ফেনীর হারিয়ে যাওয়া রূপালি পর্দা: কানন, দুলাল ও সুরত মহলের গল্প

২৫ পঠিত ... ৮ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে

আমার জন্ম নব্বইয়ের দশকের একেবারে শেষ মাথায়। সেই হিসেবে ফেনী শহরের সিনেমা হলগুলোর যে আদি ও অকৃত্রিম স্বর্ণযুগ, সেটা আমাদের দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য কোনোটাই হয়নি। আমি যখন একটু একটু করে চারপাশের জগৎটাকে চিনছি, ততদিনে হলগুলোর জৌলুসে সামান্য হলেও মরচে পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু একটা শহরের বাতাস থেকে তো আর চট করে গল্প মুছে যায় না। আমি বড় হয়েছি বড়দের মুখে মুখে শোনা সেই সব রূপকথার মতো গল্প গিলে।

শহরের প্রবীণেরা যখন দুলাল কিংবা সুরত মহলের গল্প করতেন, তাঁদের চোখে একধরনের আশ্চর্য দ্যুতি খেলা করত। তাঁরা বলতেন এমন সব দিনের কথা, যখন বেদের মেয়ে জোসনা কিংবা স্বপ্নের ঠিকানা দেখতে সিনেমা হলের বাইরে তিন রাস্তা পার হয়ে লাইন চলে যেত। টিকিট না পেয়ে মারামারি হতো, ব্ল্যাকে টিকিট কাটার জন্য চলত নানা কায়দা-কানুন। সেই সব গল্প শুনতে শুনতে মনে হতো, সিনেমা হল বুঝি কোনো সাধারণ বিনোদনের জায়গা নয়; ওটা আসলে একটা জাদুকরের বাক্স, যার ভেতরে ঢুকলে মানুষ তার চেনা সংসার ভুলে অন্য এক জগতে হারিয়ে যায়।

আমার নিজের শৈশব ও কৈশোরের একটা বড় অংশ জড়িয়ে আছে কানন সিনেমা হলের সঙ্গে। কারণ কানন ছিল আমাদের একদম নিজেদের এলাকায়, মাস্টারপাড়া মোড়ে। ১৯৭৮ সালে আবুল কালাম আজাদ পেয়ারা ও মমতাজুল হক ভূঞা যখন এই হলটি চালু করেন, তখন হয়তো তাঁরা ভাবেননি, এটা একদিন এই এলাকার একটি স্থায়ী ল্যান্ডমার্ক হয়ে যাবে।

আমাদের সময়ে কানন হলের রমরমা ভাবটা একটু কমে এলেও এর একটা নিজস্ব, চেনা গন্ধ ছিল। হলের দেয়ালজুড়ে লেপ্টে থাকা বিশাল সব সিনেমার পোস্টার, হাতে আঁকা নায়কের মারকুটে ছবি কিংবা নায়িকার কান্নার দৃশ্য, এসব দেখতে দেখতেই আমরা বড় হয়েছি।

তারপর একদিন সময় বদলাল। বাতাসে ওটিটি আর ইন্টারনেটের গন্ধ মিশে গেল। কানন হলটা বন্ধ হয়ে গেল করোনার ঠিক আগে আগে। শোনা গেল, সেখানে একটি আধুনিক বহুতল মার্কেট হবে, তাই হলটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, হলটা ভাঙা হলো ঠিকই, কিন্তু মার্কেট আর গড়ে উঠল না। আজ এতগুলো বছর পার হয়ে গেছে। ফেনীতে নিজের বাসায় ফিরলে ট্রাংক রোড থেকে রিকশায় উঠে খুব স্বাভাবিক গলায় বলি, মামা, কাননের পিছে যাব।

রিকশাওয়ালারাও এক নামে চেনে। চেনারই কথা। যদিও হলের কোনো অস্তিত্ব নেই। চারপাশটা সরকারি বা আইনি কোনো জটিলতায় সিলগালা হয়ে আছে। ওখান দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বুকের ভেতর কেমন যেন খচখচ করে ওঠে। যে হলটা একসময় হাজার মানুষের হাসি-কান্না আর তালি-শিসের ধ্বনিতে গমগম করত, সেটা এখন একদম নিঝুম, একটা ভূতুড়ে কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। মার্কেটও হলো না, সিনেমা হলটাও টিকল না। মাঝখান থেকে আমাদের চেনা একটা ল্যান্ডমার্ক চিরকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল।

কানন হল যদি আমাদের এলাকার চেনা উঠোন হয়, তবে সুরত মহল আর দুলাল সিনেমা হল ছিল এই শহরের একেকটা আস্ত সাম্রাজ্য। আমাদের জন্ম যখন হলো, ততদিনে সুরত মহল বন্ধ হয়ে সেখানে ফেনী সুপার মার্কেট মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আর দুলাল হলটা কোনোমতে বুক চিতিয়ে লড়াই করে যাচ্ছিল তার শেষ দিনগুলোর সাথে। কিন্তু শহরের আড্ডায়, চায়ের দোকানে বড় ভাই আর চাচাদের মুখে এই দুটো হলের যে গল্প শুনতাম, তাতে মনে হতো আমরা যেন কোনো গ্রিক ট্র্যাজেডির সোনালী অধ্যায়ের কথা শুনছি।

সবচেয়ে বেশি গল্প শুনতাম সুরত মহলের। পাকিস্তান আমলে, সম্ভবত পঞ্চাশের দশকের শেষে বা ষাটের শুরুর দিকে আফজালুর রহমান সাহেব যখন ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্টের কাছে এই হলটা করেন, তখন সেটা নাকি শুধু সিনেমা হল ছিল না; ছিল ফেনীর সংস্কৃতির হৃৎপিণ্ড। আমাদের এক দূর সম্পর্কের চাচা, যিনি সত্তরের দশকে কলেজে পড়তেন, তিনি বলতেন, সুরত মহলে যাওয়া মানে ছিল একটা উৎসব। জামাকাপড় ইস্ত্রি করে, সুগন্ধি মেখে আমরা হলে যেতাম।

সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, এই সুরত মহলে নাকি একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ দেশের দিকপাল রাজনৈতিক নেতারা এসে সভা-সেমিনার করতেন। ভাবা যায়? যে মঞ্চে একদিন রাজনীতির ইতিহাস লেখা হয়েছে, সেই মঞ্চেই পরে রাজ্জাক-কবরী কিংবা সালমান শাহের সিনেমা চলেছে। আফজালুর রহমানের মৃত্যুর পর ওনার ছেলে বাচ্চু মিয়া হলটা চালাতেন। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে যখন দর্শক কমতে শুরু করল, লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে ওনারা হলটা ভেঙে ফেললেন। আজ সেখানে বিশাল সুপার মার্কেট, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করছে, কিন্তু কেউ হয়তো টেরও পায় না যে এই মাটির নিচেই চাপা পড়ে আছে ফেনীর একটা আস্ত ইতিহাস।

আর দুলাল সিনেমা হল? ওটা তো ছিল ফেনীর টাইটানিক। স্টেশন রোডের এই হলটার বয়স হয়েছিল প্রায় সত্তর বছর। ১৯৫২ সালে ক্রীড়া সংগঠক খায়রুল এছাক মিয়া তার ছেলে দুলালের নামে এটা চালু করেন। আমরা যখন একটু আধটু বুঝি, তখনো দুলাল হল সগৌরবে চলছে। স্টেশন রোড দিয়ে যাওয়ার সময় হলের বাইরে রিকশার জটলা আর বাদাম বিক্রেতাদের হাঁকডাক দেখলেই বোঝা যেত ভেতরে ম্যাজিক চলছে।

বড়দের মুখে শুনতাম, আশির আর নব্বইয়ের দশকে যখন বেদের মেয়ে জোসনা কিংবা সালমান শাহ-শাবনূরের কোনো ছবি আসত, তখন নাকি ফেনী তো দূর, নোয়াখালী, কুমিল্লা আর চট্টগ্রাম থেকেও মানুষ ট্রেনে-বাসে করে দুলাল হলে আসত। এক একটা শো-তে ৭০০-৮০০ টিকিট বিক্রি হতো। টিকিট না পেয়ে জানালার কাচ ভেঙে ফেলার ঘটনাও নাকি ঘটেছে! দর্শক সামলাতে লাঠিহাতে পুলিশ ডাকতে হতো মালিকপক্ষকে। তখনকার দিনে  একটা ভিআইপি টিকিট কেটে ভেতরে ঢোকা মানে ছিল সমাজের বিশাল এলিট কিছু একটা হয়ে যাওয়া। ভেতরে ঝকঝকে পরিবেশ, আরামদায়ক আসন আর ঠান্ডা বাতাস।

মালিকদের একজন একবার নাকি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, নব্বইয়ের দশকে শহরের চারটা হলে প্রতিদিন নাকি অন্তত ১০ হাজার দর্শক সিনেমা দেখত! ভাবুন একবার, একটা ছোট মফস্বল শহরে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের মেলা বসত কেবল সিনেমা দেখার জন্য।

আমাদের চোখের সামনেই সেই দুলাল হলের জৌলুস আস্তে আস্তে ম্লান হতে লাগল। ২০১০ বা ১৫ সালের পর ওদিক দিয়ে গেলে দেখতাম, হলের সামনে আর সেই চেনা ভিড়টা নেই। দু-চারজন অলস মানুষ দাঁড়িয়ে পোস্টার দেখছে। ম্যানেজার আর কর্মচারীদের মুখে রাজ্যের অন্ধকার। শেষে করোনা মহামারী এসে কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দিল। টানা লোকসান, কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারা, সব মিলিয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে হলটা চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।

তারপর এল সেই দিন, ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ফেসবুকে যখন দেখলাম দুলাল হলের সেই ঐতিহ্যবাহী দেয়ালটা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, বুকটা কেমন যেন ফাঁকা হয়ে গেল। আমাদের শৈশবের চেনা স্টেশন রোডের সেই চেনা অবয়বটা এক নিমেষে ধুলোয় মিশে গেল। শোনা যাচ্ছে ওখানে একটা বহুতল ভবন হবে, হয়তো আধুনিক সিনেপ্লেক্সও থাকবে। কিন্তু সেই যে ৭০০ মানুষের একসাথে তালি দেওয়া, শিস বাজানো, আর ইন্টারভ্যালের সময় হুড়মুড় করে সিঙ্গাড়া-চা খাওয়ার জন্য ছুটে যাওয়া, সেই যৌথ কোলাহল কি আর কোনোদিন আধুনিক কাচের দেয়ালের সিনেপ্লেক্সে ফিরে আসবে?

কখনোই না।

কানন, সুরত মহল আর দুলালের গল্প তো হলো, কিন্তু ফেনীর সিনেমা সংস্কৃতির মানচিত্রটা শুধু শহরের এই তিনটে হলের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল না। শহরের আরেক মাথায় একাডেমি রোডে ছিল বিলাসী সিনেমা হল। আশির দশকের শেষে বা নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নূর মিয়া নামের এক ভদ্রলোক এটি চালু করেছিলেন।

আমাদের চাচারা বলতেন, বিলাসী নাকি দুলাল বা সুরত মহলের মতো অতটা ‘প্রিমিয়াম’ বা বনেদি ছিল না। সেখানে শহরের একটু খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, রিকশাচালক, কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড় থাকত বেশি। তবে সিনেমার উত্তেজনা সেখানে কম ছিল না মোটেও। নূর মিয়ার মৃত্যুর পর ওনার ছেলেরা হলটি স্থানীয় কমিশনার ওমর ফারুকের কাছে ভাড়া দেন। কিন্তু ২০০২ সালের দিকে, দর্শক সংকটের কারণে লোকসান সামলাতে না পেরে ভাড়াটে হলটি ছেড়ে দেন। এরপর আর কখনোই বিলাসীর প্রজেক্টর চলেনি। আমাদের জ্ঞান হওয়ার আগেই বিলাসীর মূল ভবন ভেঙে ফেলা হয়। আজ একাডেমি রোডের সেই ভিড়ভাট্টা দেখলে বোঝার উপায় নেই যে, এখানেও কোনো এককালে রুপালি পর্দার আলোয় মানুষের চোখ চকচক করে উঠত।

শহরের বাইরে আমাদের উপজেলার দিকটায় ছিল আরও দুটো হল, ফুলগাজীর বিউটি আর দাগনভূঞার ঝর্ণা। এই হল দুটো ছিল গ্রামীণ বিনোদনের একমাত্র ভরসা। তখন তো আর গ্রামে গ্রামে এত শত ডিস লাইনের সংযোগ বা ইন্টারনেট ছিল না। বিশেষ করে দুই ঈদ বা পূজার সময় দূর গ্রাম থেকে পুরো পরিবার নিয়ে গরুর গাড়ি কিংবা রিকশা সাজিয়ে মানুষ এই উপজেলা হলের দিকে আসত। বড়দের মুখে শুনেছি, ধান কাটার সিজন শেষে কৃষকদের পকেটে যখন টাকা আসত, তখন বিউটি আর ঝর্ণা হলের টিকেট কাটার ধুম পড়ে যেত। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পেরোতেই প্রযুক্তি আর মানুষের রুচির যে দ্রুত বদল হতে শুরু করল, তার ধাক্কা শহরের আগে লেগেছিল এই মফস্বলের হলগুলোতে। লোকসান গুনতে গুনতে এই দুটো হলও নিঃশব্দে একসময় হারিয়ে গেল, যেন কেউ মনেও রাখল না।

ফেনীর এই সবগুলো সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার পেছনে মানুষ অনেক কারণ দেখায়। কেউ বলে ভালো ছবির অভাব, কেউ বলে হলগুলোর নোংরা পরিবেশ, ডিস লাইন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব কিংবা মোবাইলের স্ক্রিন। এগুলো তো বটেই। এই যে আমরা ঘরের কোণে বসে এসি ছেড়ে চরকি বা নেটফ্লিক্স-এ দুনিয়ার সব সিনেমা আঙুলের ডগায় পেয়ে যাচ্ছি, একে বলে আকাশ সংস্কৃতি। এই আকাশ সংস্কৃতির তাণ্ডবে মানুষের ঘরের বাইরের বিনোদনটাই তো মরে গেল।

তার ওপর যোগ হয়েছিল শহরের জমির দামের আকাশচুম্বী বৃদ্ধি। হলের মালিকেরা দেখলেন, বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে, কর্মচারীদের বেতন আর বিদ্যুতের বিল পকেট থেকে টেনে হল বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে এগুলো ভেঙে বহুতল মার্কেট বা অ্যাপার্টমেন্ট বানালে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। ব্যবসায়িক দিক থেকে ওনারা হয়তো ভুল করেননি, কিন্তু দিনশেষে একটা শহরের অপূরণীয় সাংস্কৃতিক ক্ষতি হয়ে গেল।

আজ যখন আমি ঢাকা থেকে বা কর্মক্ষেত্র থেকে ফেনীতে নিজের বাড়ি ফিরি, রিকশায় চড়ে চেনা রাস্তাগুলো দিয়ে যাওয়ার সময় মনের অজান্তেই চোখ দুটো পুরনো হলের জায়গাগুলো খোঁজে। জিরো পয়েন্টে গেলে সুরত মহলের জায়গায় ‘ফেনী সুপার মার্কেট’ দেখি, স্টেশন রোডে গেলে দেখি দুলাল হলের শূন্য কঙ্কাল।

আর আমার নিজের এলাকা মাস্টারপাড়া মোড়ে যখন আসি, রিকশাওয়ালাকে বলি, মামা, কাননের পিছে নামায় দাও। রিকশা থেকে নেমে যখন ওই বন্ধ, সিলগালা হয়ে থাকা কানন হলের দরজার দিকে তাকাই, তখন চোখের সামনে যেন ভেসে ওঠে কোনো এক অলস দুপুর। ইস্কুল পালানো একঝাঁক ছেলে টিকেটের লাইনে দাঁড়িয়ে চিল্লাচিল্লি করছে, হলের বাইরে ছাঁচিপান আর চিনেবাদাম বিক্রি হচ্ছে, আর ভেতরের অন্ধকার হলরুমে প্রজেক্টরের একটা তীব্র আলোর রেখা রুপালি পর্দায় গিয়ে আছড়ে পড়ছে।

আমরা যারা নব্বইয়ের শেষের দিকে জন্মেছি, আমরা হয়তো ফেনীর সিনেমা হলের স্বর্ণযুগ দেখিনি। কিন্তু এই যে আজ রিকশায় চড়ে ‘কাননের পিছে’ যাওয়ার ব্যাকুলতা—এটাই তো আমাদের মতো অলিখিত লেখকদের মনে এই মরে যাওয়া হলগুলোর প্রতি এক শেষ এবং অবিনশ্বর শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফেনীর রূপালি পর্দার সেই সোনালী দিনগুলো হয়তো আর কোনোদিন ফিরবে না, কিন্তু আমাদের স্মৃতির রিকশাটা চিরকাল ওই ‘কাননের পিছেই’ থমকে দাঁড়িয়ে থাকবে।

২৫ পঠিত ... ৮ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top