঁজে নিয়ে এসেছি কার্ড নিয়ে বিশ্বের যত রেকর্ড। পকেটে কার্ড গুজে রাখতে রাখতে দেখে জেনে নিতে পারেন এগুলো। অবশ্য জেনে আপনার কী লাভ হবে এটা আমরা জানি না!
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট কার্ড
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বৈধ ক্রেডিট কার্ডের মালিক ভারতের হায়দরাবাদের মনীশ ধামেজা। ২০২১ সালে তিনি ১,৬৩৮টি ক্রেডিট কার্ডের মালিক হয়ে গিনেস বুকে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন। বিভিন্ন রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং অফার কাজে লাগানোর জন্যই নাকি তিনি এই বিশাল সংগ্রহ তৈরি করেছেন। আসলেই একটু চালাক না হলে দুনিয়াতে টিকে থাকা খুব মুশকিল!
সবচেয়ে বড় বিজনেস কার্ডের সংগ্রহ
আমেরিকার ব্র্যান্ডন রেইনার নামের ১০ বছর বয়সী এক ছেলে, ১৯৯০ সালে ৯,৫৮,৪৬৫টি বিজনেস কার্ড সংগ্রহ করে বিশ্বের অনন্য এই রেকর্ডটির মালিক হয়। মূলত সে সময় তার লিউকেমিয়ার চিকিৎসা চলছিল। এই চিকিৎসার দীর্ঘ সময়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে তার বাবা এই আইডিয়াটি দেন তাকে। প্রথমে স্থানীয়দের থেকে সংগ্রহ করলেও আস্তে আস্তে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। তখন সারাবিশ্বের নামকরা ব্যবসায়ী, বড় বড় কর্পোরেট হাউস, সিইও এবং সেলিব্রিটিরাও ডাকের মাধ্যমে ব্র্যান্ডনকে কার্ড পাঠাতে শুরু করে। তবে ডাক বিভাগের ওপর চাপ পড়ার কারণে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ এই রেকর্ডটি নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই ব্র্যান্ডন হলো বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যার এই রেকর্ডটি আছে।
এক হাতে সবচেয়ে বেশি কার্ড ধরার রেকর্ড
এক হাতে তাসকে পাখার মতো করে ধরাটা কার্ডিস্ট্রির জগতে বেশ ক্লাসিক একটা কৌশল। এই কাজে সবচেয়ে বেশি কার্ড এক হাতে ফ্যানের মতো ধরতে পারার রেকর্ড রাফায়েল কাস্তানিও নামের একজন স্পেনের নাগরিকের। তিনি একসাথে দুই ডেক থেকেও বেশি (১১০টির উপরে) তাস এক হাতে ধরেছিলেন। আর এই কার্ডগুলো এভাবে ধরতে কোনো আঠা, টেপ এসব কিন্তু ব্যবহার করা হয় না। মনে হচ্ছে আমাদের এখন সময় এসেছে রাফায়েলের কাছ থেকে এইভাবে এতগুলো কার্ড ধরার কৌশল শেখার!
এক ফুটবল ম্যাচে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড
কথায় কথায় লাল কার্ড দেখানোতে রেফারি ড্যামিয়ান রুবিনোকে কেউ ছাড়াতে পারবে না! ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার একটি লিগের ম্যাচে তিনি মোট ৩৬টি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন! মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় ধরনের মারামারি শুরু হলে রেফারি দুই দলের ১১ জন করে মোট ২২ জন এবং পরে বদলি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদেরসহ লাল কার্ড দেখিয়ে দেন!
সবচেয়ে বেশি জন্মদিনের কার্ড পাওয়ার রেকর্ড
আপনি কি জন্মদিনে কার্ড পেয়েছেন কখনও? পেলেও একসাথে কয়টা পেয়েছেন? ব্রিটেনের ক্রেইগ শেরগোল্ড জন্মদিনের শুভেচ্ছার কার্ড পেয়েছেন প্রায় ৩৫ কোটি। ১৯৮৯ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তার একটি ইচ্ছা ছিল গিনেস বুকে নাম লেখানোর। এটা ছড়িয়ে পড়ার পর সারা পৃথিবী থেকে তার কাছে কার্ড আসতে শুরু করে। আর তার সংখ্যা শেষমেশ দাঁড়ায় ৩৫ কোটি। গিনেস কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে এই ক্যাটাগরির রেকর্ড তালিকাভুক্ত করা বন্ধ করে দেয় কারণ এতে ডাক বিভাগের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। তাই অনন্য এই রেকর্ডটি পৃথিবীতে শুধু ক্রেইগেরই আছে!
বিশ্বের দীর্ঘতম কার্ডের চেইন
কার্ডের সাথে কার্ড জুড়ে বানানো বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা কার্ডের চেইন এতটাই লম্বা ছিল যে এটি যদি সোজা বিছিয়ে দেওয়া হতো, তবে এটি মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতার (৮,৮৪৮ মিটার) চেয়েও দীর্ঘ হতো! ঠিকই পড়ছেন। আয়ারল্যান্ডের কর্ক কাউন্টির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং স্কুল শিক্ষার্থীরা মিলে এটি তৈরি করে। মূলত তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি চ্যারিটি সংস্থার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। এই কার্ডের চেইনে ১,০০,০০০-এর বেশি আলাদা আলাদা গ্রিটিং কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। এজন্যই এটি দেখতে অত্যন্ত কালারফুল ছিল। চেইনটি ছিল ১০,৩৮৮.৫১ মিটার অর্থাৎ প্রায় ১০.৪ কিলোমিটার বা ৬.৪৫ মাইল।
এক মিনিটে মুখ দিয়ে সবচেয়ে বেশি তাস ধরা
আরেক অদ্ভুত রেকর্ড করেছেন আমেরিকার আশ্রিতা ফারম্যান। এক মিনিটে মুখ দিয়ে ১৮টি তাস ধরার রেকর্ড গড়েছেন। অন্য একজন ব্যক্তি কার্ডগুলো ছুড়ে মারছিলেন এবং তিনি হাত ব্যবহার না করে শুধু মুখ দিয়ে সেগুলো লুফে নেন। এখন যেহেতু আমাদের কার্ডের কোনো অভাব নেই, আমরা আস্তে আস্তে এগুলো নিয়ে ট্রাই করে এই রেকর্ড ভেঙে ফেলতেই পারি।
দ্রুততম কার্ডের ঘর তৈরি
মাত্র ১১.৩৫ সেকেন্ডে তিন তলা বিশিষ্ট একটি তাসের ঘর তৈরি করে রেকর্ড গড়েছেন সিলভিও সাব্বা। সাধারণত তিন তলা বিশিষ্ট ঘরটি তৈরি করতে মোট ৯টি কার্ডের একটি নির্দিষ্ট জ্যামিতিক কাঠামো ব্যবহার করতে হয়। এখানে ব্যালান্সিংয়ের ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাসের ঘর বানানো যেখানে ধৈর্যের পরীক্ষা, সেখানে তিনি এটি করেছেন চোখের পলকে। আপনারাও আজ থেকে কার্ড দিয়ে ঘর বানানোর এই প্র্যাকটিস শুরু করতেই পারেন। আশেপাশে কার্ডের তো এমনিতেও অভাব নেই!
পোকেমন কার্ডের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ
অ্যানিমে প্রেমীদের মধ্যে পোকেমন খুব জনপ্রিয়। আর এই পোকেমন কার্ডও সেই সাথে জনপ্রিয়। এমনকি ফ্যানেরা একে অন্যের সাথে এইসব কার্ড এক্সচেঞ্জও করে থাকেন। তবে ডেনমার্কের ইয়েন্স ইশয় নেলসেনের চেয়ে বেশি পোকেমন কার্ড আর কারও নেই! ২০২১ সালে যখন তার রেকর্ডটি নথিভুক্ত করা হয়, তখন তার কাছে ৩০,৭১৭টি আলাদা পোকেমন কার্ড ছিল। মজার বিষয় হলো, তার কাছে কোনো ডুপ্লিকেট কার্ড নেই, মানে প্রতিটি কার্ডই অনন্য। ইয়েন্সের এই ৩০,৭১৭টি কার্ড যদি একটির ওপর একটি রাখা হতো, তবে সেই স্তূপের উচ্চতা একটি ১০ তলা ভবনের সমান হতো!
কার্ডের সবচেয়ে বড় পিরামিড
আর্কিটেক্ট ব্রায়ান বার্গ ২০০৭ সালে টেক্সাসে এই বিশাল পিরামিডটি তৈরি করেন। প্রায় ৫২,০০০টি তাস দিয়ে তৈরি এই পিরামিডটি ছিল ২৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উঁচু। কোনো আঠা বা টেপ ছাড়া শুধুমাত্র জ্যামিতিক ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে এটি দাঁড়িয়ে ছিল। রেকর্ডটি করার সময় ব্রায়ানকে মই ও উঁচু প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করতে হয়েছিল। রেকর্ড নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি নিজেই এটি ভেঙে ফেলেন। আপনি যদি চিন্তায় থাকেন এত কার্ড দিয়ে কী করবেন, তবে ব্রায়ানের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আজ থেকেই কার্ডের ঘর বানানোর প্র্যাকটিস শুরু করতে পারেন। কে জানে, আরেকটা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হতেই পারে আমাদের!
তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস



পাঠকের মন্তব্য